উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

জহিরুল ইসলাম

সাহিত্য

গুপী গাইন আর বাঘা বাইনের নাম তো তোমরা শুনেছ, তাই না! ওই যে কানু কাইনের ছেলে গুপী কাইন। যে মাত্র

2022-05-14T10:55:21+00:00
2022-05-14T10:55:21+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
সাহিত্য
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
জহিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মে, ২০২২, ১০:৫৫ এএম   (ভিজিট : ৬৩৬)
গুপী গাইন আর বাঘা বাইনের নাম তো তোমরা শুনেছ, তাই না! ওই যে কানু কাইনের ছেলে গুপী কাইন। যে মাত্র একটা গানই গাইতে পারত অথচ গ্রামের লোকজন তার নাম দিয়েছিল গুপী গাইন। গায়েন মানে হলো গায়ক, আর সেই গায়েন থেকেই গাইন। গুপীর গান শুনে তার বাবার দোকানের সব খদ্দের ছুটে পালাত। মাঠের যত গরু সব দড়ি ছিঁড়ে ভাগত। তাই একদিন তার বাবা তাকে বড় বাঁশ নিয়ে তাড়া করল। আর সে ছুটে পালাল। অন্যদিকে গুপীদের কাছের গ্রামের পাঁচু পাইনের ছেলের শখ ছিল ঢোল বাজানো। ঢোল বাজাতে বাজাতে সে বিষম ঢুলতে থাকত, পা নাড়ত, চোখ পাকাত, দাঁত খিঁচাত আর ভ্রুকুটি করত। শেষে যখন ‘হা হা হা হা’ বলে বাঘের মতো খেঁকিয়ে উঠত, তখন সবাই পালাবার পথ না পেয়ে চিৎপাত হয়ে পড়ে যেত। সবাই তার নাম দিয়েছিল বাঘা বাইন। কিন্তু গ্রামের লোকজনের অত্যাচারে সেও একদিন বনে চলে যেতে বাধ্য হলো। সেই বনেই পরিচয় হলো গুপীর আর বাঘার। তারপরে তো কত মজার মজার ঘটনা। গুপী গাইন আর বাঘা বাইনের এই মজার গল্প কে লিখেছিলেন জানো তো! এই মজার দুই চরিত্র যিনি সৃষ্টি করেছেন তার নাম উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। আর এই গল্প নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন তারই নাতি সত্যজিৎ রায়। 

১৮৬৩ সালের ১২ মে ময়মনসিংহের কটিয়াদিতে জন্মগ্রহণ করেন উপেন্দ্রকিশোর। বাবার দেওয়া নাম ছিল কামদারঞ্জন রায়। পাঁচ বছরেরও কম বয়সে তার বাবার আত্মীয় জমিদার হরিকিশোর রায়চৌধুরী তাকে দত্তক নেন ও নতুন নাম দেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

উপেন্দ্রকিশোর পড়ালেখা করতেন ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টও করতেন। কিন্তু রাতে তাকে পড়তে বসতে দেখা যেত না বললেই চলে। ঘটনাটা কী, একজন জানতে চাইলে তিনি বললেন, শরৎকাকা আমার পাশের ঘরে থাকে। রোজ সন্ধ্যায় সে চিৎকার করে পড়া মুখস্থ করে। তাতেই আমার পড়া হয়ে যায়।

একবার স্কুল পরিদর্শনে এলেন স্যার অ্যাসলি ইডেন। উপেন্দ্রকিশোরদের শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শনকালে তিনি ছাত্রদের নানান উপদেশ দিচ্ছিলেন। এমন সময় খেয়াল করলেন, ক্লাসের অন্য ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনলেও পেছনের দিকের বেঞ্চে বসা একটা ছেলের যেন কোনো খেয়ালই নেই সেদিকে। মাথা নিচু করে একমনে কী যেন করছে সে। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে কাছে গিয়ে দেখলেন, পেনসিল দিয়ে তারই একটা স্কেচ আঁকছে ছেলেটি।

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন একজন লেখক, চিত্রকর, প্রকাশক, শখের জ্যোতির্বিদ, বেহালাবাদক ও সুরকার। ছড়াকার সুকুমার রায়ের বাবা এবং চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের দাদা ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। 

তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি হয়। ১৮৮৩ সালে ছাত্র থাকা অবস্থায়ই সখা পত্রিকায় তার প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। সেকালের শিশু-কিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। যতদিন বেঁচে ছিলেন তিনি একটানা সাহিত্যচর্চা করে গেছেন। ছড়া, কবিতা, গান, গল্প, নাটক, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ, রূপকথা, উপকথা, পৌরাণিক কাহিনি ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি রচনাসহ শিশু-কিশোর সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় বিচরণ করেন তিনি। নিজের বইয়ে নিজের আঁকা চমকপ্রদ নানান ছবি সংযোজন উপেন্দ্রকিশোরের প্রকাশনার এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয়। তার মৃত্যুর পরে সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায় এটি সম্পাদনা করতেন। দেশ-বিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানান বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি শিশু-কিশোর-তরুণদের জন্য আকর্ষণীয় একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী শিশু-কিশোরদের জন্য অনেক বই লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- টুনটুনির বই, গল্পমালা, পুরাণের কথা, মহাভারতের কথা, ছেলেদের রামায়ণ, ছেলেদের মহাভারত, জন্তু-জানোয়ার ইত্যাদি। বইগুলোর প্রচ্ছদ এবং ভেতরের ছবিও তিনি নিজেই আঁকতেন।

/এসকে


  বিষয়:   উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: