ইসলামে অলস, উদাস ও কর্মহীন মানুষের নিন্দা করা হয়েছে। কর্মহীনতা ও সময়ের অপচয় মানুষের মনে হতাশা বয়ে আনে, জীবনে বেকারত্বের অভিশাপ টেনে আনে। কোনো মানুষের উপার্জনের উৎস না থাকলে স্বস্তিতে নিশ্বাস ফেলাও অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত হতাশার কারণে মানুষ এ সময়টায় নানা পাপে জড়িয়ে পড়ে। অথচ একজন ঈমানদার ব্যক্তি যেকোনো পরিস্থিতিতেই মুক্তির পথ ও কল্যাণ খুঁজে নেবে। প্রথমেই ভাবতে হবে, ‘বেকারত্ব’ একজন মানুষকে প্রথমে যা দেয় তা হচ্ছে অফুরন্ত সময় ও অবসর। আর ঈমানদারের প্রতিটি সময় খুবই মূল্যবান। সময় কাজে লাগিয়ে এমন কিছু করা যায়, যাতে মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে সঙ্গে পার্থিব ও পরকালীন পাথেয় লাভ হতে পারে।
বেকারত্বও আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুযোগ। আল্লাহ চান, আপনি তাঁকে আরও বেশি সময় দিন ও বেশি করে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন এবং তাঁর কাছে বেশি ইস্তেগফার করুন, যেন আপনি ক্ষমা লাভ করতে পারেন। এমন সময় উপস্থিত হতে পারে, যখন রবের সঙ্গে আপনার দূরত্ব বেড়ে যাবে। তিনি হয়তো আরও চান, আপনি বেকারত্বের এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে যোগ্যতা অর্জন করুন, নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রদীপের কিরণ বৃদ্ধি করুন এবং সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পথ বের করুন। আল্লাহ এটা চান না, আপনি বেকারত্বের এই সময়কে হেলায়-ফেলায় কাটিয়ে দিন। বেকার অবস্থায় আপনি এটাও বলতে পারবেন না যে, আল্লাহ যা আমার জন্য নির্ধারণ করেছেন আর কী। মূলত আপনার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না, যে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট থাকে না। সুরা ইনশিরাহর ৫ নং আয়াতে তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে সুখ।’ সুতরাং প্রথমে কষ্ট মেনে নিতে হবে, যদি বেকারত্বের জীবন কাটিয়ে সুখ লাভ করতে চান।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সুরা আসরের প্রথম আয়াতে সময়ের শপথ করে এর গুরুত্ব কতটুকু তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। আমরা জীবনে যে জিনিসকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিই এবং অধিক মাত্রায় যা অপচয় করি তা হলো ‘সময়’। বেকারত্বের পেছনে যেহেতু অনেক বেশি পরিমাণ সময় উপস্থিত, তাই কোনো একটা কাজে সাফল্য লাভ সম্ভব হয়। বেকারত্বে আমাদের যে কাজগুলো করা সম্ভব তা হচ্ছে- বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণে লিপ্ত হওয়া, কুরআন পাঠ শুদ্ধ করা, একাডেমিক স্কিল বৃদ্ধি করা, নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এক্সেপশনাল কিছু মেইক করা, যেকোনো প্রকার হাতের বিদ্যা অর্জন করা এবং পারিবারিক বিভিন্ন কাজে সময় ব্যয় করা। এসব ভালো কাজের বিনিময়ে আল্লাহ মানুষকে অফুরন্ত সওয়াব দান করেন। আল্লাহ সঠিক বোঝার এবং সময়কে যথাযথ মূল্যায়ন করে ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য লাভ করার তওফিক দান করুন।