দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। আর মাত্র দুই দিন পরেই পর্দা উঠবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের। ঠিক এমন এক চূড়ান্ত মুহূর্তে মাঠের লড়াই শুরুর প্রাক্কালে চরম এক দুঃসংবাদ এল ইরান ফুটবল দলের সমর্থকদের জন্য। রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে এবারের বিশ্বকাপে সশরীরে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা।
ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ গ্যালারির মোট আসনের ৮ শতাংশ টিকিট নিজেদের দেশের সমর্থকদের মাঝে বিতরণের জন্য পেয়ে থাকে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন ‘এফএফআইআরআই’ ইতিমধ্যে ফিফার কাছ থেকে সেই নির্দিষ্ট কোটার টিকিট হাতে পেয়ে সমর্থকদের কাছে বিক্রির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার (৯ জুন) এক জরুরি বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে এসে বিশ্বকাপে ইরানের জন্য বরাদ্দকৃত সেই সমস্ত টিকিট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তকে ফুটবলের মূল চেতনা পরিপন্থী এবং নোংরা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা।
ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অফিশিয়াল সব প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে অসংখ্য ইরানি সমর্থক ম্যাচ দেখার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও তাদের টিকিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বৈধ ও অফিশিয়াল টিকিটের অধিকার থেকে ইরানি সমর্থকদের এভাবে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চেতনা এবং সমতার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিবৃতিতে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করা হলেও ফেডারেশন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এর পেছনে খেলাধুলার বাইরের গভীর রাজনৈতিক কারণ জড়িত।
মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা চলছে, তারই সরাসরি এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে। টিকিট বাতিলের পাশাপাশি ইরানের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একের পর এক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করছে ওয়াশিংটন প্রশাসন।
ইতিমধ্যে ইরানের ফুটবল প্রতিনিধি দল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন সাপোর্ট স্টাফকে মার্কিন ভিসা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। একই সাথে ইরান থেকে সরাসরি বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই চরম প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি ক্যাম্পটি বাতিল করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে গিয়ে কোনোমতে অনুশীলন সম্পন্ন করে।
এমন তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাধার মধ্যেও বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর ২২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শক্তিশালী বেলজিয়াম এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ জুন সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে মিসরের মুখোমুখি হবে তারা।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচগুলো যথাক্রমে সকাল ৭টা, রাত ১টা এবং সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি মনে করিয়ে দিয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে ইরান। তবে ইরানি ফেডারেশনের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিফা কিংবা মার্কিন বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সময়ের আলো/টিএইচ