দীর্ঘদিন ধরে কাশির সমস্যায় ভুগছেন? বিশেষ করে মৌসুম বদলের এই সময়ে গলাব্যথা, খুসখুসে কাশি সাধারণ সমস্যা। অনেকে অ্যালার্জির ওষুধ, কাশির ওষুধ খাচ্ছেন; কিন্তু পুরোপুরি সারছে না।
দীর্ঘদিনের খুসখুসে কাশি একটি বিরক্তিকর সমস্যা। দীর্ঘস্থায়ী কাশি থেকে ঘুম ব্যাহত হতে পারে, ক্লান্তিবোধ থাকতে পারে। এ ছাড়া গুরুতর ক্ষেত্রে বমি, হালকা মাথাব্যথা এবং বুকে ব্যথা হতে পারে।
চিকিৎসা ও ঘরোয়া সমাধান
দীর্ঘদিনের কাশি নিরাময়ে চিকিৎসকের পরামর্শে কফ সিরাপ (কফের প্রকারভেদে কফ সাপ্রেসেন্ট অথবা এক্সপেক্টোরেন্ট দেওয়া হয়), অ্যান্টিহিস্টামিন, কর্টিকোস্টেরয়েড, ডিকনজেস্ট্যান্ট ইনহেলার, অ্যাসিড ব্লকার বা ওমেপ্রাজল সেবন করতে পারেন।
প্রচুর পানি বা জুস পান করুন। অতিরিক্ত তরল সেবনে শ্লেষ্মা পাতলা হবে, যা কাশি কমাতে সাহায্য করবে। চা, স্যুপ, কুসুম গরম পানি আপনার গলাকে আরাম দেবে।
মধু দীর্ঘমেয়াদি কাশির জন্য কার্যকর চিকিত্সা। গরম চা, আদা চা বা আঙুরের রসে মধু যোগ করে প্রতিদিন অল্প করে খান।
যদি অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকে, তবে ঘুমানোর দু–তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন। অতিরিক্ত ভোজন, ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন। ওজন কমানো গেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেক কমে যায়। ঘুমানোর সময় অতিরিক্ত বালিশ দিয়ে মাথা উঁচু করে ঘুমান।
শ্বাসনালির আর্দ্রতা বজায় রাখতে বাসায় হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন এবং গরম পানি ব্যবহার করুন।
ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করুন।
ধোঁয়া, ধুলো এড়িয়ে চলুন। ধুলাবালুতে কাশি হলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ঝুল ঝাড়া ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।
ঠান্ডায় সমস্যা হলে গোসলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। খুব ঠান্ডা পানি খাবেন না।
গলা পরিষ্কার করতে এবং শ্লেষ্মা থেকে মুক্তি পেতে কুসুম গরম পানি লবণ দিয়ে কুলকুচি করুন।
নানা রঙের ফল এবং ফাইবার, ফ্ল্যাভোনয়েড–সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘস্থায়ী উত্পাদনশীল কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
আপনি এবং আপনার শিশু হুপিং কাশি (পারটুসিস) টিকা পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করুন।
সময়ের আলো/এআর