গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর অস্বাভাবিক হারে শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেন তখন বিশ্বব্যাপী হইচই পড়ে যায়। তখন জানানো হয়েছিল মার্কিন বাজারে পণ্য রফতানি করতে বাংলাদেশকে ৩৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এ খবরে দেশের রফতানিকারকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। দেশের রফতানি বাণিজ্যে হঠাৎই চরম সংকট দেখা দেয়। ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় চীন ছাড়া অন্যান্য দেশের ওপর বর্ধিত ওই শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
তার এ ঘোষণায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন দেশের রফতানিকারকরা। এর পর থেকে চীনের ওপর যেমন মার্কিন শুল্কের বোঝা আরও বাড়িয়ে ১৫০ শতাংশের ওপরে নেওয়া হয়েছে, আবার চীনও পাল্টা মার্কিন পণ্যের শুল্ক বাড়িছে প্রায় একই হারে। দেশ দুটির এই শুল্কের লড়াই বা বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে সংকট এখন সম্ভাবনা হয়ে দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের সামনে। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি আরও বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে এখন। যেমন সুযোগ তৈরি হয়েছিল ২০১৮ সালে।
২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার এক বছরের মাথায় চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই সময় বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মার্কিন বাজারে চীনের রফতানি বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগে। যে ধাক্কার প্রভাবে ২০১৮ থেকে ২০২৪-এ সাত বছরে মার্কিন বাজারে চীনের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে ৩৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বছরে ২৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি নেমে এসেছিল ১৬ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ সাত বছরে মার্কিন বাজারে চীনের পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় ১০ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলারের।
এই যে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল অঙ্কের পোশাক রফতানি বাজার হারাল চীন, সেই পোশাক তো মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য দেশগুলো থেকে নিয়েছে। যেমন বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ভারত এবং পাকিস্তান থেকে পোশাক কেনা বাড়িয়ে দিয়েছিল আমেরিকা। পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, গত সাত বছরে মার্কিন বাজারে ৪০ শতাংশ পোশাক রফতানি কমেছিল, অথচ এ সাত বছরে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন বাজারে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ ছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভিয়েতনামের বেড়েছে ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ। তবে এ সাত বছরেমার্কিন বাজারে পোশাক রফতানিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার। মার্কিন বাজারে দেশ দুটির পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি যথাক্রম ৫৮ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়ে চীনের সঙ্গে যে শুল্কযুদ্ধ শুরু করেছিলেন তার সুফল পেয়েছিল বাংলাদেশসহ প্রতিযোগী অন্য দেশগুলোও।
২০১৮ সালের চেয়েও এবার আরও কঠোরভাবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই এবারের এ বাণিজ্যযুদ্ধের সুফল অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও লাভবান হবে বলে মনে করছেন দেশের পোশাক শিল্প মালিক এবং অর্থনীতিবিদরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচরার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত ২ এপ্রিল যখন বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের ওপর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন, তখন আমরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম বাংলাদেশের পোশাক খাত নতুন করে সংকটে পড়ল। কারণ একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সর্ববৃহৎ বাজার হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এক সপ্তাহ পর যখন চীন ছাড়া অন্য দেশের ওপর বর্ধিত শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন ট্রাম্প তখন আমাদের মনে হয়েছিল, মাথা থেকে বড় একটি বোঝা নেমে গেল। আমরা মনে করছি, সংকট এখন আমাদের সামনে সুফল হয়ে দেখা দিয়েছে। চীনের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের সুফল আমরা অবশ্যই পাব।
তবে আমরা মনে করি, এ সুযোগ ঠিকমতো কাজে লাগাতে হলে মার্কিন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ভালো নেগোসিয়েশন করতে হবে। তারা যেসব বিষয়ে উন্নতি করতে বলছে বা বাংলাদেশ সরকারের তরফে কিছু কাজ করে দেখানোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো করতে হবে। তবেই আমরা ভালো সুবিধা নিতে পারব। বিশেষ করে যদি বাণিজ্য গ্যাপ কমাতে পারি, ট্যারিফ স্ট্রাকচার ঠিক করতে পারি, তাদের কাঁচামাল এসে শুল্ক সুবিধা নিয়ে যদি সে দেশে রফতানি বাড়াতে পারি তা হলে অবশ্যই বাংলাদেশ এ বাণিজ্যযুদ্ধের সুফল পাবে।’
তিনি আরও বলেন, চীন থেকে ছুটে যাবে প্রায় ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আদেশ। এর বড় একটি আদেশ আসবে আমাদের দেশে। এ ছাড়া চীন আস্তে আস্তে কম দামের পোশাক তৈরি থেকে সরে আসছে। এর ফলে শুধু যে মার্কিন বাজারেই আমাদের পোশাক রফতানি বাড়বে তা নয়, চীনের বাজারেও আমাদের পোশাক রফতানি বাড়বে। কারণ চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্যও কম দামের পোশাক দরকার হবে। এ জন্য চীনের বাজারেও আমাদের পোশাক রফতানি বাড়বে। আর চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ২০-২৫ শতাংশ রফতানি বাড়বে মার্কিন বাজারে।
বর্তমানেও মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের: মার্কিন বাজারে বর্তমানে তৈরি পোশাক রফতানিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে বাংলাদেশের। গত জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। এ হার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ ১০ রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য বলছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধান রফতানিকারক দেশ চীনের রফতানি বেড়েছে ৯ শতাংশেরও কম। ভিয়েতনামের বেড়েছে ১১ শতাংশ। ভারতের বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। পাকিস্তানের পোশাকের রফতানি বেড়েছে ২৩ শতাংশ হারে। তবে রফতানি আয়ের অঙ্কে চীন ও ভিয়েতনামের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। চীনের রফতানির পরিমাণ ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ভিয়েতনামের ২৬৩ কোটি ডলারের মতো। বাংলাদেশের রফতানি আয় ১৫০ কোটি ডলার। ভারত ও পাকিস্তানের রফতানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯৬ কোটি ডলার ও ৩৬ কোটি ডলার।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৪৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র মোট ১২৭ কোটি ডলারের শুল্ক আদায় করে। সেই হিসাবে বাংলাদেশি পণ্যে গড় শুল্ক ১৫ শতাংশ। গত বছর বাংলাদেশ থেকে ৭১৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আদায় করে ১২০ কোটি ডলার। তাতে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকে গড় শুল্ক হচ্ছে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
আমেরিকায় যেসব পণ্য যায় বাংলাদেশ থেকে : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের পণ্য রফতানি হয়েছে। তবে এগুলোর মাঝে বেশিরভাগই পোশাক। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে আছে লেদারের ব্যাগ, পাটজাত পণ্য, জুতা, সাইকেল, কৃষি ও খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক পণ্য ইত্যাদি। বাংলাদেশে কুচিয়া বা ইল তেমন জনপ্রিয় নয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই গত কয়েক মাসে এক মিলিয়ন ডলারের বেশি ইল মাছ রফতানি হয়েছে। অন্যান্য পদের মাছসহ প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি ও কাঁকড়াও রফতানি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
কৃষি ও খাদ্যপণের মধ্যে রয়েছে- মাখন, মধু, কুমড়া, মটরশুঁটি, বাদাম, চা, মসলা, ময়দা, ভুট্টা, সরিষা, ঔষধি উদ্ভিদ, নারিকেল, আখের চিনি, পাস্তা, আলু, টমেটো, তামাক ইত্যাদি। এর বাইরে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সোডিয়াম সালফেট, বোরিক অ্যাসিড, সুগন্ধি, সাবান, শ্যাম্পু, মোমবাতি, কাগজসহ অনেক কিছু পাঠানো হয়। বিভিন্ন প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য- বোতল, ফ্লাস্ক, সাইকেল, দরজা, র্যাক ইত্যাদিও রফতানি হয়।
বাংলাদেশ যেসব পণ্য আনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে : ‘ইউনাইটেড স্টেটস সেন্সাস ব্যুরো’ বলছে, জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ এবং ফেব্রুয়ারিতে এনেছে মাত্র ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ দুই মাসের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে মোট ২৯০ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ পণ্য রফতানি করতে পেরেছে। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শুধু জানুয়ারি মাসেই এ দুই দেশের মাঝে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৭০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি এনেছে সয়াবিন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা এ সয়াবিনের মূল্য প্রায় ১০৬ মিলিয়ন ডলার। এরপরই হলো ৩৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের স্ক্র্যাপ লোহা বা লোহার টুকরা এবং ২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চাল।
ট্রেডিং ইকোনমিক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ৬৫৮ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের লোহা ও স্টিল রফতানি করেছে। দেশটি থেকে বাংলাদেশ আরও অনেক পণ্য আমদানি করলেও ওই বছর লোহা ও স্টিলই বেশি এনেছে। এরপরের স্থানে আছে তৈলবীজ, তেলজাতীয় ফল, শস্য, বীজ ও ফল। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে তিনশ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের এসব পণ্য কিনেছে বাংলাদেশ।
অন্যান্য পণ্যের মাঝে রয়েছে- জৈব রাসায়নিক, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, পশুখাদ্য, খাদ্যের অবশিষ্টাংশ, যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক চুল্লি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, বিমান, জাহাজের কাঠামো, উড পাল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, পারফিউম, প্রসাধনী, হুইস্কি, গাড়ি, বাদাম, ডিম, সাবান, মোম, পাখির চামড়া ও পালক, মানুষের চুল ইত্যাদি।
এ ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে থেকে লবণ, সালফার, পাথর, সিমেন্ট, রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, তামাক, বই, খেলনা, অ্যালুমিনিয়াম, সার, কফি, বাদ্যযন্ত্র, সিরামিকের তৈরি পণ্য, জিংক, কপারসহ আরও নানা ধরনের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ।
কী বলছেন বিশ্লেষকরা : এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সময়ের আলোকে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে চীন-মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশ লাভবান হবে বা এর সুফল পাবে। কারণ চীনা পণ্যে এবং ভিয়েতনামের পণ্যে মার্কিন সরকার উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। এতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ এখন মার্কিন বাজারে তুলনামূলক সুুবিধাজনক অবস্থায় আছে। হ্যাঁ, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই- এ মুহূর্তে বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। চীন এবং ভিয়েতনাম থেকে রফতানি আদেশও হয়তো বাংলাদেশে আসবে। তবে আমি বলব, এই ধরনের শুল্কযুদ্ধের ক্ষেত্রে দুটি দিক থাকে। প্রথমত, এ ধরনের শুল্ক যুদ্ধ খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নিজেদের স্বার্থেই দেশগুলো বাণিজ্য সমঝোতায় যাবে। সেটি মার্কিন স্বার্থেও হতে পারে এবং চীন বা ভিয়েতনামের স্বার্থেও হতে পারে। সুতরাং স্বল্পকালীন সুবিধা হয়তো বাংলাদেশ পেতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা পাবে বলে আমার মনে হয় না।
আর বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সময়ের আলোকে বলেন, ‘সুযোগ তো সবার আসে, সুযোগ নিতে জানতে হবে। মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে আমাদের পোশাক রফতানি বাড়ানোর যথেষ্ট ভালো সুযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে যে বাণিজ্যযুদ্ধ করেছিল চীনের সঙ্গে তখন দেশটিতে চীনের পোশাক রফতানি ছিল ২৭-২৮ বিলিয়ন ডলার, সেটি এখন ১৬ বিলিয়নে নেমেছে। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ কমেছে। এগুলো ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে এসেছে। চীনের শুল্ক বহাল থাকলে আবারও সুবিধা পাবে এসব দেশ। এর সুফল বেশি বাংলাদেশের পাওয়ারই সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশ সরকারকে কিছু কাজ করে দেখাতে হবে। প্রথমত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাধা দূর করতে হবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চাচ্ছে তারা, সেটি করতে হবে। তুলা আমদানি বাড়াতে হবে আমেরিকা থেকে। রফতানিও বাড়বে, ঘাটতিও কমবে। এ ধরনের পদক্ষেপগুলো নিতে। তাদের নন-কটনের বাজার আমরা ধরতে পারি। ট্র্যাডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি দামি পোশাকও রফতানি করতে পারি।