জাতীয় দলের দরজা খুলেছে তিন প্রবাসী ফুটবলারের জন্য। আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপের ২৩ সদস্যের দলে প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছেন ফারহান আলী ওয়াহিদ, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ ও শুকি ইতফুসা। ইংল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও জাপানে বেড়ে ওঠা এই তিন ফুটবলারকে নিয়ে দল সাজিয়েছেন কোচ টমাস ডুলি। ইংল্যান্ডের বোরহাম উড এফসিতে খেলা ফারহান আছেন আক্রমণভাগে।
জাতীয় দলের সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে নতুন বিকল্প তৈরির ভাবনা থেকেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। জিদান খেলেন সেন্টার-ব্যাকে। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নেমে নজর কেড়েছিলেন তিনি। আর জাপানপ্রবাসী শুকি ইতফুসা খেলেন উইংয়ে, ফলে আক্রমণে ডুলির হাতে যোগ হয়েছে আরেকটি বিকল্প।
প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়ালে এবার ছিলেন ইয়াসার তাহমিদ, দেবজিৎ সরকার, সাইফ কেরাওয়ালা, শুকি ইতফুসা, জিদান ইউসুফ ও ইউসুফ আহমেদ। এর মধ্যে ইয়াসার ও দেবজিৎ ক্যাম্প থেকে বাদ পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী গোলরক্ষক সাইফ কেরাওয়ালাও শেষ পর্যন্ত জায়গা পাননি।
অভিজ্ঞ আনিসুর রহমান জিকোকেও দলে রাখেননি ডুলি। তবে দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে মনজুরুর রহমানের। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল এই সেন্টার-ব্যাকের। এবার রক্ষণভাগে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছেন কোচ।
চূড়ান্ত দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতিও থাকছে না। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম ঢাকায় দলের ক্যাম্পে না থাকলেও ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তাদের অন্তর্ভুক্তি মাঝমাঠে বাড়াবে অভিজ্ঞতা। দলে আছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজি, তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন, রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন ও ফাহামিদুল ইসলামদের মতো পরিচিত মুখও।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের শুরুটা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের পর ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে।
টুর্নামেন্টের আগে নতুন তিন মুখকে ঘিরে তাই আগ্রহটা বেশি। জাতীয় দলের জার্সিতে এখনও অভিষেক হয়নি ফারহান, জিদান ও শুকির। আসিয়ান কাপই হতে যাচ্ছে তাদের সামনে নিজেদের প্রমাণের প্রথম বড় সুযোগ। তাদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুনদের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বাংলাদেশের জন্য।
গোলরক্ষক : মিতুল মারমা, সুজন হোসেন, মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
ডিফেন্ডার : জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ, তপু বর্মণ, শাকিল আহাদ তপু, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, তারিক কাজি, জায়ান আহমেদ।
মিডফিল্ডার : এস এম মনজুরুর রহমান, জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা সিনিয়র, সোহেল রানা জুনিয়র, মো. হৃদয়, মিনহাজুল করিম শাদিন, হামজা চৌধুরী, শামিত সোম।
ফরোয়ার্ড : ফাহামেদুল ইসলাম, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতফুসা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও