প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২০ পিএম আপডেট: ০৪.০৯.২০২৬ ৫:৪৮ পিএম
নিধন হওয়া মাছ। ছবি : সময়ের আলো গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি মাছের খামারের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১৪ হাজার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে মাছচাষী বাহারম বাদশাহর প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বিষ প্রয়োগের ঘটনায় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন এক রাতেই ভেস্তে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের জগদীশ মোড় এলাকায়। সেখানে প্রায় তিন একর আয়তনের একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন মৎস্যচাষী বাহারম বাদশাহ। নিধন হওয়া মাছের মধ্যে পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ রয়েছে।
বাহারম বাদশাহ মাওনা-সিংগারদিঘী মেডিকেল মোড় এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি জগদীশ মোড় এলাকার আমিনের কাছ থেকে পুকুরটি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন।
মৎস্যচাষী বাহারম বাদশাহ জানান, বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে তার মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরের পানিতে একের পর এক মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। শুক্রবারও পুকুরে মরা মাছ ভেসে ওঠা অব্যাহত ছিল।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পুকুর থেকে ১৪ হাজারের বেশি মরা মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অথচ আগামী দুই মাস পর মাছগুলো বিক্রি করে ২০ লাখ টাকারও বেশি আয় করার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
বাহারম বাদশাহর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে কেউ তার মৎস্যপুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় তিনি শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।
শ্রীপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ এখনো অবহিত করেনি। তবে বিষয়টি জানালে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষা করা হলে মাছের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সম্ভব হবে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা শুধু একজন মাছচাষীর আর্থিক ক্ষতিই নয়, তার দীর্ঘদিনের শ্রম ও স্বপ্ন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষী।
সময়ের আলো/এনএন