ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেল চলনবিলের ভাসমান বিদ্যালয়

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

চলনবিলেরদুর্গম ও জলাবদ্ধ অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার অনন্য উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা অর্জন করেছে ইউনেস্কো

2026-06-10T19:06:43+00:00
2026-06-10T21:56:10+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
ইউনেস্কো স্বীকৃতি পেল চলনবিলের ভাসমান বিদ্যালয়
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম  আপডেট: ১০.০৬.২০২৬ ৯:৫৬ পিএম
চলনবিলে পরিচালিত সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত
চলনবিলের দুর্গম ও জলাবদ্ধ অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার অনন্য উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা অর্জন করেছে ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫।

বুধবার (১০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে  এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ইউনেস্কো ঢাকা অফিস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবব্রত চক্রবর্তী এবং রাশেদা কে. চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. সুসান ভাইজ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষা পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ, সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি অঞ্চল চলনবিলে পরিচালিত সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবঞ্চিত শিশু-কিশোর ও তরুণদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দিচ্ছে। স্থানীয় নৌকা নির্মাণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এসব নৌকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে সংস্থাটি মোট ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও পরিবহন কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হচ্ছে বেশ কয়েকটি নৌকা।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান গড়ে তোলা সম্ভব। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও মানুষের কাছে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ১৯৬৭ সাল থেকে সাক্ষরতা ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার প্রদান করে আসছে। চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রদত্ত ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি বছর বিশ্বের তিনটি প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এর আগে বাংলাদেশ থেকে ফ্রেন্ডশিপ ২০২৩ সালে এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ২০১৩ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছিল।

/এসএকে
  বিষয়:   ইউনেস্কো  স্বীকৃতি  চলনবিল  ভাসমান  বিদ্যালয় 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: