কালো কিশমিশ সাধারণত বাদামি কিশমিশের চেয়ে পুষ্টিগুণে এগিয়ে। একে বলা হয় প্রকৃতির ‘সুপারফুড’। এই কালো কিশমিশ বা ব্ল্যাক রেজিন বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে অনেক জনপ্রিয়।
গাঢ় রঙের এই শুকনো ফলটি মূলত ‘ব্ল্যাক করিন্থ’ আঙুর শুকিয়ে তৈরি করা হয়। ছোট এই দানাগুলো যে কেবল স্বাদ বাড়াতে কার্যকর তা নয়, বরং এর প্রতিটি দানা পুষ্টিগুণে ভরপুর।
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করে
কালো কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
এটি শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়তা করে। নিয়মিত এটি খেলে শরীরের ক্লান্তি ও দুর্বলতা দূর হয়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষায় কালো কিশমিশ অতুলনীয়। এতে থাকা পটাশিয়াম ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে রক্তনালিকে শিথিল রাখে এবং সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি
ফাইবার বা আঁশ হজম প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। কালো কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা পাকস্থলীর বর্জ্য নিষ্কাশন সহজ করে। নিয়মিত সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় এবং হজমশক্তি উন্নত হয়।
হাড়ের সুরক্ষা ও মজবুত গঠন
কালো কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং বোরন। ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করে, আর বোরন হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। বিশেষ করে মাঝবয়সি নারী ও বৃদ্ধদের অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি
ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে কালো কিশমিশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, ফলে ব্রণের সমস্যা কমে। এ ছাড়া এর আয়রন চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুল পড়া রোধ করে এবং অকালে চুল পেকে যাওয়া আটকায়।
কোলেস্টেরল কমায়
কালো কিশমিশে কোনো কোলেস্টেরল নেই। উল্টো এতে থাকা পলিফেনল এবং ফাইবার রক্তের অপকারী কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এটি ধমনিতে প্লাক জমতে বাধা দেয়, যা হার্ট সুস্থ রাখে।
শক্তি সরবরাহ
প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরকে দ্রুত শক্তি প্রদান করে। সকালের নাশতায় বা জিম করার আগে কয়েকটা ভেজানো কালো কিশমিশ খেলে সারা দিন কাজের শক্তি পাওয়া যায়।
কীভাবে খাবেন?
পুষ্টিবিদ হৈমন্তী সরকার বলেন, কিশমিশ সরাসরি খাওয়ার চেয়ে ভিজিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। রাতে এক গ্লাস পানিতে ৮-১০টি কালো কিশমিশ ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই পানি এবং কিশমিশগুলো খেয়ে নিন।
ভিজিয়ে রাখলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিনগুলো শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। যদিও এটি স্বাস্থ্যকর, তবু অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, কারণ এতে ক্যালরি বেশি থাকে। প্রতিদিন এক মুঠো বা ১০-১২টি কিশমিশই যথেষ্ট।
/এসএকে