দেশে ভারতীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় বাজার

আলমগীর হোসেন

জাতীয়

‘ভাগ্নে, খাবার (গুলি) লাগবে পাঁচশো; রেট কী দেখ তো, আর জিনিস (পিস্তল) লাগবে দশটা।’ ভারতীয় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী জনৈক মেহেদীকে

2021-12-23T08:43:54+00:00
2021-12-23T08:48:24+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জাতীয়
দেশে ভারতীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় বাজার
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:৪৩ এএম  আপডেট: ২৩.১২.২০২১ ৮:৪৮ এএম  (ভিজিট : ২২৫৪)
‘ভাগ্নে, খাবার (গুলি) লাগবে পাঁচশো; রেট কী দেখ তো, আর জিনিস (পিস্তল) লাগবে দশটা।’ ভারতীয় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী জনৈক মেহেদীকে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এভাবেই লিখেছিলেন বাংলাদেশের অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী আকুল হোসেন। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি সরবরাহের বিষয়ে বাংলাদেশি একজনের হোয়াটসঅ্যাপের কলে ভারতীয় অন্য একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী এমনও বলেছেন, ‘যত প্রয়োজন তত অস্ত্র দেওয়া যাবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ। আকুল হোসেন ছাড়াও বাংলাদেশি অবৈধ অস্ত্র কারবারি চক্রের সদস্য ইলিয়াস হোসেন ও আজিমুর রহমান আজিমও ভারতের অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী জামাল, পশ্চিমবঙ্গের দিহি কাশিপুরের রানা, দীপঙ্কর, সম্রাট ও নিতাই নামে অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে এবং দীর্ঘ চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে অস্ত্র কেনাবেচার প্রসঙ্গে যোগাযোগের তথ্যপ্রমাণও পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ভারতীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় বাজার গড়ে উঠেছে। অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিত্যনতুন কৌশলে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে বাংলাদেশে। তবে বর্তমানে সংখ্যায় ভারতীয় অবৈধ অস্ত্রই বেশি ঢুকছে বাংলাদেশে। কারণ ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র কোনোমতে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো গেলেই সেগুলো বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি দামে। তাই ভারতীয় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরাও তাদের বড় বাজার গড়তে মূল টার্গেটে রাখছে বাংলাদেশকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যশোর, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে। আগে থেকে কথা বলে নির্দিষ্ট স্থানে, পুকুরে বা খড়ের গাদাসহ সন্দেহ এড়ানোর মতো স্থানে এসব অস্ত্র-গুলি রেখে আসার পর সুবিধাজনক সময়ে সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসরত একশ্রেণির বাসিন্দা অবৈধ অস্ত্র-চোরাচালান সরবরাহে ব্যবহার হচ্ছেন। এর বাইরেও অভিনব কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে এসব অস্ত্র আনা-নেওয়ায়। অন্যদিকে আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য পরিশোধের টাকা লেনদেন হচ্ছে দুই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং, স্থানীয় এজেন্ট ও হুন্ডির মাধ্যমে।

গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গাবতলী এলাকা থেকে যশোরের ছাত্রলীগ নেতা আকুল হোসেনসহ ওই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতারের পর ডিএমপি ডিবির গুলশান বিভাগের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ও ভারতের অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে আকুল হোসেনসহ ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তসহ আদালতে অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছে ডিএমপির ডিবি।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, যশোরের বেনাপোলকেন্দ্রিক অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী একটি চক্রের হোতা আকুল হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে ব্যাপক তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটিং, অস্ত্রসহ নানা ছবি এবং দুই দেশের জড়িত অস্ত্র ব্যবসায়ীদের তথ্য-উপাত্তসহ আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।

ডিসি মশিউর রহমান জানান, এই চক্রটি বাংলাদেশে ২০১৪ সাল থেকে ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্র আনছিল। বাংলাদেশি ওই পাঁচ অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভারতীয় বেশ কয়েকজন অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একজন নারী অস্ত্র ব্যবসায়ীও রয়েছেন। ভারতীয় এসব অস্ত্র ব্যবসায়ীর নাম ও ঠিকানা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভারতীয় পুলিশকে পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ সময়ের আলোকে বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বাজার সব দেশেই আছে, বাংলাদেশও আছে। সাধারণত রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন একটু অস্থির থাকে তখন অবৈধ অস্ত্রের বেচাকেনা বেশি হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অবৈধ অস্ত্রের কারখানার অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমাদের দেশে অবৈধ অস্ত্র আসে বাইরে থেকে, সাধারণত স্থলপথে বেশি আসে। এ তালিকায় রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমার। বিশেষ করে সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরের বেশ কিছু জায়গায় অবৈধ অস্ত্রের গোপন কারখানা রয়েছে বলে আমরা জানতে পারি।

অস্ত্র-গুলি কেনাবেচা হয় যেভাবে : তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোরের আকুল হোসেনসহ পাঁচজন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন সেট থেকে কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যাপক প্রমাণ পেয়েছে ডিএমপির ডিবি গুলশান বিভাগ। তদন্ত সূত্র মতে, যশোরের অস্ত্র ব্যবসায়ী আকুল হোসেন একটি নম্বর থেকে গত ২০ আগস্ট বিভিন্ন অস্ত্র ও গুলির ছবি দিয়ে ‘ইন্ডিয়া মেহেদী ভাগ্নে’ নামে সেভ করা একটি নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের ইনবক্সে লেখেন- ‘ভাগ্নে, খাবার (গুলি) লাগবে পাঁচশো; রেট কী দেখ তো, আর জিনিস (পিস্তল) লাগবে দশটা।’ ‘ইন্ডিয়া জামাল ভাই’ নামে সেভ করা অন্য একটি ভারতীয় নম্বরে অস্ত্রের ছবি পাঠিয়ে লেখা হয়েছে- ‘মালটা (পিস্তল) লাগবে। ঢাকার পার্টি আজকে আসছে, ওরা আমার সঙ্গে কথা বলেছে।’ এ ছাড়া ‘দিহি কাশিপুর রানা ভাইপো’ নামে সেভ করা ভারতীয় নম্বরে চ্যাটিং ও অডিওকলে বলা হয়- ‘কত করে নিবি, খাবারের (গুলি) দাম কত করে নিবি, পার পিস গুলি কত করে নিবি সেটা একটু ভয়েসে পাঠা আমারে।’ চলতি বছরের ১০ মার্চ রানা ভাইপোর ইনবক্সে চ্যাটিংয়ে লেখা হয়, ‘এমজি ডাবল রেট কত? ৮০ হাজার?’ জবাবে বলা হয়- ‘হুম। এখানে বাহারদুপুরের দিকে পৌঁছে দেবে। আপনি আব্বুর সঙ্গে কথা বললে ভালোভাবে দাম দর করে নিতে পারেন।’ অন্যদিকে গত ১২ মার্চ ইন্ডিয়া দীপঙ্কর নামে একজনকে তার নম্বরে চ্যাটিং ও অডিওকলে বলা হয়েছে- ‘খাবার (গুলি) লাগবে পাঁচশো, আর জিনিস (পিস্তল) লাগবে দশটা। একটু রেট-টেট কমায়ে দেখো কী করা যায়। হইলে কালকে থেকে নেব।’

কেন বাংলাদেশে অস্ত্রের বাজার গড়ার টার্গেট : গোয়েন্দা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভারত থেকে বর্তমানে যেসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে আসছে তার বেশিরভাগই ‘ওয়েল ফার্নিসড’। চাহিদার ওপর নির্ভর করে আগাম অর্ডারের ভিত্তিতে তারা এসব অস্ত্র আনে। গ্রেফতার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দারা বলছেন, আধুনিক মানের এসব পিস্তল বা রিভলবার বাংলাদেশে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডে’ সর্বনিম্ন ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সাধারণ মানের ভারতীয় পিস্তল বা রিভলবার বাংলাদেশে বিক্রি হয় ৪০-৫৫ হাজার টাকায়। এ ছাড়া ওয়ান শুটারগানসহ আরও কিছু অস্ত্র প্রবেশের খবর জানা যায়। সেগুলোও ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। শুধু পিস্তল বা রিভলবার নয়, বন্দুকসহ বিভিন্ন অস্ত্রের গুলিও আসে ভারত থেকে। প্রতিটি গুলি বাংলাদেশে বিক্রি হয় পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকায়। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগতেই পারে, তা হলে ভারতের স্থানীয় আন্ডারওয়ার্ল্ডে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের দাম কেমন?

এ প্রসঙ্গে তথ্যানুসন্ধানকালে পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত একজন গণমাধ্যমকর্মী তাদের গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে মোবাইল ফোনে সময়ের আলোকে জানান, ভারতের যেসব অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে সেগুলোর বেশিরভাগই ভারতের বিহারের মুঙ্গেরেতে তৈরি। ওইসব পিস্তল বা রিভলবার দেখতে খুব আধুনিক নয়। দেশীয় হিসেবে স্থানীয়ভাবে বিবেচিত এসব অবৈধ পিস্তল ও রিভলবার ভারতের অপরাধ জগতে বেচাকেনা হয় ১০-১৫ হাজার টাকায়, যা বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিক্রি হয় ২৫-৪০ হাজার টাকায়। ভারতে বর্তমানে স্থানীয়ভাবে তৈরি মোটামুটি আধুনিক মানের এক ধরনের পিস্তল ও রিভলবার বেচাকেনা হচ্ছে ৪০-৫০ হাজার টাকায়, যা বাংলাদেশে ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। এ ছাড়া ওয়ান শুটারগান ভারতের স্থানীয় বাজারে ৫-৭ হাজার টাকায় কেনাবেচা হয়। ভারতের এসব অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যাপক তৎপর রয়েছে বলেও জানান ভারতীয় ওই গণমাধ্যমকর্মী।

কীভাবে অস্ত্র-গুলি আনা-নেওয়া হয় : গোয়েন্দারা জানান, সীমান্তের নিকটবর্তী ভারতীয় গ্রামগুলোতে খড়ের গাদা, মাটির গর্ত, পুকুরের মধ্যে পলিথিনে মুড়িয়ে সুরক্ষিত করে স্থান চিহ্নিত করার মাধ্যমে অস্ত্র মজুদ রাখা হয়। এরপর সুবিধামতো সময়ে সীমান্তের গ্রামগুলোতে যারা কৃষিকাজ করেন তাদের কারও কারও মাধ্যমে কাঁটাতারের বেড়ার এপাশে একটি একটি করে অস্ত্র পাঠানো হয়। বাংলাদেশে যারা অস্ত্রগুলো গ্রহণ করে তারাও সীমান্ত এলাকায় প্রায় অভিন্ন কায়দায় সেগুলো লুকিয়ে রাখে। এরপর চাহিদা অনুযায়ী রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব অবৈধ অস্ত্র যশোর ও খুলনা হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যশোরের ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম রেজা সময়ের আলোকে বলেন, যশোর একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকা। ইতঃপূর্বেও দেখা গেছে, এই এলাকা দিয়ে চোরাচালান আসার প্রবণতা অনেক বেশি। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারি না যে এই জায়গা দিয়েই চোরাচালান আসছে। তবে এটা বলতে পারি, বিশেষভাবে যশোর অঞ্চলের প্রতি সবসময় বিশেষ নজরদারি আছে।

কারবারি ও ক্রেতা কারা : বাংলাদেশে ভারতীয় অস্ত্র চোরাচালানের যশোর ও খুলনাভিত্তিক অন্তত পাঁচ-ছয়টি চক্র সক্রিয়। তাদেরই একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গত ১ সেপ্টেম্বর অস্ত্র-গুলিসহ ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিএমপির ডিবি গুলশান বিভাগ। যাদের মূল হোতা যশোর ছাত্রলীগের নেতা আকুল হোসেন। আকুলের নেতৃত্বে চলা চক্রটি ২০১৪ সাল থেকে দুইশরও বেশি অবৈধ অস্ত্র ভারত থেকে আনার কথা স্বীকার করেছে। এসব অস্ত্র কারা কিনেছে তারও কিছু তথ্য পেয়েছে ডিবি পুলিশ। আকুল হোসেন ও তার সহযোগীরাও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং তারাও মাদক ব্যবসা, পুরাকীর্তি পাচার ও জমি দখলসহ আরও অনেক অপকর্মে জড়িত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব অবৈধ অস্ত্রের চাহিদা রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, মাস্তান, অবৈধভাবে জমি দখলকারী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনের সময় এসব অস্ত্রের চাহিদা বাড়ে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়ও এই অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। মূলত এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ভীতি সৃষ্টি ও দখল-চাঁদাবাজির লক্ষ্যেই এসব অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়।

সীমান্তে চোরাচালান বন্ধের প্রসঙ্গে ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম রেজা সময়ের আলোকে জানান, যশোর অঞ্চলে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ৭০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫৬ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া আছে। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়া সবসময় অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করতে পারে না। অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে বড় চক্র জড়িত থাকে। তাদের চোরাচালান প্রবণতা সবসময় অব্যাহত থাকে। তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য জায়গার তুলনায় আমাদের যশোর অঞ্চলে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন রয়েছে। আমরা সীমান্তে সবসময় লোক নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করি। নিয়মিত টহলও রাখা হয়। চব্বিশ ঘণ্টাই আমাদের সীমান্তে লোক থাকে। এ ছাড়া নিয়মিত বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করে থাকি। সর্বোপরি আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে চোরাচালানের বিরুদ্ধে নজরদারি করে যাচ্ছি।’

অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান প্রতিরোধে করণীয় প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ সময়ের আলোকে বলেন, প্রথমত সীমান্তবর্তী দুই দেশের মধ্যেই একটা সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ও গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। অবশ্যই এটা থাকা উচিত। দ্বিতীয়টি হলো, দুই দেশের ভেতরে এ সংক্রান্ত যা হচ্ছে তা উভয় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে অস্ত্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। উৎপাদন বন্ধ করা গেলে তখন স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহ বা পাচারের জায়গাগুলো কমে আসবে। এর বাইরেও এখানে বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এ ছাড়া উৎপাদন যেমন বন্ধ করতে হবে তেমনি যে দেশে এটি বাজারজাত হচ্ছে সে দেশে বাজারজাত প্রক্রিয়াও বন্ধ করতে হবে। অস্ত্র ‘প্রোডাকশন ফ্যাক্টরি’ থেকে সীমান্ত পার হওয়ার সময় উভয় দেশের গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করতে হবে এবং সেই সঙ্গে অব্যাহতভাবে যদি অভিযান পরিচালনা করা যায় তা হলে আমরা এই অবৈধ অস্ত্রের কারবারকে অনেকটাই নির্মূল করতে পারব।

গত নভেম্বর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের অবৈধ অস্ত্রের চালান ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন র‌্যাবের কর্মকর্তারাও। সম্প্রতি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের গভীর বন থেকে র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭ রাইফেলের ২০ হাজার রাউন্ড গুলি।

এ ছাড়া পুলিশ সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬-২২ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে ৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫২৫টি দেশি অস্ত্র ও ৫৭টি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় জড়িত থাকায় ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে গত নভেম্বর মাসে বিজিবি সীমান্ত এলাকা থেকে একটি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও চারটি চাইনিজ কুড়াল আটক করেছে বলে পিলখানা সদর দফতর সূত্রে জানা যায়।

/আরএ



  বিষয়:   অস্ত্রের বড় বাজার  ভারত 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: