বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায়ে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে জিরা পানি এবং মৌরি পানি দুটিই বেশ জনপ্রিয়।
জিরা পানি কেন উপকারী
জিরায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন ও কিছু প্রাকৃতিক উপাদান, যা হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ইনসুলিন কার্যকারিতা কিছুটা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, জিরা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সহায়ক হতে পারে। রাতে ১ চামচ জিরা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে পানিটা ছেঁকে খালি পেটে পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সেই সঙ্গে সামান্য লেবুর রস বা মধু মেশানো যায় স্বাদ ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য। যেসব ক্ষেত্রে এটি ভালো কাজ করে
রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং লো-ব্লাড সুগার সমস্যা হ্রাস করতে সাহায্য করে।হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমায়।শরীরের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং ডিটক্স কার্য সম্পাদন করে।ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে।দিনের শুরুতে খালি পেটে জিরা পানি পান করলে রক্তে শর্করা স্থিতিশীল থাকে।
মৌরি পানি কেন উপকারী
মৌরিতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। এটি হজম ভালো রাখে, গ্যাস কমায় এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ মৌরি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করা যায়। যেসব ক্ষেত্রে এটি ভালো কাজ করে-
পেট ফাঁপা ও গ্যাস কমায়।রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুধা দমন করে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।হজম উন্নত করে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখে।ত্বক উজ্জ্বল করতে এবং ডিটক্স কার্যক্রমে সহায়ক।
আগে থেকে হরমোনজনিত সমস্যা বা পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা কমাতে প্রয়োগ করা যায়।
কোনটি বেশি কার্যকর
জিরা পানি সরাসরি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে মৌরি পানি হজম ভালো রেখে পরোক্ষভাবে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা জিরা পানি বেছে নিতে পারেন, আর যাদের হজমের সমস্যা বেশি, তারা মৌরি পানি পান করতে পারেন।
অতিরিক্ত পরিমাণে কোনো কিছুই খাওয়া ঠিক নয়। ডায়াবেটিসের ওষুধ চললে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত এসব পানীয় খাবেন না। শুধু জিরা বা মৌরি পানি নয়, সুষম খাদ্য, ব্যায়াম ও নিয়মিত সুগার পরীক্ষা জরুরি।
সময়ের আলো/আআ