ডারউইনে রহস্যময় স্পিনে একাই ঝড় তুললেন মোহাম্মদ রুবেল। নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইকের ব্যাটসম্যানরা তার ঘূর্ণি সামলাতেই হিমশিম খেলেন। একে একে তুলে নেন পাঁচ উইকেট, গুটিয়ে দিলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। রুবেলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর সাব্বির রহমানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আরেকটি জয় তুলে নিয়ে টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল।
ডারউইনে শুক্রবার নর্দার্ন টেরিটরিকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দেওয়া ১৪৩ রানের লক্ষ্য ১০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় তারা।
ছয় ম্যাচে এটি ছিল বাংলাদেশের পঞ্চম জয়। ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে এইচপি দল। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রোববার অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান মোহাম্মদ রুবেলের। নর্দার্ন টেরিটরির ব্যাটিং লাইনআপকে নিজের ঘূর্ণিতে রীতিমতো বেঁধে ফেলেন এই রহস্য স্পিনার। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচ করে নেন ৫ উইকেট। তার দুর্দান্ত স্পেলেই শুরুতে ভালো অবস্থানে থাকা নর্দার্ন টেরিটরি মাঝপথে বড় চাপে পড়ে।
প্রথম ওভারে ১৩ রান তুলে ভালো শুরু করেছিল নর্দার্ন টেরিটরি। তবে এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন রুবেল। হার্শতিক বিমব্রালকে ফিরিয়ে উইকেট শিকারের শুরু করেন তিনি। নিজের পরের ওভারেই জাগা কদুরু ও ডোউটজি হোগেনবোইজেমকে ফিরিয়ে দেন রুবেল। ফলে দ্রুত চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
রিলে মার্ককে ফিরিয়ে সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন রকিবুল হাসান। ৩৫ রানে ৪ উইকেট হারানো নর্দার্ন টেরিটরিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করান জর্ডান সিল্ক ও ম্যাট হ্যামন্ড। পঞ্চম উইকেটে ৩৭ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন তারা। তবে তাদের সেই লড়াইও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
আক্রমণে ফিরে আবারও নিজের ঘূর্ণির জাদু দেখান রুবেল। পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন হ্যামন্ড ও অ্যাগারকে। তাতে নর্দার্ন টেরিটরির বড় স্কোরের আশা আরও ফিকে হয়ে যায়। শেষ দিকে ক্যাডেল ম্যাকমোহন ও স্যাম বার্কার নবম উইকেটে ২১ বলে ২৯ রান যোগ করে দলকে দেড়শর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে রুবেলের ৫ উইকেটের দারুণ স্পেলে শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রানেই থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
জবাবে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। তিন পরিবর্তন নিয়ে নামা দলের ওপেনিংয়েও ছিল পরিবর্তন। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা আরিফুল ইসলাম এবার হাবিবুর রহমান সোহানের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন। তবে জায়গা বদলে রান পাননি আরিফুল। ৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। বেশিক্ষণ টেকেননি সোহানও।
৪১ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলকে সামলানোর দায়িত্ব নেন তিন নম্বরে নামা সাব্বির রহমান। ব্যাট হাতে আবারও সামনে থেকে পথ দেখান তিনি। ৩৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৪৭ রান। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়েও মাত্র ৩ রানের জন্য সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন সাব্বির।
শামীম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩৪ রান যোগ করেন সাব্বির। এরপর অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ২৯ বলে গড়েন ৩৫ রানের জুটি। শামীম ১১ বলে এক চারে করেন ১১ রান।
এরপর অবশ্য শুক্কুর ও এসএম মেহরব দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেননি। সামিউন বাশির শেষ দিকে একটি করে চার ও ছক্কায় জয়ের পথ সহজ করে দেন। তার বিদায়ের পর বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ শেষ করেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও