ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ১১ জুলাই ২০২০ ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ১১ জুলাই ২০২০

নড়াইল গণপূর্ত অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ
দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২০, ১১:১৮ পিএম আপডেট: ০৩.০৬.২০২০ ১২:৩০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

নড়াইল গণপূর্ত অফিসের ঠিকাদারি কাজের তালিকা ও চুক্তিপত্র দেখানোর দাবিতে অফিস কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল ও সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত সোমবার রাত ১০টার দিকে গণপূর্ত অফিসের উচ্চমান সহকারী হাবিবুর রহমান বিশ্বাস নড়াইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে আশরাফুজ্জামান মুকুল ও নিলয় রায় বাঁধন গণপূর্ত অফিস কক্ষ ভাঙচুরসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টকরণ ও প্রাণনাশের হুমকিসহ ত্রাস সৃষ্টি করেন।
ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা গত সোমবার দুপুরে প্রথমে গণপূর্ত অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজের কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা তালিকাভুক্ত ঠিকাদার না হওয়া সত্তে¡ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সব কাজের তালিকা ও চুক্তিপত্র তাদেও দেখাতে বলেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের দুই নেতা গণপূর্ত অফিসের উচ্চমান সহকারী হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের কক্ষে এসে করোনাভাইরাসের সাধারণ ছুটিতে যেসব কাজের চুক্তি হয়েছে, তার ফটোকপি চান। এ ছাড়া তাদের কেন দরপত্র (টেন্ডার) আহŸানের বিষয়ে অবগত করা হয়নি, তা জানতে চান এবং ১০ মিনিটের মধ্যে সব কাগজপত্র দেওয়ার দাবি জানান তারা।
হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, এ সময় তারা গালিগালাজ শুরু করে। প্রথমে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধন চেয়ার তুলে হাবিবুর রহমানের মাথায় আঘাত করতে যান। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে চেয়ারের আঘাতে টেবিলের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ে। এ ছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান মুকুল অফিসের টেলিফোন সেট, কলমদানি ও চেয়ার ভেঙে ফেলেন এবং ফাইলপত্র ছুড়ে ফেলে দেন। এ ঘটনায় টেবিলের কাচের আঘাতে অফিসের উচ্চমান সহকারী হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের একটি আঙ্গুল কেটে গেছে।
একপর্যায়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দুই নেতা দাফতরিক নথিপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেন গণপূর্ত অফিসের উচ্চমান সহকারী হাবিবুর রহমান। এ সময় তারা হাবিবুর রহমানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে বাসায় যাওয়ার পথে হাবিবুর রহমান বিশ্বাসকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে মামলা করা হবে।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অভিযুক্ত আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, আমরা কোনো ভাঙচুর করিনি। যদি কোনো ভাঙচুর করি, তাহলে অফিসের সিসি টিভি দেখে প্রমাণ করা হোক। অবশ্য ছাত্রলীগের পদে থাকাকলীন আশরাফুজ্জমান মুকুল আরটিভির সাংবাদিক মোস্তফা কামালকে মারধর ও ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ সড়কে এক যুবককে অপহরণসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে মুকুলের বিরুদ্ধে।  
অন্যদিকে গণপূর্ত অফিস ভাঙচুরের বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, সোমবার রাত ১০টার দিকে আশরাফুজ্জামান মুকুল ও নিলয় রায় বাঁধনের বিরুদ্ধে জিডি পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]