তিনি বলতেন, যেকোনো সময় আমি খুন হতে পারি : মুছাব্বিরের স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

অনেক সময়ই তিনি বলতেন, তার জীবনে হুমকি রয়েছে-যে কোনো সময় তাকে খুন করা হতে পারে। এমনটাই জানান গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক

2026-01-08T14:39:12+00:00
2026-01-08T14:47:44+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
তিনি বলতেন, যেকোনো সময় আমি খুন হতে পারি : মুছাব্বিরের স্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম  আপডেট: ০৮.০১.২০২৬ ২:৪৭ পিএম
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির। সংগৃহীত ছবি
অনেক সময়ই তিনি বলতেন, তার জীবনে হুমকি রয়েছে-যে কোনো সময় তাকে খুন করা হতে পারে। এমনটাই জানান গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসব কথা বলেন তিনি। 

সুরাইয়া বেগম বলেন, মুছাব্বির খুব ভালো মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক মামলা ছাড়া কারও সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তার এই ভালো হওয়াটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, মুছাব্বির মাঝে মাঝেই বলতেন, তার জীবনের হুমকি রয়েছে এবং যে কোনো সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে কার কাছ থেকে এসব হুমকি আসছে, তা তিনি কখনো স্পষ্ট করে বলেননি। তার বিরুদ্ধে শতাধিক রাজনৈতিক মামলা ছিল। পশ্চিম কারওয়ান বাজারের গার্ডেন ভিউ এলাকায় তাদের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি পাঁচবার কারাভোগ করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পান মুছাব্বির।

জামিনে বের হওয়ার পর তিনি কারওয়ান বাজারের বাসায় থাকাকে নিরাপদ মনে করতেন না। পরে পরিবার নিয়ে মেরাদিয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ইন্টারনেট ও পানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুছাব্বিরের বাবা খলিলুর রহমান। তার সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

কারা তাকে হত্যা করতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে সুরাইয়া বেগম বলেন, এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারিনি। তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রু ছিল না। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় তার কাছে দুটি মোবাইল ফোন ছিল, কিন্তু ফোন দুটি পাওয়া যায়নি। শেষ কলের তথ্য বের করলে অনেক কিছু জানা যেতে পারে। আমরা তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছি। এখন পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করবে।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেশৈন্যু মারমা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় নাম না জানা ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মুছাব্বিরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. আয়শা পারভীন ময়নাতদন্ত করেন।

এর আগে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হায়দার আলী মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতের পেটের ডান পাশে আধা ইঞ্চি পরিমাণ একটি ছিদ্র রয়েছে। ডান হাতের কনুইয়ের পেছনে একটি ছিদ্র এবং বাম পায়ের হাঁটুতে ছিলা জখম পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


ঘটনার সময়কার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাথায় মাফলার পরা তিন ব্যক্তি মোসাব্বিরকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে অন্ধকারের কারণে তাদের মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

গত বুধবার রাত ৮টার কিছু পর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গুলশান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকিল আহমেদ খান বলেন, মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের দুইবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কমিশনার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার এই জনপ্রিয়তাই তার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও জানান, বাদ যোহর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুছাব্বিরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ আছর কারওয়ান বাজারে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

/ইউএমএইচ
  বিষয়:   স্বেচ্ছাসেবক দল  নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির  হত্যা 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: