জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরিডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার হ্রদটিতে ফেরিটি ডুবে যাওয়ার পর শনিবার আরও ২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে ফেরিটি ডুবে যায়। কারিবা শহরের বন্দর ছাড়ার সময় ফেরিটিতে আনুমানিক ১৫৩ জন যাত্রী ছিলেন। অথচ এর অনুমোদিত সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন।
জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮টি শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনের বয়স ১০ বছরের নিচে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিহত শিশুদের মধ্যে এক বছর বয়সী ওয়েন্ডি এনদারিকাসহ ১৪ মাস বয়সী ম্যাকডোনাল্ড নিয়াশা গুমপো ও হাইলি তাউরোর নামও এসেছে।
নিহতদের মধ্যে ফেরিটির ৫৯ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন সিগন পাটসিকাদোভাও রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবারও পুলিশ ডুবুরি, সেনাসদস্য ও স্থানীয় জেলেদের সমন্বয়ে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানান, ফেরিটি ডুবে যাওয়ার পরপরই ৭৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের অনেককে প্রথমে কাছের একটি দ্বীপে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কারিবা শহরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, ফেরিটি ছাড়ার পরপরই প্রবল বাতাসে হ্রদে বড় ঢেউ সৃষ্টি হয় এবং পানিতে ফেরিটি ভাসতে শুরু করে। যাত্রীরা চালককে তীরে ফিরে যেতে বললেও ফেরিটি খোলা পানির দিকে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে সেটি কাত হয়ে ডুবে যায়।
এই দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার একাধিক স্বজনকে হারিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হেরাল্ডকে এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ স্বজন হারিয়েছেন; কোনো কোনো পরিবারে একসঙ্গে পাঁচজনেরও বেশি সদস্য মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর সরকার জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণে বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে।
কারিবা হ্রদের প্রত্যন্ত মাছধরা সম্প্রদায়ের জন্য ফেরিটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। খাবার, বাজারসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে এসব এলাকার মানুষ ফেরিটির ওপর নির্ভর করতেন। দুর্ঘটনার পর খাদ্য সরবরাহেও এর প্রভাব পড়েছে। ফেরির ওপর নির্ভরশীল দোকানগুলোতে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম জলাধার কারিবা হ্রদে দুর্ঘটনা তুলনামূলক বিরল। ফলে এই ফেরিডুবিকে কয়েক দশকের মধ্যে জিম্বাবুয়ের অন্যতম ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত কারিবা হ্রদটি রাজধানী হারারে থেকে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
সময়ের আলো/কেএইচ