ডানার আকাশে বিশ্বায়নের বিমান

তৌহিদুজ্জামান সোহান

আন্তর্জাতিক

পাখির আকাশ দখল করে রেখেছে বিশ্বায়নের উড়োজাহাজ। যে নীল আকাশজুড়ে হওয়ার কথা ছিল মুক্ত বিহঙ্গের অবাধ বিচরণ, সে আকাশ আজ

2024-12-30T02:20:02+00:00
2024-12-30T02:20:02+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ডানার আকাশে বিশ্বায়নের বিমান
তৌহিদুজ্জামান সোহান
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ২:২০ এএম   (ভিজিট : ৪৪৯)
ডানার আকাশে বিশ্বায়নের বিমান
পাখির আকাশ দখল করে রেখেছে বিশ্বায়নের উড়োজাহাজ। যে নীল আকাশজুড়ে হওয়ার কথা ছিল মুক্ত বিহঙ্গের অবাধ বিচরণ, সে আকাশ আজ বিকট শব্দে উড়ে চলা বিভিন্ন এয়ারক্রাফটের দখলে। কেননা বিশ্বায়নের এ যুগে উড়োজাহাজের বিকল্পে খুব বেশি আগ্রহী নন বিশ্বনেতারা।

তাই তো প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেএকের পর এক বিমান। রোববার দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দুজন বাদে ১৮১ জনের ভেতর ১৭৯ জন যাত্রীই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও দুজনকে নিখোঁজ বলে উল্লেখ করছে স্থানীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ। সে হিসাবে ১৭৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে ক্ষতিগ্রস্ত ওই বিমানে থাকা এক যাত্রী তার পরিবারের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। যেখানে উল্লেখ ছিল, বিমানের ডানায় পাখি আটকে আছে। রোববার দেশটির সংবাদমাধ্যম কোরিয়া হেরাল্ড এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মেসেজপ্রাপ্ত ওই আরোহীর পরিবারের এক সদস্য জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় মেসেজ পান ক্ষতিগ্রস্ত বিমানে থাকা ওই যাত্রীর। তিনি নিশ্চিত করেন এই মেসেজ পাওয়ার পর আর ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

মেসেজের বিষয়ে ওই যাত্রীর আত্মীয়ের ভাষ্য, মেসেজে ওই আরোহী লেখেন-‘ডানায় একটি পাখি আটকে আছে। আমরা ল্যান্ড করতে পারছি না। এটা এখনকার ঘটনা। মারা যাওয়ার আগে আমি কি আমার শেষ কথাগুলো বলে যাব?’ তবে উল্লেখিত যাত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় জেজু এয়ারের উড়োজাহাজটির মতো এমন মর্মান্তিক ঘটনা আরও ঘটেছে বিশ্বজুড়ে। বার্ড স্ট্রাইক তথা পাখির আঘাতে ঘটেছে বহু দুর্ঘটনা। ইতিহাসে বিমানের সঙ্গে প্রথম পাখির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ১৯০৫ সালে। ঘটনাটি রেকর্ড করেন আরভিল রাইট। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি ধানক্ষেতের ওপর ঘটেছিল। ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বিমান ও পাখির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, বিমানের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষ এখন একটি নিয়মিত ঘটনা।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিমানের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষ ঘটে, কারণ পাখিরা বিমান এবং বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকার প্রতি আকৃষ্ট হয়। বর্ষাকালে যখন খোলা মাঠে পানি জমে তাতে পোকামাকড়ের প্রজননস্থল তৈরি হয় এবং এতে পাখির উপস্থিতি বাড়ে। এ ছাড়া পাখিরা একে দেশ থেকে অন্য দেশেও পাড়ি জমায়। তখন তারা অনেক সময় বিমান চলাচলের আকাশপথের রুটে চলে আসে। পাখিরা সাধারণত ঝাঁকবেঁধে চলে, ফলে সংঘর্ষের সময় একাধিক আঘাতের ঘটনা ঘটে।
ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত পাখি-উড়োজাহাজ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ২০০৯ সালে। ওই বছর ইউএস এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ১৫৪৯ নিউইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই একঝাঁক পরিযায়ী কানাডিয়ান রাজহাঁসের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। বিমানটির দুটি ইঞ্জিনই নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্যাপ্টেন সুলি সুলেনবার্গার হাডসন নদীতে বিদ্যুৎবিহীন অবতরণ করতে বাধ্য হন।

১৯৬০ সালের অক্টোবরে পাখির আঘাতে একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে অনেক মানুষ হতাহত হয়। পূর্বাঞ্চলীয় এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের মাত্র ২০ সেকেন্ড পর পাখির আঘাতে এর ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। বিমানটি শক্তি হারিয়ে বস্টন হার্বারে পড়ে। এতে ৭২ জন যাত্রীর মধ্যে ৬২ জন নিহত হন। ১৯৮৮ সালে আরও একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ইথিওপীয় এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ বিমানটির ইঞ্জিনে একাধিক পাখি আঘাত হানে। বিমানটি ইথিওপিয়ার বাহির দার থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হলে ১০৪ জন যাত্রীর মধ্যে ৩৫ জন নিহত হন।

তবে এই পাখির আঘাত কি আদৌ ঠেকানো সম্ভব এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো-পুরোপুরি না হলেও কিছুটা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে রাডার ব্যবহার করে পাখির ঝাঁক চিহ্নিত করার পর পাইলটরা তাদের যাত্রাপথ পরিবর্তন করে পাখির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে পারেন। তবে যে নীল আকাশ পাখিদের অবাধ উড্ডয়নক্ষেত্র সেখানে বড় বড় বিমানের অনুপ্রবেশে দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকেই যাবে।

তাই তো পরিবেশবাদীরা পাখিদের জন্য নিরাপদ অভিবাসন করিডোর তৈরির কথা বলেন। এটি এমন একটি পরিবেশের নেটওয়ার্ক যেখানে সাধারণ অভিবাসন পথ চিহ্নিত করে পাখিদের জন্য খাদ্য, পানি এবং বিশ্রামের স্থান সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরগুলোয় বিশেষ প্রযুক্তি যেমন সাউন্ড বা লাইট সিস্টেম ব্যবহার করে পাখিদের সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বন্দরে যেন পাখিদের আকৃষ্ট করে এমন খাবার বা ময়লা জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। বিমান কর্মীদের পাখি সম্পর্কিত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং বিমান পরিচালনার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপরও জোর দিতে হবে।

সময়ের আলো/আরএস/ 






Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: