বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল

ড. সরকার আবদুল মান্নান

সাহিত্য

বাঙালি জীবনে বর্ষা সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে রহস্যময় এবং সবচেয়ে স্মৃতিজাগানিয়া ও প্রেমময় এক ঋতু। এই বর্ষার সঙ্গে কতভাবে যে আমাদের

2023-07-28T02:50:42+00:00
2023-07-28T02:50:42+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল
ড. সরকার আবদুল মান্নান
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩, ২:৫০ এএম 
বাঙালি জীবনে বর্ষা সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে রহস্যময় এবং সবচেয়ে স্মৃতিজাগানিয়া ও প্রেমময় এক ঋতু। এই বর্ষার সঙ্গে কতভাবে যে আমাদের জীবন জড়িয়ে আছে, তার ইয়ত্তা নেই।

বর্ষা জলমগ্ন এক ঋতু-চতুর্দিকে জল আর জল, আকাশে মেঘ, চারদিকে অন্ধকার, অবিরল বৃষ্টি, আর বজ্রধ্বনি। নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-পুষ্করিণী, ফসলের মাঠ-সর্বত্র জল আর জল। বৃষ্টিস্নাত বৃক্ষ তখন সবুজ, সতেজ, প্রাণময়। স্নিগ্ধ আর মাদকতাময় গন্ধ ছড়ায় বর্ষার ফুল। কদম, কেয়া, কামিনী, বেলি ও বকুলের গন্ধে তখন ম-ম চারপাশ।

স্পাইডার লিলি, দোলনচাঁপা, সুখদর্শন, ঘাসফুল, শাপলা, সন্ধ্যামালতি, গুলনার্গিস, দোপাটি ও অলকানন্দ ফুল ফোটে বনে-বাদাড়ে আদরে-অনাদরে। কিন্তু যে ফুল বর্ষাকে মাহিমামণ্ডিত করে তোলে, তার নাম কদম ফুল। বর্ষার শুরুতেই গাঢ় সবুজ কদম পাতার ফাঁকফোকর গলিয়ে কদম ফুল উঁকি দেয়। চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে কদম ফুলের গন্ধে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষাকে, কদম ফুলকে আর আমদের চিত্তকে মহিমাম-িত করে তুলেছেন চিরকালের একটি গানে ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।’ তারপর ফুটতে শুরু করে রজনীগন্ধা, মালতিলতা, চালতা, জুঁই ও কেয়া। 

বর্ষার বৃষ্টিতে চিরসবুজ চালতা গাছের রূপ ফুটে ওঠে তার ফুলের সৌন্দর্যে। আকারে বেশ বড়, সাদা বর্ণের পাপড়ি ও হলদে পরাগকেশরের সমাহারে দৃষ্টিনন্দন চালতা ফুল বর্ষার প্রথমভাগে ফোটে। আগের মৌসুমে ফোটা গন্ধরাজ, রঙ্গন, রক্তজবা, টগর, শ্বেতকাঞ্চন বা ঘণ্টাফুলের উজ্জ্বলতা ম্লান হয় না বর্ষায়ও। ভরা বাদল দিনে স্বর্ণচাঁপা কিংবা দোলনচাঁপা বাতাসে ছড়ায় অনুপম সৌরভ। এমন দিনে ভেজা বাতাসে ভেসে বেড়ায় বেলি ও বকুলের সৌরভ। বকুল ফুল শুকিয়ে গেলেও এর মিষ্টি গন্ধ রয়ে যায় অনেক দিন। তাই একে সুবাসিত ফুল বলা চলে। বর্ষার ফুলের মধ্যে জুঁই ও মালতির কথা ভোলা যায় না। এছাড়া গোলাপি, লাল, বেগুনি, আকাশি, নীল ও সাদাসহ কয়েক রঙের দোপাটি রয়েছে। দোপাটি একক অথবা জোড়ায় জোড়ায় ফুটতে দেখা যায়।

এ সময় সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দেয় বেগুনি রঙা কলমি ফুলও। সুখদর্শন বা টাইগার লিলি, বহুরঙা গ্লোরি লিলি, নানা রঙের পর্তুলিকা, ঘাসফুল, নয়নতারা, মোরগঝুঁটি, কলাবতী ও অলকানন্দারও দেখা মেলে ঘন বর্ষাতে। বর্ষা মানে জল, জল মানেই জলজ ফুলের মেলা। তাই বর্ষা আসতে না আসতেই ফুটতে শুরু করে শাপলা-শালুক আর পদ্মরা। বিল-পুকুর ও জলাশয়ে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা ফুটে থাকার দৃশ্য গ্রাম-বাংলার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। আমাদের দেশে সাদা, গাঢ় লাল, নীল ও গোলাপি রঙের শাপলা বেশি দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন বিলে এখন গোলাপি-পদ্মের মাতামাতি। সাদা রঙের পদ্মও মাঝেমধ্যে দেখা যায়। বর্ষার এই জলজ জীবন, এই ফুল, এই বৃক্ষ, মানুষের চির বিরহবোধ ও অসঙ্গলিপ্সা নিয়ে আমাদের সাহিত্যের বিপুল এক জগৎ তৈরি হয়েছে। বলা যায়, এ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সাহিত্যশাখা। এই সাহিত্যশাখার আদি গুরু সংস্কৃত ভাষার মহাকবি কালিদাস আর বাংলা ভাষার মহত্তম কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আবারও বলি, বর্ষায় বাঙালি জীবন হয়ে ওঠে জলের জীবন। এমন বর্ষায় অতি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সৃষ্টিশীল মানুষ, কবি, সাহিত্যিক-সবার হৃদয়ে জন্ম নেয় প্রেম আর অপ্রেমের বোধ, বৈরাগ্যবোধ, হারানোর কষ্ট এবং প্রাপ্তির আনন্দ। এই বর্ষায় নৈঃসঙ্গ্যে আর নিভৃতচারিতায় আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আসঙ্গলিপ্সা আর চিরকালের বিরহকাতরতা প্রবল হয়ে ওঠে। ফলে অনিবার্যভাবেই আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বর্ষা নানাভাবে উদ্ভাসিত। সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সাহিত্যে বর্ষা মূলত প্রেম আর বিরহের মধুরতম কষ্ট আর আনন্দ নিয়ে উপস্থাপিত হয়েছে। কালিদাসের ‘মেঘদূতম’ কাব্যই বুঝি আমাদের এই বর্ষাযাপনের ও আর বর্ষাবোধের প্রাচীনতম কাব্য।

রামগিরি থেকে হিমালয় পর্যন্ত প্রাচীন ভারতবর্ষের দীর্ঘ এক ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে বিরহকাতর যক্ষ প্রাণ ও অপ্রাণের ভেদাভেদ ভুলে আষাঢ়ের প্রথম দিনের মেঘকে বিরহিণী প্রেমাতুরা যক্ষপ্রিয়ার কাছে দূত হিসেবে প্রেরণের জন্য মনস্থির করেন। আর তার হৃদয়ের সকল আর্তি মেঘের কাছে নিবেদন করেন। সেই নিবেদনের মধ্যে বর্ষা আর প্রকৃতি এবং ভারতবর্ষের বিপুল এক ভৌগোলিক জীবনের চিত্র প্রাণময় হয়ে ওঠে। বাঙালি জীবনে বর্ষা যে কত বিপুল এক আয়োজন, তার প্রমাণ মিলে এই ‘মেঘদূত’ কাব্যের জনপ্রিয়তা ও তার অনুকরণ দেখে। সেই সময় পঞ্চাশের অধিক 

দূতকাব্য রচিত হয়েছিল মেঘদূত কাব্য অনুসরণে। পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা সাহিত্যকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল এই বর্ষাবন্দনা বা বর্ষাকাব্য। বিশেষ করে মধ্যযুগেই শুরু হয় বর্ষাকে কেন্দ্র করে বিরহবোধের এক অসাধারণ কাব্যধারা। পদাবলি সাহিত্যের মূলে যে বিরহবোধ রচিত হয়েছে, সেই বিরহ বোধকে বহুগুণে প্রভাবিত করেছে বর্ষা।

বিদ্যাপতি লিখেছিলেন, ‘এ ভরা বাদর মাহ ভাদর/ শূন্য মন্দির মোর।’ আর সেই মধ্যযুগেই লেখা হয়েছে, ‘রজনী শাঙন ঘন/ ঘন দেয়া-গরজন/ রিমিঝিমি শবদে বরিষে/। পালঙ্কে শয়ান রঙে বিগলিত চির অঙ্গে/ নিন্দ যাই মনের হরিষে।’

বাংলা সাহিত্যে বর্ষাবন্দনার এই ধারা দীর্ঘদিন অব্যাহত ছিল। কেননা বাঙালি জীবনে বর্ষা যে বিপুল আয়োজন ও অভিনবত্ব নিয়ে এবং চির নতুন ও চির পুরাতন স্বরূপে আবির্ভূত হয়, তা আর পৃথিবীর কোথাও লক্ষ করা যায় না। ইংল্যান্ডে বৃষ্টি আছে কিন্তু বর্ষা নেই। পুরো পাশ্চাত্যে প্রকৃতি সব সময় মুখ ভার করে থাকে। কিন্তু এই ভারতবর্ষের এই বাংলায় প্রকৃতি চিরকাল ভিন্ন এক রূপে, রসে, ঐশ্বর্য, কোলাহলে ও আনন্দে আবির্ভূত হয়।ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পাওয়া যায় আকাশ মেঘে ঢাকা। কোথাও আলো নেই। আকাশের চেহারা দেখে ঘুম থেকে ওঠা ঘুম আর জাগরণের সে অবস্থায় আমরা বুঝতেই পারি না, সময়টা কি সকাল নাকি সন্ধ্যা। এ ভুল হওয়া নিতান্ত স্বাভাবিক। কারণ তখন সকাল আর বিকালের মধ্যে ব্যবধান ঘুচে যায়। তারপর দেখা যায়, আকাশ থেকে আঝোরে বৃষ্টির ধারা নেমে আসছে। 

তার পরেও সময়ের বিপুল ব্যবধানে প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তাতে করে এই বর্ষায় প্রাচীন সেই ভারতের, কালিদাসের সেই ভারতের কিংবা পদাবলি সাহিত্যের সেই ভারতের অনেক রহস্য, সৌন্দর্য আর মোহময়তা থেকে আমরা বঞ্চিত। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘রামগিরি হইতে হিমালয় পর্যন্ত প্রাচীন ভারতবর্ষের যে দীর্ঘ এক খণ্ডের মধ্য দিয়া মেঘদূতের মন্দাক্রান্তা-ছন্দে জীবনস্রোত প্রবাহিত হইয়া গিয়াছে, সেখানে হইতে কেবল বর্ষাকাল নহে, চিরকালের মতো আমরা নির্বাসিত হইয়াছি। সেই যেখানকার উপবনে কেতকীর বেড়া ছিল এবং বর্ষার প্রাক্কালে গ্রামচৈত্যে গৃহবলিভুক পাখিরা নীড় আরম্ভ করিতে মহাব্যস্ত হইয়া উঠেছিল এবং গ্রামের প্রান্তে জম্বুবনে ফল পাকিয়া মেঘের মতো কালো হইয়াছিল সেই দশার্ণ কোথায় গেল। আর সেই যে অবন্তীতে গ্রামবৃদ্ধা উদয়ন এবং বাসবদত্তার গল্প বলিত তাহারাই বা কোথায়।’

ফলে অনিবার্যভাবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের বর্ষাকে নতুন তাৎপর্যে অভিষিক্ত করে তোলেন। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগীতের যে জগৎ, সেখানে তিনি বর্ষাকে প্রেমে, বিরহে, একাকিত্বে, নৈঃসঙ্গ্যে, আনন্দে, কাতরতায় এমন এক রূপ দান করেছেন, যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এছাড়া তার কবিতায়, স্মৃতিগদ্যে, নাটকে, চিত্রনাট্যে, গল্পে, উপন্যাসে, চিঠিপত্রে বর্ষা কতভাবে যে উপস্থাপিত হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। মানবজীবনের চির বিরহের কথা উল্লেখ করে বৈষ্ণব কবি গেয়েছিলেন ‘দুহুঁ কোলে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষার গানের মধ্যে এই বিচ্ছেদ, এই বিরহবোধ গভীর এক জীবনাদর্শে মূর্ত হয়ে উঠেছে।

তিনি লিখেছেন, ‘আমরা প্রত্যেকে নির্জন গিরিশৃঙ্গে একাকী দণ্ডায়মান হইয়া উত্তরমুখে চাহিয়া আছি-মাঝখানে আকাশ এবং মেঘ এবং সুন্দরী পৃথিবীর রেবা-সিপ্রা, অবন্তী-উজ্জয়িনী, সুখ-সৌন্দর্য-ভোগ-ঐশ্বর্যের চিত্রলেখা; যাহাতে মনে করাইয়া দেয়, কাছে আসিতে দেয় না; আকাক্সক্ষার উদ্রেক করে, নিবৃত্তি করে না। দুটি মানুষের মধ্যে এতটা দূর।’ আর এই জীবনাদর্শের আলোকে এবং চিরকালের বাউল বাঙালি মনের একাকিত্বের বোধ নিয়ে তিনি রচনা করেছেন কালজয়ী অসংখ্য গানে ও কবিতায়। এছাড়া দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘যখন সঘন গগন গরজে বরিষে কড়কা ধারা’, ‘বরষা আইল ওই ঘন ঘোর মেঘে’, অতুল প্রসাদের ‘বধূ এমন বাদলে তুমি’, ‘মেঘেরা দল বেঁধে যায়’, ‘বঁধূয়া নিদ নাহি আঁখি পাতে’, রজনীকান্তের ‘প্লাবিত গিরিরাজ-নগর’, গানগুলো আমাদের মধ্যে বর্ষাবোধের চিরকালের আবেদন তৈরি করে।  বিশেষ করে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে বর্ষা এসেছে বিচিত্র আবেগের প্রখরতা নিয়ে। সেই আবেগ কখনো প্রেমের, কখনো বা বিষাদ ও বিরহের।

‘চক্রবাক’ কাব্যের ‘বর্ষা বিদায়’ কবিতায় কবি লিখেছেন, ‘ওগো বাদলের পরী।/ যাবে কোন দূরে, ঘাটে বাঁধা তব কেতকী পাতার তরী।/ ওগো ও ক্ষণিকা, পুব-অভিসার ফুরাল কি আজি তব?/ পহিল ভাদরে পড়িয়াছে মনে কোন দেশ অভিনব?’ এছাড়া ‘আজি এ বাদল দিনে কত কথা মনে পড়ে।/ হারাইয়া গেছে পিয়া এমনি বাদল-ঝড়ে/ আমারি এ বুকে থাকি/ ঘুমাত সে ভীরু পাখি,/ জলদ উঠিলে ডাকি/ লুকাত বুকের ’পরে।’ এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘যদি মন কাঁদে,/ তুমি চলে এসো, চলে এসো, এক বরষায়/ এসো ঝর ঝর বৃষ্টিতে, জল ভরা দৃষ্টিতে/ যদি কোমলও শ্যামলও ছায়’ গানটি বর্ষাসংগীত হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভে করে। তিরিশের দশক থেকে আমাদের সাহিত্যে বর্ষা নিয়ে উল্লেখযোগ্য তেমন গান বা কবিতা রচিত হয়নি।

এর কারণ হলো, বাঙালি জীবনে বর্ষা নিয়ে যত অনুভবপুঞ্জ আছে তার প্রায় প্রতিটি কোটরে ফুল ফুটিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এখনও বর্ষা নিয়ে নতুন করে ভাববার, নতুন কিছু বলার, নতুন কোনো ব্যঞ্জনা তৈরি করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার পরেও আমাদের অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক ও গীতিকারগণ বর্ষা নিয়ে কবিতা লিখেছেন, গল্প-উপন্যাস লিখেছেন, গান লিখেছেন এবং বাঙালি জীবনে বর্ষার চিরায়ত আবেদন মূর্তমান করে তুলেছেন।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: