প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। সংগৃহীত ছবিস্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়ার, কিন্তু ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ এখন দেশের মাটিতে। শনিবার (৯ মে) সকাল সোয়া ৯টার দিকে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে বৃষ্টির নিথর দেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জহির উদ্দিন আকন ও মা। এ সময় এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মেধাবী মেয়ের মরদেহ বুঝে নেওয়ার সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বিমানবন্দরের বাতাস। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত থেকে মরদেহটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স এখন মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামের পথে। বৃষ্টির নানা আব্দুল আলী জানান, গ্রামেই দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে তার দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
মাদারীপুরের সন্তান বৃষ্টির বেড়ে ওঠা ঢাকায়। পড়ালেখায় বরাবরই ছিলেন তুখোড়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বুয়েটে স্নাতকোত্তর চলাকালেই সুযোগ পান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করার। গত বছরের ২৫ আগস্ট দেশ ছেড়েছিলেন আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়। কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল নিখেোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃষ্টি ও তার সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমনের এই অকাল প্রয়াণে শোকাতুর পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। গতকাল শুক্রবার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সমাবর্তনে এই দুই বাংলাদেশিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। তাদের সম্মানে সমাবর্তনস্থলে দুটি চেয়ার শূন্য রাখা হয়েছিল।
এদিকে, এই জোড়া খুনের প্রধান অভিযুক্ত লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ১৮ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। নিহতের পরিবার ও সহপাঠীরা খুনি হিশামের সর্বোচ্চ সাজা তথা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।
/কহু