‘ভালো লাগছে ভাই, প্রথমবারে মতো জাতীয় দলে ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। আমি আনন্দিত’ ফোনে প্রশ্ন করার আগে আনন্দে এমন উত্তর দিলেন উত্তর বারিধারার মিডফিল্ডার পাপন সিংহ। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন তিনি।
নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া প্রথম ফুটবলার পাপন সিংহ। মাটির একটি কামরা ঘরে থাকতেন। ওই একটা ঘরেই থাকা খাওয়া। বাবা নেই, নেই ভাই-বোন। ওই এক ঘরে উনুনে রান্না বসাতেন মা। পাপনের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা অল্প বয়স থেকে। ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ থেকে ফুটবলে পথ চলা শুরু তার। এরপর নেত্রকোনা জেলার হয়ে পাওনিয়ার লিগে মিরপুর সিটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। নজরকারা পারফ্যামেন্সে ঢাকা মোহামেডানের ‘বি’ দলে জায়গা পান পাপন। সেখান থেকে উত্তর বারিধারা হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে পথ চলা শুরু এই মিডফিল্ডারের। মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হলেও চলমান প্রিমিয়ার লিগে নামের পাশে রয়েছে ১টি গোল।
চার বছর ধরে উত্তর বারিধারার হয়ে খেলা মিডফিল্ডার প্রথমবার ডাক পেলেন সিনিয়র জাতীয় দলে। এ প্রসঙ্গে তিন বলেন ‘এটা আমার প্রথম জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া। আমি খুবই আপ্লুত। মূল দলে সুযোগ বা জায়গা করে নেওয়াই আমার লক্ষ্য। যদি সেটা হয় তাহলে তো ভালোই হবে। যদি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই তাহলে গোল করে হোক, জয় এনে দিয়ে হোক, যেভাবেই হোক দলকে সাহায্য করার চেষ্টা করব। কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা খুবই সাপোর্টিভ। তিনি বলেছেন, দলের সব খেলোয়াড়রাই গুরুত্বপূর্ণ। দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ভালো লাগছে।’
গত বছর পাপন সিংহ অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন উজবেকিস্তানের মাটিতে। তার দল উত্তর বারিধারা রেলিগেশন ফাইটে থাকলেও নিজ যোগ্যতায় জাতীয় দলের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ডাক পেলেন তিনি। পরিবার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মা খেলা বুঝে না। তবে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে আমার পরিবারসহ এলাকার মানুষজন সবাই খুশি হয়েছেন।
/এসকে