ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ
মোকাবিলায় সরকারকে আন্তরিক হতে হবে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

বিশ^ জুড়ে করোনাভাইরাস অর্থনীতির গতিধারা বেহাল করে দিয়েছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিগত দেড় দশক ধরে অর্থনীতির যে শক্ত ভিত আমরা নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম, করোনাকালীন বিগত তিন মাসে তা ভারসাম্য হারিয়েছে। তাই সামনের দিনগুলো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে বিশ^ব্যাংকের পূর্বাভাসে বলছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশের পরিবর্তে ২-৩ শতাংশ হতে পারে। ইতোমধ্যে অর্থনীতির গতিধারা সচল রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন উন্নয়নশীল খাতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দিয়েছেন। যাতে করে করোনা পরবর্তীতে দেশের অর্থনীতি বিনির্মাণে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়। এ অবস্থায় একমাত্র কৃষি খাত ছাড়া অন্যান্য খাতে তেমন ফলপ্রসূ ভ‚মিকা নেই। তাই অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে রাজস্ব আয়, ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, মুদ্রা পাচার রোধ, বিপুল পরিমাণ কালো টাকাকে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অতীব জরুরি। তা ছাড়া করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনঃগঠনে প্রণোদনা বাস্তবায়ন করতে পারলে অর্থনীতি সামনের ঝুঁকি অতিক্রম করতে পারবে বলে অর্থনীতি বিশ্লেষক, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা মনে করছে।
দেখা যাচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে বিশে^র পরাশক্তিগুলো করোনা আগ্রাসনে বিপর্যস্ত। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারা এমনিতে আঁচ করা যায় বিপদসঙ্কুল। তা থেকে উত্তরণের পথ বের করাই এখন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদন বলছে, অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করার জন্য সরকারের বিপুল অর্থের দরকার। যদিও রাজস্ব আয় থেকে সরকারের বিপুল অর্থের সংস্থান কঠিন হয়ে উঠছে। তাই আলোচনা আসছে অর্থনীতিতে থাকা কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় বিনাপ্রশ্নে বৈধতা দেওয়ার। কেননা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পথ বন্ধ করায় বিপুল পরিমাণে অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, সরকার ২০১৩ সালে আয়কর অধ্যাদেশের-১৯-এর বিবি ধারায় যেভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেয়, সেটা বিনিয়োগবান্ধব নয় বরং হয়রানিমূলক ছিল। এরপর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তৎকালীন তত্ত¡াবধায়ক সরকার বিনাপ্রশ্নে বৈধভাবে অর্জিত অপ্রদর্শিত আয় আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় বিপুল অঙ্কের টাকা অর্থনীতিতে চলে আসে। পরে এ সুযোগ তুলে দেওয়ায় টাকা পাচার হতে থাকে বিদেশে। এখন আলোচনা হচ্ছে, বিনাপ্রশ্নে কালোটাকা আবাসন, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে সরকারের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো, যা অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সরকার বিনিয়োগ করবে।
বিশ^ জুড়ে করোনাভাইরাসের তাÐবের কারণে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি পৃথিবীর তাবৎ অর্থনীতি। আমরাও সেই গাণিতিক হিসাবের বাইরে নই। আমাদের তো আরও সচেতনভাবেই মানুষের কাছে টাকা পৌঁছানোর রাস্তা বের করা জরুরি। মূলত সরকারের হাতে টাকা থাকতে হবে। তাহলে জনগণ ভরসা পাবে। সঞ্চয়পত্রের ওপর কড়াকড়িও শিথিল করলে তাহলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারবে বলে মনে করছে তারা। করোনার কারণে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে কন্সট্রাকশন, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে এবং বড় বড় অবকাঠামোর ব্যাপক নির্মাণ দরকার পড়বে। তার জন্যও দরকার পড়বে বিশাল অর্থনীতির। সুতরাং আবাসন শিল্পসহ আবাসন খাতের সহযোগী ২১১টি সাব সেক্টরের গতি আনার জন্য এ সুযোগ দিতে হবে। আবাসন শিল্পে ৩৫ লাখ এবং সাব সেক্টরসহ মোট ৭০-৭৫ লাখ মানুষ উপকৃত হবে, দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক ভ‚মিকা রাখতে পারবে।
করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা নারীদের আরও বেশি কাজে সম্পৃক্ত করা, তাদের গৃহস্থালি কাজকে জিডিপির আওতায় আনাও সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। চলমান জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে বেশি বেশি কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার করা। অর্থাৎ সরকারকে গুচ্ছ গুচ্ছ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। করোনাকালীন স্বাস্থ্যসেবা খাতের বেহাল অবস্থা চলমান। দুই-চারজন অপরিণামদর্শীর কর্মকাÐে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের এ খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। এটা কঠিন কোনো কাজ নয়। শুধু কঠোর নজরদারির প্রয়োজন। সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতির জাল ভাঙা জরুরি। সরকার একটু আন্তরিক হলে অবশ্য আমরা পারব আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]