ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

বৈশ্বিক মহামারীতে ওজোন স্তরের বৈপ্লবিক পরিবর্তন
সৈয়দ ফারুক হোসেন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 12

পৃথিবীর বায়ুমÐলের উপরিভাগে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন গ্যাসের একটা পাতলা চাদর আছে।  এই চাদরের কাজ গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের আলো বা তাপ দিব্যি ঢুকতে পারে এই চাদর ভেদ করে। শুধু আটকে যায় সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি। মহাজাগতিক রশ্মির কু-নজর থেকেও পৃথিবীকে বাঁচায় ওজোনের এই পাতলা পর্দা। এই ওজন স্তর আসলে পৃথিবীর এক শক্তিশালী বর্ম। এমন এক সুরক্ষা কবচ যা পৃথিবীকে প্রাণঘাতী মহাজাগতিক রশ্মিগুলি থেকে বাঁচিয়ে চলেছে। কিন্তু মানুষেরই তৈরি দূষণ জলবায়ুতে এমন বদল আনছে যে এই ওজোনের চাদর আজ ক্ষতির মুখে। দক্ষিণ গোলার্ধে ওজোনের পর্দায় ক্ষত তো হয়েছেই, উত্তর গোলার্ধের ওপরেও ওজোন স্তর ক্ষতির মুখে।
বায়ুমÐলের ওজোন স্তরের এই ক্ষত পৃথিবীবাসীর চিন্তা বাড়িয়েছিল। তবে এবার সুখবর দিল জাতিসংঘ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওজোন স্তরের সেই বিরাট ক্ষত নিজে থেকেই সেরে উঠছে। বিশ্ব আবহাওয়া দফতর তথা ডবলিউএমও জানিয়েছে, ওজোন স্তরের সেই ছিদ্র ভরাট হয়ে গিয়েছে, তাই আর ভয়ের কিছু নেই। ২০১১ সালেও একবার এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সেবারও ওজোন স্তরে বড়সড় ছিদ্র দেখা দিয়েছিল। যা নিয়ে বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
আজ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্কে কাবু বিশ্ব। গোটা বিশ্বকে ক্রমশ গ্রাস করে নিচ্ছে করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, বাড়ছে মৃত্যু। করোনা মোকাবিলার জন্য গোটা বিশ্বে লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতিতে যানবাহন, কলকারখানা সব বন্ধ। পৃথিবীতে মৃত্যুর তাÐব চলছে এ সময়ে ওজোন স্তরের ক্ষতের বিষয়টি হাড় হিম করে দিয়েছিল বিজ্ঞানীদের। যা দেখা দিয়েছিল উত্তর গোলার্ধের ওপরের ওজোন স্তরে। প্রায় ১০ লাখ বর্গ কিলোমিটারের এই ছিদ্রের কারণে পৃথিবীতে কী মহাসঙ্কট নেমে আসতে চলেছে সে নিয়ে আতঙ্কিত
ছিল বিজ্ঞানীমহলও।
কথায় বলে, পৃথিবী তার নিজের রক্ষার উপায় নিজেই খুঁজে নিতে পারে। হয়েছেও তাই। মারণ ভাইরাসের দাপটের কারণে বিশ্ব জোড়া লকডাউনের সুফল দেখা দিয়েছে এর মধ্যেই। মানুষের তৈরি দূষণ কমার সঙ্গে সঙ্গেই জলবায়ুতে এক আশ্চর্য পরিবর্তন ঘটেছে। ধীরে ধীরে সেরে উঠেছে ওজোন স্তরের সেই বিরাট ছিদ্র। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই পর্যায়ের আগেই থেকে উত্তর গোলার্ধের ওজোন স্তরের এই ক্ষত নজরে আসে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির। বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রায় ১০ লাখ বর্গ কিলোমিটারের এই ছিদ্র ব্যতিক্রমী ঘটনা। এর কারণে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে পৃথিবীর। কোপারনিকাস অ্যাটমসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস এবং কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ওজোন স্তরের এই ক্ষত নিজে থেকে সেরে গেছে। আশঙ্কার আর কোনো কারণ নেই।
ওজোন স্তরে কেন তৈরি হয়েছিল এই বিরাট ক্ষত? আবার এটি সারলইবা কীভাবে? ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ও কোপারনিকাস অ্যাটমসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস জানিয়েছে, ওজোন স্তরে এই ক্ষতের জন্য দায়ী ছিল মানুষের তৈরি দূষণ এবং তার কারণে সৃষ্ট জলবায়ুর পরিবর্তন। বিজ্ঞানীরা জানালেন, শিল্প-কলকারখানা ও আধুনিক জীবনের সুবিধা নিতে গিয়ে ওই পাতলা চাদরটি ফুটো করে ফেলেছে মানুষ। উত্তর ও দক্ষিণ, দুই মেরুতেই ফুটো হয়ে গেছে  ওজোনের স্তর। ওজোন স্তরের বেহাল অবস্থার জন্য দায়ী ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি), ব্রোমিন, ক্লোরিন গ্যাস, মিথাইল ক্লোরোফর্ম, মিথাইল ব্রোমাইড, হাইড্রোব্রোমোফ্লোরোকার্বন, হাইড্রোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদির উৎপাদন ও ব্যবহার। গত কয়েক দশকে বাতাসে এই সব গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে বেড়েছে ওজোন স্তরের ছিদ্রও। যার প্রভাব পড়েছে জীবজগতে। দূষণের ফলে বাড়তে থাকা উষ্ণায়ণ বদল এনেছে জলবায়ুতে। বিজ্ঞানীরা বলছেন ওজোন স্তরের এই ক্ষত মেরামতির আরও একটা কারণ আছে।
উষ্ণ ও শীতল বায়ুর সংঘাতে তৈরি মেরু ঘূর্ণাবর্ত সিএফসি গ্যাসের সঙ্গে মিশে এমন স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক মেঘ তৈরি করে যা ওজোনের পর্দাকে দুর্বল করে দেয়। এই সিএফসি গ্যাসের পরিমাণ কমায় ঘূর্ণাবর্তের ক্ষমতাও অনেক কম। উষ্ণ ও শীতল বায়ুর সংঘাত হলেও তার সঙ্গে রাসায়নিক গ্যাস মিশছে না, ফলে ওজোন স্তরের ক্ষতিও সেভাবে হচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জৈব ও রাসায়নিক দূষণের দাপট কমায় ক্লোরোফ্লুরোকার্বন কম নির্গত হচ্ছে বাতাসে। যার প্রভাব পড়েছে জলবায়ুতেও। ফলে ধীরে ধীরে সেরে উঠেছে ওজোন স্তরের ক্ষত। এই সিএফসি গ্যাসের পরিমাণ কমানোর জন্য ১৯৮৭ সালে গোটা বিশ্ব একসঙ্গে মন্ট্রিয়ল চুক্তি সই করে। সিএফসি-র ব্যবহার বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে প্রায় ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটার পরিমাণ কমেছে ওজোনের ফুটো।
পৃথিবীর বায়ুমÐলের ওপরের স্তরে আছে ওজোনোস্ফিয়ার বা ওজোন স্তর। যা  একটি পর্দার মতো ঘিরে আছে সবুজ পৃথিবীকে। এবং আমাদের পৃথিবীকে সূর্যের ক্ষতিকারক অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে আসছে। কারণ এটি  সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মিকে ভ‚পৃষ্ঠে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে পৃথিবীর বায়ুমÐলে ক্রমবর্ধমান ক্লোরিন পরমাণুর প্রভাবে এই ওজোন স্তর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল।
ক্রমশ পাতলা হয়ে পড়ছিল ওজোন স্তর যাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ওজোন ডিপ্লেশন। ফলে পাতলা হয়ে আসা ওজোন স্তরের স্থানে স্থানে তৈরি হচ্ছে গর্ত সেসব গর্ত দিয়ে সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি সরাসরি ভ‚পৃষ্ঠে এসে পড়ছে। ১৯৮০ সালে প্রথম ধরা পড়ে যে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৮৫ সালে দেখা গেল যে দক্ষিণ গোলার্ধের ওজোন স্তরে বড়সড় একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। ১৯৯০-এর  শেষ দিকে  সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল পৃথিবীর
এই সুরক্ষাকবচ।
স্বাভাবিক অবস্থা থেকে  ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল ওজোন স্তর। কেন ক্ষতি হয়েছিল ওজোন স্তরের (প্রাকৃতিক কারণ:) ওজোন স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যে প্রাকৃতিক কারণগুলো সেগুলো হলো, বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বিভিন্ন আলোক-রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাব প্রভৃতি। তবে প্রকৃতি যেমন ওজোন স্তর ধ্বংস করে তেমনই প্রকৃতি নিজেই সেই ক্ষতিটুকু মেরামত করে দেয়। তাই প্রাকৃতিক কারণগুলি তেমন মারাত্মক নয়। (মনুষ্যসৃষ্ট কারণ:) ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনে মূল দায়ী কিন্তু মানুষ। মানুষ সভ্যতার অমৃত নিয়ে হলাহল ঢেলে দিচ্ছে সেই পরিবেশে, যেখান থেকে সে বাঁচার রসদ নেয়। ওজোন স্তরকে সরাসরি ধ্বংস করছে বায়ুমন্ডলে উড়িয়ে দেওয়া আধুনিক সভ্যতার এই বিষগুলো। বিজ্ঞানীদের মত, পৃথিবীর সুরক্ষা চাদর ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে প্রধান অপরাধী ক্লোরোফ্লুরোকার্বন নামক এই রাসায়নিক যৌগটি ক্লোরোফ্লুরোকার্বনকে পরিবেশে ছাড়ছে  এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রের সার্কিট, ফোম শিল্প, রঙ শিল্প, প্লাস্টিক শিল্প, সুগন্ধী শিল্প, ট্যানারির বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ। কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, যানবাহন, নাইলন শিল্প, নাইট্রাস অক্সাইড। বায়ুমÐলে জেটপ্লেনের ছেড়ে দেওয়া নাইট্রোজেন অক্সাইড।  এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের হ্যালোন যৌগ, অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ভেঙে গিয়ে ব্রোমিন পরমাণুর সৃষ্টি করে। এই ব্রোমিন পরমাণু ওজোন গ্যাসকে ভেঙে দেয়। কলকারখানা, যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া থেকে বাতাসে মেশা সালফারের কণা,  মিথেন, মিথাইল ব্রোমাইড, মিথাইল ক্লোরাইড প্রভৃতি রাসায়নিক গুলোও ওজোন স্তরের ক্ষতির জন্য দায়ী। এবং যেগুলো পরিবেশে আসার জন্য মানুষই দায়ী। ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে কী ক্ষতি হচ্ছে : অতিরিক্ত  অতি বেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে এসে পড়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ও পৃথিবীর তাপের ভারসাম্য হারাচ্ছে। খাদ্য শৃঙ্খলের ক্ষতি হওয়ায় বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হয়েছে ফলে বিপন্ন হয়েছে জীব বৈচিত্র। পৃথিবীতে ধোঁয়াশা ও অ্যাসিড বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের পালে হাওয়া লেগেছে। মাত্রাতিরিক্ত অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। জীবকোষের ওপর অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাব খুব মারাত্মক। এই রশ্মি কোষের সৃষ্টি এবং বৃদ্ধিকে ব্যাহত করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কোষগুলোকে ভেঙে ফেলছে। ফলে প্রাণিজগতের অনেক প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটছে। মানুষের ওপর তো ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব ভয়ঙ্কর।
অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্যানসার হচ্ছে। ওজোন স্তরের মাত্র ৫% ক্ষতির জন্য সারা বিশ্বে ৫ লাখ মানুষ ত্বকের ক্যানসারে ভুগছেন। পৃথিবীতে ১% অতি বেগুনি রশ্মি বৃদ্ধির ফলে সাদা চামড়ার লোকদের মধ্যে নন-মেলোনোমা জাতীয় ত্বকের ক্যানসার বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ।
কম বয়সে চোখে ছানি পড়ছে। নখ ও চুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রাণিজগতকে যারা প্রত্যক্ষ ভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে, সেই উদ্ভিদ জগতের ওপর ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব আরও মারাত্মক। গ্রিনলাইন অর্থাৎ উদ্ভিদশ্রেণি ক্রমশ নিঃশেষিত হয়ে যাচ্ছে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন অর্থাৎ আণুবীক্ষণিক উদ্ভিদগোষ্ঠী অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গাছেদের পাতাগুলো আকারে ছোট ও হলুদ হয়ে যাচ্ছে। ক্লোরোফিল নষ্ট হয়ে উদ্ভিদ ক্লোরোসিস রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বীজের অঙ্কুরোদগম হচ্ছে না। খাদ্যশস্যের ক্ষতি হচ্ছে, ফসলে রোগ ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্ভিদের অকালমৃত্যু বাড়ছে এবং উৎপাদনশীলতা কমছে।
উদ্ভিদ তার স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারিতে কলকারখানা যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে কার্বন ও অন্যান্য ক্ষতিকারক নিঃসরণ ছিল না এর ফলে ওজোন স্তরের যে ছিদ্র ছিল সব ছিল তা পূরণ হয়ে গেছে। প্রকৃতিতে যখন বিরূপ প্রকৃতি সৃষ্টি হয় রূপ এবং এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে থাকে তখনই প্রকৃতি যেকোনো উপায়ে হোক তার ভারসাম্য রক্ষা করে তার নিজস্বতা ফিরিয়ে আনে।

ষ ডেপুটি রেজিস্টার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]