ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা কে কোথায়

সোহেল সানি

সম্পাদকীয়

(গতকালের পর)দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল গতকাল (৪ জানুয়ারি)। ১৯৪৮ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ

2021-01-05T22:56:00+00:00
2021-01-05T22:56:00+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা কে কোথায়
সোহেল সানি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ২৮৩০৪)
(গতকালের পর)
দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল গতকাল (৪ জানুয়ারি)। ১৯৪৮ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। দিনটি উপলক্ষে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আজ প্রকাশিত হলো শেষ পর্ব।  
আ স ম আব্দুর রব
জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আ স ম আব্দুর রব ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন খলিফাখ্যাত স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম আ স ম রব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ উপাধি দেন। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় তাকে আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতি করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ’৭৩-এর নির্বাচনে প্রার্থী হতে হয়েছে। জেনারেল জিয়ার সামরিক আদালতে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছে। ’৮৮ সালে প্রহসনের নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) নেতা হিসেবে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসেন। ’৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রী হন। তিনি এখন জাসদের সভাপতি।
নূরে আলম সিদ্দিকী
রাজনীতির ময়দানে অনলবর্ষী বক্তা বলে পরিচিত নূরে আলম সিদ্দিকী একাত্তরের আগুনঝরা দিনগুলোর অন্যতম নির্মাতা। ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের প্রতিটি সভা-সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। তার জ্বালাময়ী ভাষণ ইতিহাসের একেকটি স্ফুলিঙ্গ। মুজিববাদের সমর্থক। ’৭৩ সালে আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি তার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাকশালবিরোধী নূরে আলম সিদ্দিকী ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগে ফিরে এলেও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাননি। তার ছেলে তাহজিব আলম সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।
শাহজাহান সিরাজ
মুক্তিযুদ্ধকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা। তিনি স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করেন। ’৭২ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরখাস্ত হন। পরে জাসদ হলে যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জাসদ (সিরাজ) বিলোপ করে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী ও পরের মেয়াদে মন্ত্রী হন। তবে বিএনপিতে সাংগঠনিক মর্যাদা লাভে ব্যর্থ হন। কিছুদিন আগে মারা যান।
ইসমাত কাদির গামা
শাহজাহান সিরাজ বহিষ্কার হলে ইসমাত কাদির গামাকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ’৭২ সালে ছাত্রলীগ (সিদ্দিকী-মাখন) সম্মেলনে শেখ শহীদুল ইসলাম সভাপতি ও এমএ রশীদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অপরদিকে ছাত্রলীগ (রব-সিরাজ) আ ফ ম মাহবুবুল হককে সভাপতি ও মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে। বঙ্গবন্ধু শেখ শহীদ ও এমএ রশীদের ছাত্রলীগকে সমর্থন দেওয়ায় তা মূল ছাত্রলীগ বলে বিবেচিত হয়। ছাত্রলীগ (মাহবুব-মান্না) পরিচিতি লাভ করে জাসদ ছাত্রলীগ নামে। মূলত এ ভাঙনের মূলে ছিলেন ছাত্রলীগের এককালীন সাধারণ সম্পাদক বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা সিরাজুল আলম খান।
এমএ রশীদ
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন সঙ্কটময় মুহূর্তে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবস্থান করে নিতে পারেননি এ নেতা। ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের ব্যানারে কিছুদিন সক্রিয় দেখা গেছে তাকে।
মনিরুল হক চৌধুরী
১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়া মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় পার্টি শাসনামলে চিফ হুইপ ছিলেন। কুমিল্লার একটি আসন থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মনিরুল হক চৌধুরী। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সেভেন মার্ডার হলে তিনি শেখ ফজলুল হক মনির ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান বহিষ্কার হন এবং হত্যা মামলায় কারারুদ্ধ হন। মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিলেও পদপদবি লাভে ব্যর্থ হন এ নেতা। ফলে ছিলেন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়।
শফিউল আলম প্রধান
মনিরুল হক চৌধুরীর সময়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন শফিউল আলম প্রধান। ’৭৪ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সেভেন মার্ডার সংঘটিত হওয়ার দায়ে প্রধানকে বরখাস্ত করে কারারুদ্ধ করা হয়। তার সাজাও হয়। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর জেনারেল জিয়া তাকে কারামুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। চরম আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী শফিউল আলম প্রধান মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জাগপা সভাপতি ছিলেন। শফিউল আলম প্রধান বরখাস্ত হলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারির সাংবিধানিকভাবে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ক্ষমতা বলে একই বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে দেশে জাতীয় দলীয় ব্যবস্থা স্বরূপ ‘বাকশাল’ কায়েম করেন। বাকশালের পাঁচটি অঙ্গফ্রন্টের মধ্যে ছাত্রলীগ একটি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ‘জাতীয় ছাত্রলীগ’ নামধারণ করে। সভাপতি বলে কোনো পদ না রেখে অন্যান্য সংগঠনের ন্যায় এর একজন সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ করা হয় বাকশাল চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক।
শেখ শহীদ
বাকশালের অন্যতম অঙ্গফ্রন্ট জাতীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ লাভ করেন স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি শেখ শহীদুল ইসলাম। জাতীয় ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মনিরুল হক চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনের (সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান বিশ^বিদ্যালয়ে সেভেন মার্ডারের দায়ে বহিষ্কৃত হন) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু প্রায় সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর খুনি খন্দকার মোশতাক কর্তৃক ১ সেপ্টেম্বর বাকশাল আদেশ বাতিল করা হয়। ফলে বাকশালসহ অন্যান্য অঙ্গফ্রন্টের মতো জাতীয় ছাত্রলীগেরও অস্তিত্ব লোপ পায়। প্রসঙ্গত, শেখ শহীদুল ইসলামও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের একমাত্র বোনের ছেলে শেখ শহীদুল ইসলাম জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে এরশাদের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) মহাসচিব। রাজনৈতিক দলবিধি আইনের আওতায় ’৭৬ সালে আওয়ামী লীগ পুনর্জীবিত হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
ওবায়দুল কাদের
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পুনর্জীবিত হলে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কারাগারে অন্তরীণ মেধাবী ছাত্রনেতা ওবায়দুল কাদের সভাপতি ও বাহাউল আলম চুন্নুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগ নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে। আওয়ামী লীগের উপদলীয় কোন্দলের প্রভাব ছাত্রলীগের ওপরও পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন অনুষ্ঠান সম্ভবপর হয়নি। এরপর ’৮৩ সালে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওবায়দুল কাদের সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তিল তিল করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উঠে এসেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থেকে যুব ক্রীড়া সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শেখ হাসিনার ১৯৯৬-১০০১ সরকারের যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়া ওবায়দুল কাদের বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। ছাত্রলীগের ইতিহাসে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ অলঙ্কৃত করেন। তিনি দ্বিতীয় দফা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন।
বাহাউল মজনু চুন্নু
ওবায়দুল কাদের ও বাহাউল আলম মজনু চুন্নুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ’৮৩ সাল পর্যন্ত টিকে থাকে। আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চাঙ্গা হয়ে ওঠে। চলে বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনা। আবারও ভাঙনের মুখে পড়ে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের দুটো নেতৃত্ব আত্মপ্রকাশ করে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনকে সভাপতি ও আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মহিউদ্দীন আহমেদসহ সহমত পোষণকারীরা ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) পুনরুজ্জীবিত করেন এবং ফজলুর রহমানকে সভাপতি এবং বাহাউল আলম মজনু চুন্নুকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় ছাত্রলীগকেও পুনর্জীবিত করেন। ’৮৬ সালের নির্বাচনে ফজলুর রহমান কিশোরগঞ্জ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে বাকশাল আওয়ামী লীগে একীভূত হলে অনলবর্ষী বক্তা ফজলুর রহমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পান। পরে বহিষ্কৃত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। অপরদিকে উভয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহাউল আলম মজনু জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবস্থান করে নিতে পারেননি।
মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সেভেন মার্ডার সংঘটিত হওয়ার জের ধরে ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধান বহিষ্কার হন। তখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ’৬৯-এ জগন্নাথ কলেজছাত্র সংসদের জিএস মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজপড়ুয়া মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ’৮৩ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক হওয়া মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন ১৯৮৭-২০০৯ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে জয়ী হলেও সর্বশেষ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান। বিএমএ’র সাবেক এ মহাসচিব স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখেন। ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন বিএমএ’র বর্তমান সভাপতি।
আ খ ম জাহাঙ্গীর
মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনের সঙ্গে ছাত্রলীগে জুটি বেঁধেছিলেন আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন। আওয়ামী লীগের সহদফতর সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন হাতছাড়া হয় চারবারের এ সংসদ সদস্যের। সর্বশেষ নির্বাচনের আগের নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পুনরুদ্ধার করে জয়ী হন। গত নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ফিরে আসেন। সম্প্রতি তিনি মারা যান।
আব্দুল মান্নান
১৯৮৪ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে আব্দুল মান্নান সভাপতি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আব্দুল মান্নান বগুড়া-১ আসনে এমপি থাকা অবস্থায় সম্প্রতি ইন্তেকাল করেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে কমিটি থেকে বাদ পড়েন।
আব্দুল মান্নান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা হয়ে উঠেছিলেন। ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রধানের বিশ^স্তভাজন হিসেবেও পরিচিত। কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি আব্দুল মান্নান ’৮৭ সালে কেন্দ্রীয় সদস্য, ’৯২ সালে সহপ্রচার সম্পাদক, ’৯৭ সালে প্রচার সম্পাদক এবং ২০০২ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
জাহাঙ্গীর কবির নানক ’৮৪ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বরিশাল বিএম কলেজের ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অবস্থান থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে ছাত্রলীগ প্যানেলে নির্বাচনও করেন। যে প্যানেলে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভিপি পদে প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উঠে আসতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয় তাকে। ২০০২ সালে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় অভিষেক ঘটলেও তিনি ২০০৩ সালে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন যুগ্ম সম্পাদক থেকে। ২০০৯ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিছুদিন পর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন নানক। সর্বশেষ কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক এ এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। তিনি ঢাকা থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সুলতান মনসুর
রাজনীতির ক্লিনম্যান বলে পরিচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ’৮৬ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সুলতান মনসুর স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের ডাকসুতে নির্বাচিত হওয়া একমাত্র ভিপি। সাবেক এমপি সুলতান কেন্দ্রীয় সদস্য পদ থেকে ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। কিন্তু ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন হাতছাড়া হয় তার। ২০০৯ সালে হারান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ। সেই থেকে রাজনীতির মাঠে নেই সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর বাহিনী সদস্য ছিলেন। গত নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে মৌলভীবাজারের একটি আসনে গণফোরাম প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এ নেতা। তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলেই সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
আব্দুর রহমান
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেম আব্দুর রহমান। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উঠে আসেন ২০০২ সালের কাউন্সিলে। ২০০৯ সালের কাউন্সিলে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ হাতছাড়া হয়। শুধু সদস্য করা হয় তাকে। পরে তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। ফরিদপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হলেও কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হন।
হাবিবুর রহমান হাবিব
১৯৯০ সালের সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়া হাবিবুর রহমান হাবিবকে ’৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে পাবনার একটি আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু ’৯০ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ’৯৬ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হন। যোগ দেন বিএনপিতে। অবশ্য বিএনপির মনোনয়ন পেলেও জয়ী হতে পারেননি। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচকও ছাত্রলীগের এ সাবেক সভাপতি।
শাহে আলম
বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে ’৯০-এর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের সহসভাপতি পদে থেকেই ভিপি পদে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোহাম্মদ শাহে আলম। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ভেঙে যাওয়ায় ছাত্রলীগকে এককভাবে লড়তে হয়। ফলে ডাকসু হাতছাড়া হয়ে চলে যায় ছাত্রদলের হাতে। ’৯০-এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি ’৯১-এর নির্বাচনে প্রার্থী হলে সংগঠনের সহসভাপতি শাহে আলমকে ছাত্রলীগের সভাপতি ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদে অসীম কুমার উকিলই থেকে যান পরবর্তী সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত। শাহে আলম ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের আগে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ডাক পেলেও কাউন্সিলে নির্বাচিত কমিটিতে স্থান পাননি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে অবস্থান করে নিতে পারেননি। সর্বশেষ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে বিজয়ী হন ছাত্রলীগের এ সাবেক সভাপতি।
অসীম কুমার উকিল
হাবিবুর রহমান হাবিব ও মোহাম্মদ শাহে আলমের সঙ্গে জুটি বেঁধে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব করেছেন অসীম কুমার উকিল। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ’৯০-এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিলেন। ২০০২ সালে আওয়ামী লীগে উপপ্রচার সম্পাদক হন তিনি।
২০০৯ সালেও একই পদে নির্বাচিত হন। বিগত কাউন্সিলে অসীম কুমার উকিল আওয়ামী লীগোর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এমপি হয়েছেন নেত্রকোনা থেকে। তার স্ত্রী সাবেক এমপি (সংরক্ষিত) অপু উকিল যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদিকা।
মঈনুদ্দীন হাসান চৌধুরী
১৯৯২ সালে কথিত আদু ভাইদের বিদায় দিয়ে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছিল। মঈনুদ্দীন হাসান চৌধুরীকে সভাপতি ও ইকবালুর রহিমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ছাত্রলীগ নব উদ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। ’৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঈনুদ্দীন হাসান চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়। কিন্তু তিনি হেরে যান। এরপর থেকে তাকে আর মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও স্থান হয়নি তার।
ইকবালুর রহিম
ইকবালুর রহিম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ’৯২ সালের সম্মেলনে। সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের এককালীন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রয়াত আব্দুর রহিমের ছেলে ইকবালুর রহিম বর্তমান সংসদের হুইপ। দিনাজপুর-৩ আসনের এ সংসদ সদস্য এখনও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই না পেলেও জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হয়েছে এবারও।
এনামুল হক শামীম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি একেএম এনামুল হক শামীম ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ’৯৪ সালের সম্মেলনে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হলেও গত কাউন্সিলে বাদ পড়েন। তিনি শরিয়তপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি উপমন্ত্রী।
ইসহাক আলী খান পান্না
ছাত্রলীগে এনামুল হক শামীমের সঙ্গে জুটি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ইসহাক আলী খান পান্না। ’৯৪ সালের সম্মেলনে নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পিরোজপুর-২ দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরে জোটগত কারণে হাতছাড়া হয়ে যায়। তিনিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরে অবস্থান করছেন। তবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
বাহাদুর বেপারি
১৯৯৬ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি হন বাহাদুর বেপারি ও সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন। বাহাদুর বেপারি এখনও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাননি। শরিয়তপুর-৩ আসনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন তিনি।
অজয় কর খোকন
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনেরও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এখনও অভিষেক ঘটেনি। কিশোরগঞ্জের একটি আসনে মনোনয়ন চেয়েও পাননি গত নির্বাচনে।
লিয়াকত শিকদার
লিয়াকত শিকদার। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কারারুদ্ধ ছিলেন দীর্ঘদিন। ফরিদপুর-১ আসনে প্রার্থী হতে চান আগামী নির্বাচনে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে তার অবস্থান হয়নি এখনও।
নজরুল ইসলাম বাবু
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এখনও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়নি তার।
মাহমুদ হোসেন রিপন
মাহমুদ হোসেন রিপন ও মাহহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন যথাক্রমে ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগে তাদের অভিষেক ঘটেনি এখনও। তবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হোসেন রিপন গাইবান্ধা-৫ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন।
মাহফুজুল হায়দার রোটন
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটন চৌধুরীও চট্টগ্রামের একটি আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
বদিউজ্জামান সোহাগ
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখনও নাম লেখাতে না পারলেও মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন বাগেরহাটের একটি আসনে।
নাজমুল আলম সিদ্দিকী
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম সিদ্দিকীরও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিতি গড়ে ওঠেনি।
সাইফুল ইসলাম সোহাগ
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই সক্রিয় রয়েছেন।
বিএম জাকির হোসেন
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিএম জাকির হোসেনও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন
ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বিতর্কিত হয়ে বরখাস্ত হন। তিনি এর আগে ডাকসু ভিপি পদে হেরে যান।
গোলাম রাব্বানী
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচিত সমালোচিত ছিলেন গোলাম রাব্বানী। ডাকসু জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তিনিও বরখাস্ত হন।
জয় ভট্টাচার্য
ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেও গত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা সম্মেলন ছাড়াই তাদের সরাসরি নিযুক্ত করেন।
পাদটীকা : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ঐশ^র্যকে স্মরণ করে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে ঘুরে দাঁড়াবেÑ এটাই হোক শপথ।

ষ সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: