ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ১১ জুলাই ২০২০ ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ১১ জুলাই ২০২০

বিরল প্রজাতির গেছো চড়ইয়ের উল্লাস
শাহ মো. নাজমুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ১১:১৮ পিএম আপডেট: ০৩.০৬.২০২০ ১২:৩৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 28

বিরল প্রজাতির গেছো চড়ইয়ের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকা। করোনাভাইরাসের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থান বাসস্ট্যান্ড এলাকাও অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। তেমন মানুষজনের সমাগম না থাকায় এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ এলাকা পরিণত হয়েছে নীরব-নিঝুম পুরীতে। তবে বাস-ট্রাক বা সাধারণ মানুষের কোলাহলের শব্দ না থাকলেও পুরো এলাকাই এখন মুখর হয়ে রয়েছে হাজারো গেছো চড়ইয়ের কিচিরমিচির মিষ্টি সুর আর ওড়াউড়ির উল্লাসে। করোনা পরিস্থিতির আগেও ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নানা রকম যানবাহনের শব্দের মধ্যেও শোনা যেত কিচিরমিচির ডাক। তবে পাখির সমাগম এত ছিল না। আর বিরল প্রজাতির গেছো চড়ই তো দেখাই যেত না। এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। এখন বাসস্ট্যান্ড এলাকা যেন গেছো চড়ইয়ের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। নানা প্রজাতির হাজারো পাখির আসর বসেছে গাছের ডালে ডালে। এর মধ্যে বিরল প্রজাতির গেছো চড়ইয়ের সমাগম ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। এসব পাখির মিষ্টি সুরেলা শব্দ অনুসরণ করে তাকালেই দেখা যায় বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তার পাশের বিশাল বিশাল গাছের ডালে ডালে হাজারো পাখির সমাগম। এসব পাখি যেন সুরেলা সঙ্গীতের এক স্বর্গীয় আসর বসিয়েছে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।
গেছো চড়ই বা ইউরেশিয়ান ট্রি স্পারো নামে এ পাখির মাথার দিকে না তাকালে সাধারণ পরিবেশে বাসা-বাড়িতে বাস করা পাতি চড়ইয়ের সঙ্গে এদের এক করে ফেলতে পারে অনেকে। গেছো চড়ইয়ের চেহারাও হুবহু পাতি চড়ই অর্থাৎ বাসা-বাড়ির আশপাশে যে সব চড়ই বসবাস করে ওদের মতোই। তবে গেছো চড়ইয়ের গালে একটি কালো দাগ বা বিউটি স্পটের জন্য এদের আলাদা করে চিনতে পারা যায়। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা গাছে বসবাস করে। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের গাছের ডালে এবং বৈদ্যুতিক তারে বসে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার গেছো চড়ইকে এখন দেখা যায়। এ এক বিরল দৃশ্য, যা অন্য জেলাগুলোতে দেখা যায় না। শিকারি ও বাজপাখির আক্রমণ থেকে বাঁচতেই হাজার হাজার গেছো চড়ই একত্রে দলবেঁধে চলে। কখনও কখনও গেছো চড়ইয়ের একেকটি দলে ২০ হাজার পর্যন্ত সদস্য থাকে। ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলেই দেখা মিলবে এদের।
মাহাবুব হোসেন নামে বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক পান দোকানদার জানান, সকালে এসে দোকান খুলি। লোকজন আর আগের মতো আসে না। মন খারাপ থাকলেও কাজের ফাঁকে ফাঁকে সারাটা দিন গেছো চড়ইয়ের কিচিরমিচির খেলা ও মারামারি দেখি। এতে মনটা ভালো হয়ে যায়। সন্ধ্যায় যখন বাসায় ফিরি তখন অবশ্য তারা আর তারে থাকে না। রাস্তার ধারের গাছগুলোর ডালে গিয়ে বসে।
প্রবাল চৌধুরী নামে এক পথচারী জানালেন, চড়ইপাখি আমি দেখেছি। তবে এভাবে হাজারো চড়ইপাখিকে দলবেঁধে বিদ্যুতের তারে বসে থাকতে কখনও দেখিনি। এ ধরনের চড়ই অন্য সাধারণ চড়ইপাখিদের মতো নয়। এদের দেখতে খুব ভালো লাগে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পাখিপ্রেমিক রেজাউল হাফিজ রাহী জানান, এসব গেছো চড়ই বা ট্রি স্পারো জনবসতির মধ্যে থাকতে অনেক বেশি ভালোবাসে। মোটামুটি আমাদের এ অঞ্চলেই এদের বেশি দেখা যায়। যেহেতু এই পাখিগুলো জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে, তাই কেউ যেন এদের শিকার করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশের সুরক্ষায় এসব গেছো চড়ইয়ের অনেক ভ‚মিকা রয়েছে। আর প্রাকৃতিক দৃশ্যমালায় এরা যে নান্দনিকতার সৃষ্টি করে তার তো কোনো তুলনাই নেই।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]