কেন ১০ হাজার নতুন পুলিশ নিয়োগ দেওয়া গেল না

নিজস্ব প্রতিবেদক

খবর

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, দলীয় ভাবধারার যে প্রশাসন তৈরি হয়েছে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে, সেই দলীয় ভাবধারার

2025-12-28T05:28:33+00:00
2025-12-28T05:28:33+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
খবর
কেন ১০ হাজার নতুন পুলিশ নিয়োগ দেওয়া গেল না
মাহমুদুর রহমানের প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৮ এএম   (ভিজিট : ৮৮)
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, দলীয় ভাবধারার যে প্রশাসন তৈরি হয়েছে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলে, সেই দলীয় ভাবধারার প্রশাসন কি এই সরকার মুক্ত করতে পেরেছে, ক্লিন করতে পেরেছে? আমার মনে হয় পারেনি। যদি না পেরে থাকে তা হলে ওই দলীয় ভাবধারার প্রশাসন দিয়ে কীভাবে একটা ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল নির্বাচন করবে? এটা আমার প্রশ্ন একজন নাগরিক হিসেবে, একজন ভোটার হিসেবে। অনেকগুলো কাজ করতে পারত এই সরকার, যেটা করেনি। অন্তত দেড় বছর সময় পেয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে শর্ট ট্রেনিং দিয়ে কেন ১০ হাজার নতুন পুলিশ নিয়োগ দেওয়া গেল না, এর জবাব আমার জানা নেই। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স ও ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটি আয়োজিত ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি নিজে পাঁচ বছর সরকারে ছিলাম। সরকারের নিয়ম-কানুন জানি এবং তাতে আমি মনে করি এটা সম্ভব ছিল। একটা শর্ট ট্রেনিং দিয়ে ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল এবং এসআই পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া সম্ভব ছিল। হয়তো অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বা স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার করা ডিফিকাল্ট হতো। কিন্তু এসআই পর্যন্ত নিয়োগ না দেওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না।

তিনি বলেন, আমি যদি পুলিশ নিয়োগ দিতে পারতাম, সেখানে হয়তো অনেক জুলাই যোদ্ধা যোগদান করতেন। এবং সেই প্রশাসন এই জুলাই বিপ্লবটাকে ওন করত এবং বিপ্লবটাকে যেহেতু তারা ওন করত, সেই কারণে তারা একটা ক্রেডিবল নির্বাচনের জন্য কাজ করত। ইউনূস সাহেবরা এটা বুঝলেন না কেন? আমি বুঝতে পারি না।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তো আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের হাদিকে টার্গেট কিলিং কে করল? যে গুলি করল সে তো আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর একজন। বুলেটটা তো তার কাছে ছিল। নির্দেশ এসেছে ওপার থেকে, কিন্তু বুলেটটা তো ছিল আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে। আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী কী করতে পারে, এটা আমরা এনসিপির ছেলেদের গোপালগঞ্জের ঘটনার মাধ্যমে দেখেছি। গোপালগঞ্জের ঘটনার যে পুনরাবৃত্তি হবে না নির্বাচনের সময়, তার কী গ্যারান্টি আছে? এই আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীকে কীভাবে ট্যাকল করবে এই সরকার, তার কোনো প্ল্যান আছে কি না আমার তো সন্দেহ হয়।

তিনি বলেন, ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলা করা হলো বাংলাদেশের জন্য অন্যতম এক চ্যালেঞ্জ। তারা চায় না বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। আমি অনেকবার বলেছি এটা নিয়ে অনেক সময় জুলাই যোদ্ধারা আমাকে ভুল বুঝেছে। আমি বলতাম যে বাংলাদেশে একটা ফ্রি-ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তাই ভারত চায় না বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। এটা বললে সবাই অবাক হয়ে যেত আপনি এটা কি বলছেন! আমি বলছি, নির্বাচন হয়ে গেলে এবং সত্যি সত্যি যদি জনগণের অভিপ্রায় এতে প্রতিফলিত হয়, তা হলে পরে সেই সরকারের সময় বাংলাদেশে ভারতীয় অপকর্মগুলো করা কঠিন হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিকভাবেও ভারত এর মধ্যে চাপে পড়বে। কাজেই বাংলাদেশে যদি একটা অস্থিরতা থাকে, তা হলে ভারতের জন্য সুবিধা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমকে আমরা বলি দেশের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের বিরাট ভূমিকা আছে যেকোনো দেশের গণতন্ত্রকে সুসংগত করার ব্যাপারে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। আমি এই ফোরাম থেকে এই অ্যালায়েন্সকে অনুরোধ করব তারা যেন গণমাধ্যমের সঙ্গে ডায়লগটা সম্পূর্ণভাবে খোলা রাখেন এবং তাদের বুঝিয়ে বলেন, যে এই নির্বাচনটা কত গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। দেশপ্রেম থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলীয় যেকোনো রকমের ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত হয়ে গণমাধ্যম তাদের ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছি। বিশেষ করে গণমাধ্যমের এক্সিট পোল। এক্সিট পোল রিপোর্ট করার ব্যাপারে সাবধান থাকবেন। কারণ আপনারা যেভাবে এক্সিট পোলকে রিপোর্ট করবেন সেটা কিন্তু নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।

তিনি বলেন, বিদেশি শক্তিরা কিন্তু আমাদের সমস্যা তৈরি করে। বিশেষ করে একটি বিশেষ বিদেশি শক্তি। এই গুপ্তহত্যার যে কালচার বা সংস্কৃতি এবং তার ফলে আমরা শুনছি কেউ কেউ গান নেবেন, লাইসেন্স দেবে সরকার। আমরা ভোটাররা কি করব? আমরাও তা হলে একটা করে লাইসেন্স চাইব যে, ভোট দিতে যাওয়ার সময় যেন ওখানে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে না যাই। আমি যেন সেলফ ডিফেন্স করতে পারি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভুঁইয়া, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। এ ছাড়া আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরীন সুলতানা মিলি ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার শুরুতে বিপ্লবী শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির জীবনী পাঠ করে তার শাহাদত কবুলের জন্য এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় চেয়ে দোয়া করা হয়।



Loading...
Loading...
খবর- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: