সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে পতাকা প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক আইনজীবীর করা রিটের বিষয়ে শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতে রিটটি করেন আইনজীবী শরিফ সরকার। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের টেবিলের পেছনে বা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন এবং তারা জাতীয় পতাকা রেখে চেয়ারের সামনে আরোহণ করছেন। জাতীয় পতাকা চেয়ার বা টেবিলের পাশে প্রদর্শন করা এটি আইন বহির্ভূত।
তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা বিধিমালাতে বলা আছে ১৫ ধরনের ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন— তাদের দফতরে, বাসস্থানে এবং তাদের গাড়িতে। কিন্তু দেখা যায় যে সরকারের বিভিন্ন অধীনস্থ অফিস রয়েছে— বিশেষ করে সচিবালয়ের অধীনস্থ অফিস, কর্পোরেশন, অথরিটি, এই সব অথরিটিতে যারা কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা সাম্প্রতিক সময়ে তাদের চেয়ারের পেছনে একটি পতাকা প্রদর্শন করছেন। সর্বদাই পতাকা প্রদর্শন করেন।
এই প্রদর্শনের সুযোগটা আইনে রাখা হয়নি এবং পতাকা বিধিমালায় বলা আছে যে জাতীয় পতাকা যখন কোনো ভবনে প্রদর্শন করা হবে, এটা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রদর্শন করতে হবে। জাতীয় পতাকা ফ্রি-ফ্লোটিং হতে হবে। মানে এটা যখন আপনি উত্তোলন করবেন, এটা উড়ন্ত অবস্থায় থাকতে হবে। কিন্তু পতাকার যে প্রদর্শন করা হচ্ছে, আপনারা দেখবেন এটি একটু বেন্ড করে, কার্ভ করে, জাস্ট পতাকাটা পেছনে রেখে উনি সামনে বসছেন।
এ বিষয়ে আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, পতাকার এই ধরনের ব্যবহার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। একইসঙ্গে ৩ সদস্যের কমিটি করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে, যেখানে একজন জুডিশিয়াল অফিসার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং সরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে রাখতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন অফিস কক্ষে যেভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহার হচ্ছে তা জাতীয় পতাকার বিধিতে আছে কি না সে বিষয়ে কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও