ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০ ৩০ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০

মসজিদে গমনের আদব ও সুন্নত
মাওলানা মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 55

মসজিদ আল্লাহর ঘর। মুমিন মাত্রই অন্তরে মসজিদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অনুভব করেন। মিনার থেকে আজানের আওয়াজ ভেসে এলেই মুমিন বান্দা ছুটে যান মসজিদের দিকে। সাহাবাগণ আজান শুনলে কাজ অসমাপ্ত রেখেই মসজিদের পথে পা বাড়াতেন।
আমরা প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো মসজিদে আদায় করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। মসজিদে গমন ও সে সম্পর্কিত কিছু আদব ও সুন্নতের কথা তুলে ধরা হলো।
অজু করে মসজিদে যাওয়া : পাক-পবিত্রতা ইসলামের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ বিধান। নামাজের জন্য পাক-পবিত্রতা জরুরি। তবে কেউ যদি মসজিদে গমনের জন্য পাক-পবিত্রতা অবলম্বন করে তবে এতেও মিলবে সওয়াব। অনেকেই মসজিদে গিয়ে অজু করে নামাজ আদায় করেন। তবে মসজিদে গিয়ে অজু করা আর বাড়ি থেকে অজু করে মসজিদে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে অজু করে আল্লাহর ঘরের দিকে এই উদ্দেশ্যে যাত্রা করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত কোনো ফরজ ইবাদত (নামাজ) আদায় করবে, তাহলে তার কৃত প্রতিটি দুই পদক্ষেপের মধ্যে একটিতে একটি করে গুনাহ মিটাবে এবং অপরটিতে একটি করে মর্যাদা উন্নত করবে।’ (মুসলিম : ৬৬৬, ইবনে মাজাহ : ৭৭৪)
আগে আগে মসজিদে যাওয়া : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আজান ও প্রথম কাতারে কী পরিমাণ সওয়াব ও পুণ্য রয়েছে তা যদি লোকেরা জানত, আর লটারি করা ছাড়া এই দুই স্থান না পেত, তবে তারা লটারি করে হলেও প্রথম কাতার দখল করত। অনুরূপভাবে যদি তারা আগে আগে মসজিদে আসার সওয়াব ও পুণ্য সম্পর্কে অবগতি লাভ করত, তবে অতি দ্রুতগতিতে তারা সেদিকে অগ্রসর হতো। ঠিক তেমনিভাবে তারা
যদি অন্ধকারের ফজরের নামাজে কত পরিমাণ
সওয়াব ও পুণ্য তা উপলব্ধি করতে পারত, তবে হাতে-পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাজির হতো।’ (বুখারি : ৬১৫)
পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া : মসজিদের দিকে কদম ফেলা আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। বান্দা এর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে অনেক উঁচু মর্যাদা অর্জন করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করব না যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা পাপরাশি ক্ষমা করেন এবং মর্যাদা উঁচু করেন? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, জি আল্লাহর রাসূল! তখন মহানবী (সা.) বললেন, কষ্টের সময় ভালোভাবে অজু করা এবং অধিক পরিমাণে মসজিদ অভিমুখে পা ফেলা।’ (মুসলিম : ২৫১)
প্রবেশের সময় দোয়া পড়া : মসজিদে প্রবেশের সময় আল্লাহর কাছে রহমতের দোয়া করা। হজরত আবু উসাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন যেন সে বলেÑ ‘আল্লাহুম্মাফতাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিকা’ অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন’; আর যখন বের হবে তখন যেন বলেÑ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা’ অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।’ (নাসায়ি : ৭২৯)
ডান পা আগে প্রবেশ করানো : মসজিদে প্রবেশের সময় আদবের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। পবিত্র যে কাজ ডান দিক দিয়ে করা নবীজির শিক্ষা। মসজিদে প্রবেশের সময়ও ডান পা আগে প্রবেশ করানো। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘এটাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত যে, তুমি ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করবে এবং বাম পা দিয়ে তা হতে বের হবে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম : ৭৯১)
প্রবেশের পর দুই রাকাত নামাজ : আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করে প্রথম কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। এই নামাজকে তাহিয়াতুল মাসজিদ বলে। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে তখন সে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তারপর বসে।’ (বুখারি : ১১৭২)
ধীরস্থিরে জামাতে শরিক হওয়া : নামাজের ইকামত হলে তাড়াহুড়ো না করা। ধীরস্থিরে নামাজে শরিক হওয়া। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন তোমরা ইকামত শুনবে তখন নামাজ আদায়ের জন্য চলে যাবে। তোমরা পথ চলার ক্ষেত্রে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করবে। তাড়াহুড়া করবে না। এরপর মসজিদে যে কয় রাকাত পাবে তা আদায় করবে, আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করবে।’ (বুখারি : ৬৩৬)







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]