সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমস-এর সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়া এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিটির ঘোষণা খুব শিগগিরই আসতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ সমীক্ষা চালাবে। প্রকল্পটির উন্নয়নে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি যুক্ত থাকবে।
তবে চুক্তিটি কার্যকরের আগে মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে। সেখানে এটি বেশ রাজনৈতিক বাধা ও প্রতিবাদের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য হলেও, এই চুক্তিতে আইএইএ-এর অতিরিক্ত প্রোটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত প্রোটোকল না থাকলে সংস্থার পক্ষে কঠোর মনিটরিং, পরিদর্শন ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সৌদি ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা হলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ উন্মুক্ত করতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আবহেই এই চুক্তির খবর সামনে এলো। একদিকে যখন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার অজুহাতে হামলা চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া নীতিগত বৈপরীত্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, এর আগে ইসরায়েল কাতারে হামলা চালানোর পর সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছিল, প্রয়োজন পড়লে তাদের পরমাণু প্রযুক্তি সৌদির সুরক্ষায় ব্যবহার করা হবে।
প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করলেও তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথ এড়িয়ে চলেছে— যাকে এতদিন এই অঞ্চলে পরমাণু শক্তির গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বলা হতো।
সময়ের আলো/কেএইচ