যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’ ও একটি যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে মঙ্গলবার অল্প সময়ের জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় ছিল না বলে জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। তবে এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ঝুঁকিতে ছিলেন না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর এফএএ প্রাথমিক নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুরু করেছে। পাশাপাশি মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও ঘটনার তদন্ত করবে।
এফএএ এক বিবৃতিতে জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অল্প সময়ের জন্য দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় ছিল না। তবে এরপরই তারা একে অপরের থেকে দূরে সরে যায় এবং উভয়ই নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে।
ঘটনাটি ঘটে ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দর এলাকায়। ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে উড্ডয়ন করে লস অ্যাঞ্জেলেস সফরের উদ্দেশ্যে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে যাচ্ছিল।
এক মিনিট পর, দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে ফ্লোরিডার পেনসাকোলাগামী এনভয় এয়ার ৩৭৪২ ফ্লাইটটি একই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এই যাত্রীবাহী বিমানটির সঙ্গেই নিরাপদ দূরত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে।
এফএএর নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরের আশপাশে উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত ১ দশমিক ৫ মাইল (প্রায় ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার) অনুভূমিক এবং ৫০০ ফুট (১৫২ মিটার) উল্লম্ব দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।
ঘটনার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার মেরিন ওয়ান ও যাত্রীবাহী বিমান— উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছিলেন বলে জানিয়েছে এফএএ।
রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত মেরিন ওয়ান উড্ডয়নের আগে রিগ্যান বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার সেই নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেই এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় আরেকটি যাত্রীবাহী বিমান রিপাবলিক এয়ারলাইনসের ৪৭০০ নম্বর ফ্লাইটকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিকল্প পথে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একই এলাকায় একটি সামরিক হেলিকপ্টার ও আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর রিগ্যান বিমানবন্দর এলাকায় সামরিক হেলিকপ্টার ও বাণিজ্যিক বিমানের একসঙ্গে চলাচলের ওপর স্থায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করে এফএএ। এছাড়া চলতি বছরের মার্চে বড় বিমানবন্দরগুলোর কাছে হেলিকপ্টার পরিচালনায় ‘ভিজ্যুয়াল সেপারেশন’ পদ্ধতির ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে এফএএ একটি বিশেষ নিরাপত্তা পর্যালোচনা দল গঠন করতে যাচ্ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ