ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

করোনায় ভারত সীমান্তবর্তী সাজেকে ত্রাণ পায়নি ৩৬ পরিবার : চাকমা সার্কেল চিফ
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০, ১১:০৩ পিএম আপডেট: ০৪.০৬.২০২০ ১১:০৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 128

করোনাকালীন নদীর স্রোতের মতো পাহাড়ে ত্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে। তারপরও জেলার প্রত্যন্ত দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী সাজেক এলাকায় প্রায় ৩৬টি পরিবার এখনো কোনো ত্রাণ পায়নি- এমন দাবি করেছেন রাঙামাটির চাকমা সার্কেল চিফ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি তার নিজ কার্যালয় রাজবাড়িতে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদেরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন।

তিনি সাক্ষাৎকারে বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক এলাকার বেশির ভাগ মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায়। তাদের আয় রোজগার নেই বললেই চলে। তারা বসবাস করে রির্জাভ ফরেস্ট এলাকায়। তাদের একমাত্র অবলম্বন জুম চাষ। তারা যে জুম চাষ করে তা দিয়ে চলে তাদের জীবন-জীবিকা । জুম চাষে ৩/৪মাসের খাবার পেয়ে থাকে মাত্র। এ দিয়ে তাদের পরিবার পরিজন চলে না।

তিনি আরো বলেন, সাজেকের রুইলুই, শিয়ালদাই ও বেটলিন থেকে যদি বাঘাইহাট ত্রাণ নিতে আসে তাহলে হাঁটাপথে সময় লাগে দেড় দিন।

সরকারের কাছে আমার দাবি হলো- দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন ক্যাম্পগুলোতে যেভাবে খাদ্যশস্য পৌঁছানো হয়, ঠিক সেভাবে ওই সমস্ত দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌছে দেয়া হোক।

চাকমা সার্কেল চিফ বলেন, সাজেকের দুর্গম এলাকাগুলোতে একদিকে খাদ্য সংকট আর অন্যদিকে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

সম্প্রতি সাজেকে অনেক শিশু হামের প্রাদুর্ভাবে মারা গেছে। শেষ পর্যন্ত সরকারের সহায়তায় হেলিকাপ্টার যোগে হাম রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর ভালো হয়েছে। এই হলো সীমান্তবর্তী সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি।

জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আমার কাছে খবর এসেছে যেখানে ১০-২০ কেজি ত্রাণ দেয়ার কথা, সেখানে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে ৫-৬ কেজি। আমি তদন্ত করে দেখব, এবং ঘটনা সত্যি হলে, আমি নিজেই বাদী হয়ে ওইসব জনপ্রতিনিধি বা নেতার বিরুদ্ধে মামলা লড়বো।

সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে চাকমা সার্কেল চিফ বলেন, পাহড়ের জুম চাষ ক্ষতিকর কি না তিনি জানেন না। পাহাড়িরা হলো স্বল্পশিক্ষিত, তারা জুম চাষ না করলে খাবে কী? যদি তারা উচ্চ শিক্ষিত হতো, তাহলে তো তারা জুম চাষ করতো না। তিনি পাহাড়ি এলাকার দুর্গম অঞ্চলগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক আরো শক্তিশালী করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

ভারত সীমান্ত লাগোয়া দুর্গম সাজেকের ৩৬টি পরিবার ত্রাণ না পাওয়ার বিষয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আহসান হাবিব জিতু মুঠোফোনে বলেন, আসলে ত্রাণ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।

দুর্গম এলাকা হওয়ায় সঠিক তথ্য পাওয়াটাও কঠিন। তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখব, ঘটনা সঠিক কি না। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ মজুদ রয়েছে। চাকমা সার্কেল চিফের ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়।




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]