ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

এসএসসি পরীক্ষার ফল
অভিনন্দন সবাইকে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রতিষ্ঠার অবসান হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে এসএসসির পরীক্ষার ফল। সময়ের আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এবারে পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ জন। যাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডের দাখিলে পাসের হার ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। সবমিলিয়ে এবারে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। চলতি বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে আমাদের অভিনন্দন।
স্বাভাবিক সময়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ষাট দিনের মাঝে ফল প্রকাশ হয়। কিন্তু এবারে বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারনে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে প্রকাশ পেলো এসএসসির পরীক্ষার ফল। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এলোমেলো করে দিয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্থগিত রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এই পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। করোনা সংক্রমন শুরুর আগেই এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং পরীক্ষকদের খাতা দেখা সম্পন্ন হওয়ায় ফল প্রকাশ সহজ হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, এবারের পাশের হার এবং জিপিএ-৫ দুটিই বেড়েছে। একইসঙ্গে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাশ করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে একইসঙ্গে যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাও বেদনার। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনও বটে। এসএসসি পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর
অকৃতকার্য হওয়া আমাদের জন্য বড় অপচয়।
বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে, শিক্ষার ধারাবাহিক উন্নতির জন্য গ্রহন করেছে নানা পদক্ষেপ। দেশে উচ্চ শিক্ষার প্রসার ঘটাতে বিভিন্ন স্থানে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে একযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর সবই করা হচ্ছে শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে। বর্তমান পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার ধারাকে এগিয়ে নিতে। সরকারের আন্তরিকতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বছরের শুরুতে নতুন বই তুলে দেওয়া এবং শিক্ষাপঞ্জি শুরু হওয়ায় পাঠের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের, কমে গেছে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার হারও। একইভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদানের ফলে অভিভাবকদেরও সন্তানের পড়ালেখার বিষয়ে মনোযোগী করে তুলেছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
উচ্চশিক্ষার ভিত তৈরি হয় মাধ্যমিক পর্যায়ে। তাই শিক্ষার এ পর্যায়ের যে কোন গলদ যেমন আগামীর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে তেমনি এ পর্যায়ের শক্ত ভিত আমাদের জন্য বয়ে আনবে শুভফল। তাই শিক্ষার মান ধরে রাখতে সবাইকে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকা প্রয়োজন। আমাদেরকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আজ আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছি। সামনের দিনগুলোতে আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রয়োজনেই আমাদেরকে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনে আমাদেরকে বিশ্ববাজার ধরে রাখতে পণ্যের বহুমুখীকরণ, আইটিনির্ভর ব্যবসা, কৃষি ইত্যাদির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য দরকার দক্ষ জনশক্তি। যা মেটাতে পারে শুধুমাত্র যথাযথ শিক্ষা এবং এ বিষয়ে সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]