যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে দেশটির তরুণ ভোটারদের মধ্যে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি তরুণ ভোটারের সমর্থন পেয়ে রিপাবলিকানরা উল্লসিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সেরা অর্থনীতি গড়ার’ মতো চটকদার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প তরুণদের আকৃষ্ট করলেও বাস্তবে সেসবের প্রতিফলন না ঘটায় তার জনসমর্থন দ্রুত কমছে। ইউগভ–দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পের জনসমর্থন যেখানে ছিল ৪৮ শতাংশ, বর্তমানে তা নাটকীয়ভাবে কমে ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জনপ্রিয়তার এই বিশাল পতনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখছেন।
মূলত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ট্রাম্প যে সব স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় লাখ লাখ মার্কিন তরুণ এখন তার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।
তরুণ প্রজন্মের এই মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে ট্রাম্পের দেওয়া অনেক মৌলিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারা। নির্বাচনের আগে তরুণদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার বিষয়ে তিনি যে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর তার কর্মকাণ্ডে তার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ফলে এক সময়ের কট্টর সমর্থক তরুণদের একটি বড় অংশই এখন বিকল্প রাজনৈতিক ধারার দিকে ঝুঁকছে বা বর্তমান প্রশাসনের প্রতি চরম বিতৃষ্ণা প্রকাশ করছে। জনমতের এই পরিবর্তন আগামী রাজনৈতিক সমীকরণে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন রাজনীতির এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তরুণদের সমর্থন হারানো ট্রাম্পের জন্য কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি তার নেতৃত্বের প্রতি এক বড় ধরনের অনাস্থার ইঙ্গিত। ভোটারদের এই অংশটি আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই তাদের সমর্থন কমে যাওয়া রিপাবলিকান পার্টির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকটের বার্তা বহন করছে।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতার মধ্যকার বিশাল ব্যবধানই মূলত তরুণদের এই বিমুখতার মূল কারণ হিসেবে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সময়ের আলো/টিএইচ