রবীন্দ্রনাথের ‘শারদোৎসব’

রাকিবুল রকি

সাহিত্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থী দিয়ে অভিনয় করানোর জন্য ‘শারদোৎসব’ নাটকটি রচনা করেন। এটি একটি ঋতুভিত্তিক নাটিকা। প্রকৃতির সঙ্গে বালকদের পরিচয়

2022-09-09T07:31:50+00:00
2022-09-09T07:31:50+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
সাহিত্য
রবীন্দ্রনাথের ‘শারদোৎসব’
রাকিবুল রকি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩১ এএম   (ভিজিট : ৩৯৫৭)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থী দিয়ে অভিনয় করানোর জন্য ‘শারদোৎসব’ নাটকটি রচনা করেন। এটি একটি ঋতুভিত্তিক নাটিকা। প্রকৃতির সঙ্গে বালকদের পরিচয় করে দেওয়ার জন্যই তিনি এই নাটক রচনা করেন। এ রকম ঋতুভিত্তিক নাটক রবীন্দ্রনাথের আরও আছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ‘শ্রাবণগাঁথা’র নাম। পূর্বেই বলেছি, এই নাটিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অভিনয় করার জন্য রচিত হয়েছিল, ফলে এখানে কোনো নারী চরিত্র নেই। শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিনয় করার জন্য তিনি যেসব নাটক রচনা করেছিলেন, সেগুলোর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এগুলো নারী চরিত্র বর্জিত। বিশেষ করে বলা যায়, ‘শারদোৎসব’ থেকে ‘ফাল্গুনী’ পর্যন্ত আমরা পুরুষ চরিত্রেরই প্রাধান্য দেখতে পাই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একই বিষয় নিয়ে একাধিক রচনা যেমন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি একই বিষয়কে একই মাধ্যমে সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন, পরিশোধন করেছেন। যেমন ‘গুরু’ ‘অচলায়তন’-এর ‘কিঞ্চিৎ রূপান্তরিত এবং লঘুতর’ রূপ। ‘রাজা’ নাটকের সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে ‘অরূপরতন’ প্রভৃতি। ‘শারদোৎসব’ নাটকের পরিবর্তিত রূপ ‘ঋণশোধ’।

‘শারদোৎসব’ নাটকের সঙ্গে ‘ঋণশোধ’ নাটকের প্রধান পার্থক্য হলো ‘ঋণশোধ’ নাটকে ভূমিকা এবং শেখর চরিত্র সংযুক্ত হওয়া। 

যদিও ‘শারদোৎসব’ নাটকের সঙ্গে ‘ঋণশোধ’ নাটকের তুলনামূলক আলোচনা করলে অবশ্য ‘শারদোৎসব’ নাটককেই এগিয়ে রাখতে হবে। ঋণশোধে যে ভূমিকা সংযুক্ত হয়েছে, ‘শারদোৎসব’ নাটকে তা না থাকায় পাঠক/ দর্শক নাটক শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বুঝতে পারে না সন্ন্যাসী একজন রাজা। ফলে লক্ষেশ^রের সঙ্গে সন্ন্যাসীবেশী রাজার কথাবার্তা, রাজা সোমপালের কথাবার্তা, উপনন্দের কথা আলাদা একটি ব্যঞ্জনা তোলে। নাটক শেষে মন্ত্রী, অমাত্যবর্গের আগমনের ফলে সন্ন্যাসীর পরিচয় উদঘাটনের যে টুইস্ট, সেটি নেই ‘ঋণশোধ’ নাটকে।

‘শারদোৎসব’ নাটিকা ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়। নাটকের দুটো মাত্র দৃশ্য। সক্রিয় চরিত্র আটটি। বলা যায়, এটি একটি ছুটির নাটক। 

ভানুসিংহের পত্রাবলীতে প্রকাশিত একটি চিঠিতে (২৪ ভাদ্র, ১৩২৯) কবি নিজেই ‘শারদোৎসব’ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘ওটা হচ্ছে ছুটির নাটক। ওর সময়ও ছুটির, ওর বিষয়ও ছুটির। রাজা ছুটি নিয়েছে রাজত্ব থেকে, ছেলেরা ছুটি নিয়েছে পাঠশালা থেকে। তাদের আর কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই, কেবল একমাত্র হচ্ছেÑ‘বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি কাটবে সকল বেলা।’ 

শরতের প্রকৃতির এক অপূর্ব শোভা আমরা এই নাটকে দেখতে পাই। শরতের আগমনে সবাই নিজ নিজ কাজ থেকে ছুটি নিয়েছে। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শারদোৎসব’কে ছুটির নাটক কিংবা কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই বলুক না কেন-আমরা দেখতে পাই, এই নাটকেও রবীন্দ্রদর্শনের প্রভাব। তিনি নাটকে পাত্র হিসেবে রাজা, অমাত্যদের হাজির করলেও এর বিষয়বস্তু সেকেলে হয়ে যায়নি। তিনি এমন কিছু সমকালীন সঙ্কট, ভাবনা এই নাটকে গেঁথে দিয়েছেন, যার ফলে এর আবেদন হয়ে উঠেছে চিরকালীন।

আমরা জানি যে, বাংলা নাটকে রূপক, সাংকেতিক নাটক তারই সংযোজন। এক্ষেত্রে তার কোনো পূর্বসূরি নেই। বাংলা নাটককে তিনি সমৃদ্ধ করে গেছেন। ‘শারদোৎসব’ নাটিকাটি ছোট হলেও বলা যায়, পরিপূর্ণভাবেই রবীন্দ্রবিভায় সমুজ্জ্বল।



Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: