ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

সময়ের সম্মুখযোদ্ধা
স্বপন কুমার সাহা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

করোনাভাইরাসে বিশ্বে আজ প্রায় আটান্ন লক্ষেরও বেশি লোক আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেছে পাঁচ লক্ষাধিক। পুরো বিশ্ব আজ একসঙ্গে একই কায়দায় লড়াই করে যাচ্ছে এই অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে। বিশ্বের প্রতিটি লোক যে যার অবস্থানে থেকে লড়ে যাচ্ছে। মারণব্যাধি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ প্রতিটি দেশেই সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে যারা সবসময়ই নিয়োজিত তারা হচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যসেবায় নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের সঙ্গে রয়েছেন সংবাদকর্মী যারা ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র ছুটে চলছেন, সংবাদের জন্য। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি গুজব প্রতিহতে বড় ভূমিকা পালন করছেন। সবখান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো খবর সংগ্রহে সংবাদকর্মীদের ব্যস্ত সময় কাটছে। আর সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তই ঝুঁকিপূর্ণ।
করোনাভাইরাস মোকাবিলার যুদ্ধে দ্বিতীয় সারিতে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সরকারের প্রশাসন বিভাগের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল স্তর। এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে অন্যতম ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ পুলিশ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বরাবরই বিভিন্ন মহল থেকে নানামুখী সমালোচনা প্রচলিত থাকলেও বর্তমানের বৈশ্বিক মহামারির সময়ে পুলিশের বর্তমান ভূমিকা সকল স্তরের মানুষের কাছেই প্রশংসা পেয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে সকল মহল থেকেই প্রশংসায় ভাসছে পুলিশ বিভাগ। আজকের এই মহামারিকালে সত্যিই এই প্রশংসার দাবিদার বাংলাদেশ পুলিশ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালীন সময়ে পুলিশ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে যে অনুপ্রেরণা বোধ করছি তা পুলিশ বাহিনীর বর্তমান কর্মকাÐেরই অবদান। বাংলাদেশ পুলিশ আজ জনসেবামূলক কাজগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে করছে। পুলিশ আজ তাদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবসেবায় নিয়োজিত। তারা আজ বাংলাদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো এদেশেও যখন লকডাউনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশেষ করে নি¤œ আয়ের মানুষ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, যাদের ঘরে খাদ্যের অভাব তাদের ঘরে রাতের অন্ধকারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। যাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। বিপদগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে থেকে কেটে দিয়েছে মাঠের ধান। করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন তারই আপনজনেরা মৃতদেহ ধরতে চায়নি তখনও এগিয়ে এসেছে পুলিশ। মরদেহের দাফন ও সৎকারসহ যাবতীয় মানবিক কার্যক্রম পুলিশ নিঃসঙ্কোচে করছে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের সেবা করতে গিয়ে সংক্রামক এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য। তাদের অনেকে মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়েছে। আক্রান্ত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলসভাবে পুলিশবাহিনী যে দায়িত্ব পালন করছে, তাতে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা হয়, বাংলাদেশের পুলিশ আজ জনগণের নিশ্চিত বন্ধু। তারা মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]