ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৬ জুলাই ২০২০ ২২ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৬ জুলাই ২০২০

সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৬শ ছাড়াল
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ৩১ মে, ২০২০, ১১:০৫ পিএম আপডেট: ৩১.০৫.২০২০ ১:০২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 9

দেশে করোনাভাইরাসে আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন মৃত্যু হয়েছিল ২৩ জনের। এক দিনে ২৮ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু আগেও একবার ঘটেছিল। ৫০টি ল্যাবে ৯ হাজার ৯৮৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৬৪ জন। আগের দিন ৪৯টি ল্যাবে ১১ হাজার ৩০১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। অর্থাৎ শনিবার নমুনা পরীক্ষা দেড় হাজারের মতো কম হয়েছে। শুক্রবার এক দিনে রেকর্ড ২ হাজার ৫২৩ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সেই হিসাবে কম নমুনা পরীক্ষায় নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৮। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬১০। শনিবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সর্বশেষ এই তথ্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে গত কয়েকদিন করোনাভাইরাস সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও সরকার সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আজ থেকে খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী বহন করার শর্তে চালু হচ্ছে গণপরিবহনও। এদিকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সিরা। আর সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে পঞ্চাশোর্ধ্বরা। লিঙ্গভেদে অনেক বেশি আক্রান্ত পুরুষ। আক্রান্তদের বয়সের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ৩ শতাংশ ১ থেকে ১০ বছর বয়সি, ৭ শতাংশ ১১ থেকে ২০ বছর বয়সি, ২৮ শতাংশ ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সি, ২৭ শতাংশ ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সি, ১৭ শতাংশ ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সি, ১১ শতাংশ ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সি এবং ৭ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এর থেকে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিই ৫৫ শতাংশ। আর লিঙ্গভেদে আক্রান্তদের পুরুষ ৭১ শতাংশ এবং নারী ২৯ শতাংশ।
মারা যাওয়া রোগীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২ শতাংশের বয়স ১ থেকে ১০ বছর, ৩ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর, ৭ শতাংশের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, ৯ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ২৭ শতাংশের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর এবং ৪২ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এর থেকে দেখা যায়, মৃতদের ৬৯ শতাংশেরই বয়স ৫০ বছরের বেশি। আর লিঙ্গভেদে মৃতদের ৭৫ শতাংশ পুরুষ ও ২৫ শতাংশ নারী।
গতকাল স্বাস্থ্য বুলিটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ এবং তিনজন নারী। মৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এছাড়া ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৪ জন মারা যান। এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, মৃতদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর ১০ জন, ঢাকা মহানগরীর বাইরে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকার ১ জন, নারায়ণগঞ্জের ১ জন, মুন্সীগঞ্জের ১ জন, গাজীপুরের ১ জন, ফরিদপুরের ২ জন, নরসিংদীর ২ জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার ২ জন, সিটি করপোরেশনের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় ১ জন, কক্সবাজারের ২ জন, কুমিল্লার ২ জন, রংপুরের ১ জন, পঞ্চগড়ের ১ জন ও সিলেটের ১ জন।
তিনি বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৩৬০ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৩৭৫ জন সুস্থ হয়ে উঠল। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০২ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এখন পর্যন্ত দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪টি।
নাসিমা সুলতানা জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৩৬০ জন। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছে নয় হাজার ৩৭৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছে ৪৬৯ জন। মোট আইসোলেশনে আছে পাঁচ হাজার ৫২৯ জন। আর হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে এসেছে দুই হাজার ২২০ জন। এ পর্যন্ত মোট কোয়ারেন্টাইনে এসেছে দুই লাখ ৮২ হাজার ২২৫ জন। ছাড়পত্র নিয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ৯৪৯ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছে ৬০ হাজার ২৭৬ জন। সারা দেশে ৬৪ জেলায় ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত। তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের সেবা দেওয়া যাবে ৩১ হাজার ৯৮১ জনকে।
তিনি আরও জানান, সারা দেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৪টি। ঢাকার ভেতরে রয়েছে সাত হাজার ২৫০টি। ঢাকা সিটির বাইরে শয্যা রয়েছে ছয় হাজার ৩০০টি। আইসিইউ আছে ৩৯৯টি, ডায়ালাইসিস ইউনিট রয়েছে ১১২টি। অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
শান্ত-মারিয়াম ও সুন্দরবন কুরিয়ারের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু : শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমামুল কবীর শান্ত কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার সকাল ৮টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মারা যান। ইমামুল কবীর শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।
সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান পুলক বলেন, সকাল ৮টায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা খুলে দিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কোভিডের লক্ষণ-উপসর্গ থাকায় তাকে প্রথমে ল্যাবএইড ও পরবর্তীতে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৭ মে রাত ১০টায় তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]