তাঁবু টাঙানো সিনেমা দেখা থেকে কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন

এএমসি শাহরিয়ার

সম্পাদকীয়

ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখার হরপ্রসাদের ভাষায়, 'যুদ্ধ দ্যাখে নাই, মন্বন্তর দ্যাখে নাই, দাঙ্গা দ্যাখে নাই, দেশভাগ দ্যাখে নাই।' কিন্তু মৃণাল সেনের

2022-12-30T22:50:36+00:00
2022-12-30T22:50:36+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
তাঁবু টাঙানো সিনেমা দেখা থেকে কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন
এএমসি শাহরিয়ার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২, ১০:৫০ পিএম   (ভিজিট : ৯০৫)
কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন

কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন

ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখার হরপ্রসাদের ভাষায়, 'যুদ্ধ দ্যাখে নাই, মন্বন্তর দ্যাখে নাই, দাঙ্গা দ্যাখে নাই, দেশভাগ দ্যাখে নাই।' কিন্তু মৃণাল সেনের অভিজ্ঞতা ছিলো এ সবই দেখার। ফরিদপুরে তাঁবু টাঙিয়ে চ্যাপলিনের সিনেমা দেখিয়েছিল একদল লোক। সেখানে প্রথম ছবি দেখেন কিশোর মৃণাল সেন। চলচ্চিত্রকার মৃণালের পরবর্তী পরিচয় সবার জানা। শুধু একটা কথা এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই, আজকালকার কালারফুল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কি মফস্বলের সে তাঁবু টাঙিয়ে সিনেমা দেখার নিবেদনকে ডিঙাতে পেরেছে? ঘরে বসে ওটিটিতে ছবি দেখার চলনও তখন ছিলো না।

চ্যাপলিনের ছবি দেখার অন্তরাত্মাকে প্রশ্ন করেছিলো মৃণাল সেন। সমাজ নিয়ে তাঁর ছবিতে যে বক্তব্য ফুটে উঠে তাঁর সূচনা হয়েছিলো কিশোর বয়সের উপলব্ধি থেকে। জীবনের প্রথম বই লিখেন তিনি চ্যাপলিনকে নিয়ে। এমনকি তখন ছবি বানানোও শুরু করেননি তিনি। হাজরা রোডে সে প্যারাডাইস ক্যাফেতে ঋত্বিক ঘটকদের সঙ্গে আড্ডায় পয়সা খরচের কথায় মৃণাল সেন বলেছিলেন, 'সে সময় আমরা ধার করে ধার মেটাতাম'। সময়ের ঘটনার জীবন্ত দলিল সিনেমায় তুলে ধরতে এমন নিবেদিত লড়াই, এ সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বড় প্রেরণা হতে পারে।

চলচ্চিত্রকার মৃণালের কাছে এই প্রজন্মের নতুন ছবি করিয়েদের বহু ঋণ জমা। সেটা পরিশোধের উপায় হলো তাঁর মতো বিপ্লবী ও বৃহত্তর চিন্তা নিয়ে সমাজবদলের হাতিয়ার হিসেবে চলচ্চিত্রকে ভাবা। সিনেমাকে পরিপাটি ডাইনিং টেবিল নয়, মৃণাল সেনের কাছে সিনেমা হলো শিয়ালদহের নোংরা রেলস্টেশনে ছিন্নমূলদের মিছিল। একটি ইংরেজ বাবু আদলের পোশাক না থাকায় চাকরি খোয়ানো তরুণ যুবকের গল্পই মৃণালের ছবি। কলকাতার দারিদ্রে, এঁদো গলির বস্তিতে, ঘোর বর্ষায় টিন বেয়ে বর্ষাজলে ঘুমের বিছানায় ঘর ভেজে মা-বাবা সন্তানের ছবিই মৃণালের ছবি। এমন উদাহরণ বহু লেখা যায়।

মৃণালের ছবি ড্রইং রুমে বসে বিলাসী ভঙ্গিতে দেখবার ছবি নয়। 'কোরাস' কিংবা 'আকালের সন্ধানে' দেখার পর মনে হয় রাষ্ট্রের কাছে আমাদের কত অধিকার পাওনা এখনো। আজ মৃণালের মৃত্যুবার্ষিকী। এ বছরই জন্মশতবর্ষে পা রাখেন তিনি। এখনকার সিনেমা দেখলে মনে হয়, আদতে বাঙালি ভুলে গেছে তাঁদের হৃদপিণ্ডে যে এমন সব মহৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বসবাস ছিলো।

লেখক: ক্রীড়া সাংবাদিক এবং স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


  বিষয়:   মৃণাল সেন 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: