ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০ ৩০ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০

কন্যাসন্তান আল্লাহর রহমত
আশিকুজ্জামান নাঈম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 81

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুই ভাগে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষ আর নারী। এভাবে সৃষ্টি করা আল্লাহ তায়ালার হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। তবে আল্লাহ তায়ালা কাউকে শুধু কন্যাসন্তানই দান করেন। আবার কাউকে পুত্রসন্তান। কাউকে আবার পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। কাউকে কাউকে আবার কোনো সন্তানই দান করেন না। এ বণ্টনও আল্লাহ তায়ালার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ভিত্তিতেই হয়। এদিকে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছে কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছে পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছে বন্ধ্যা করে দেন।’ (সুরা শুরা, আয়াত : ৪৯-৫০)
কন্যাসন্তানও আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত। পুত্রসন্তানও আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত। পুত্রসন্তানের যেমন প্রয়োজন আছে তেমনি কন্যাসন্তানেরও প্রয়োজন আছে। পুরুষ নারীর মুখাপেক্ষী, নারীও পুরুষের মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তায়ালা স্বীয় বিশেষ হিকমতে পৃথিবীতে এমন এক জীবনব্যবস্থা দান করেছেন, যেখানে উভয়েরই প্রয়োজন রয়েছে। উভয়ের সৃষ্টি ও জন্মগ্রহণ আল্লাহ তায়ালার বিশেষ হিকমত ও কল্যাণ-জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এ ব্যপারে আমাদের সমাজের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। কারো পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, তখন খুব আনন্দ প্রকাশ করে। আগ্রহের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদেরকে খবর জানান। জাঁকজমক করে আকিকা অনুষ্ঠান করেন। আর যখন কারো কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে, তখন তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। কিছু মানুষ তো কন্যাসন্তান জন্ম নিলে কারো সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই করে না। তার অবস্থা দেখলে মনে হয় তার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। তার জন্য এক মস্ত বড় বোঝা হয়ে যায়। এসব জাহেলি যুগের কাফেরদের বৈশিষ্ট্য। জাহেলি যুগের কাফেরদের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনোস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়, সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে, সে চিন্তা করে যে, হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে দেবে। লক্ষ করো, সে কত নিকৃষ্ট সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)
কন্যাসন্তান জন্মের সংবাদ প্রকৃত পক্ষে সুসংবাদ আয়াতে এদিকেও ইঙ্গিত দেওয়া আছে। কন্যার লালনপালন জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছে। আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি : ১৯১২)
কন্যাসন্তান জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তিকে কন্যাসন্তানের লালনপালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে সেই কন্যাসন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় হবে। (তিরমিজি : ১৯১৩)। অন্য হাদিসে আসছে, যে ব্যক্তি দুজন কন্যাসন্তানকে লালনপালন ও দেখাশোনা করল সে এবং আমি জান্নাতে এরূপ একসঙ্গে প্রবেশ করব যেরূপ এ দুটি আঙুল। তিনি নিজের দুই আঙুল মিলিয়ে দেখালেন। (তিরমিজি : ১৯১৪)
হাদিসের বর্ণনাগুলো থেকে বুঝে আসে, কন্যাসন্তান প্রতিপালনের ফজিলত তিনটিÑ ১. আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। ২. জান্নাত দান করবেন। ৩. আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে রাসুলের (সা.) সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। সত্যিকারের মুমিনের জন্য কন্যাসন্তান রহমত। আর মুমিন সর্বদা আল্লাহর রহমতের যথাযথ কদর করে থাকেন। অতএব আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কথাগুলো বুঝে বাস্তবে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]