ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

যে কারণে সাধারণ ছুটি আর বাড়ানো হলো না
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: রোববার, ৩১ মে, ২০২০, ১১:০৫ পিএম আপডেট: ৩১.০৫.২০২০ ১:০৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 88

২৬ মার্চ থেকে একটানা ছুটি চলল একেবারে ৩০ মে পর্যন্ত। যেখানে শনাক্ত হার বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর হার। এ অবস্থায় কেন আর সাধারণ ছুটি বাড়ানো হলো না, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শরণাপন্ন হতে হয়েছে সরকারের বিভিন্ন মহলের কাছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ ছুটি দিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে মানুষকে আর ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশ অর্থনৈতিক হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। করোনা মোকাবিলা করার জন্য এখনও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তাহলে উপায় একটি, জীবন আর জীবিকা দুটোই হাত ধরাধরি করে চলবে। আর চলতে গেলে অর্থনীতির চাকা আস্তে আস্তে চালু করা প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সাধারণ ছুটি নিয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারকের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বর্তমান  প্রেক্ষাপট তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যে কারণে ঈদের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের এই মহামারি সহসা দূর হবে না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না। যতদিন না কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন  করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে। জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।’
সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার সাধারণ ছুটি প্রলম্বিত করার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে অনেকেই ছুটিকে আর দীর্ঘায়িত না করার ব্যাপারে মতামত দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে করোনভাইরাস মোকাবিলা করতে হবে। জনগণকে আরও সচেতন করতে সরকারের বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেÑ মাস্ক পড়া বাধ্যবাধকতামূলক করতে হবে। এর ব্যত্যয় যারা করবেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে। এর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব রাখার ব্যাপারে জিরো টরালেন্স নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিপালনের সুপারিশ করেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবিলার জন্য কি করা যায়, তা তিনি প্রতিনিয়ত ভাবছেন। একই সঙ্গে বিশে^র উন্নত দেশগুলো কি করছে, তা খেয়াল করছেন। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে শুরু গবেষকদের গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বাংলাদেশ যেন কোনোভাবে অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ে না যায় সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বেশ ভাবনার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যে কারণে অর্থনৈতিক সচল রাখতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানাসহ বেশ কিছু কারখানা খোলার অনুমতি দেন। এর পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা আস্তে আস্তে সচল করতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দোকানপাট খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি জানান, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতনতা, সতর্কতা অবলম্বন করে মানুষকে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক অবস্থায়  ফিরিয়ে আনার পক্ষে। শুধু তাই নয়, তিনি দেশের একজন অভিভাবক হিসেবে সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করছেন। তিনি বর্তমান পরিবেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। বাঁচাতে হবে দেশের অর্থনীতিকে। জীবন আর জীবিকা এই দুটোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে করোনা মোকাবিলা করতে চান।
এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্য এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনেকে বলছেন সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু করতে গিয়ে দেশে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু আমরা যদি সবাই যার যার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আপাতত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সতর্কতা অবলম্বন করে মানুষকে চলতে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। তিনি আরও জানান, এই ভাইরাসের প্রতিরোধ হচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যে কারণে পুষ্টিমান খাবারের প্রতি জনগণকে বারবার দৃষ্টি আর্কষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারের সব অফিস সীমিত পরিসরে হলেও চালু হচ্ছে। এতদিন বন্ধ থাকার ফলে অনেকে তাদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এই করোনাভাইরাসের মধ্যেও সরকার আগামী ১১ জুন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই বাজেটে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই বিবেচনায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ সরকারি অফিস খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ছুটি বাড়ানো হলে এই বাজেট পাশের ক্ষেত্রে অনেকটা ব্যাহত হতো। আর গণপরিবহন চালু করার বিষয়টি এক ধরনের মানুষের মধ্যে জীবনযাপনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার একটি অংশ বলে জানা গেছে।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]