যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেয়।
ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে পাল্টা হামলা করা হবে। যেসব দেশ নিজেদের ভূখণ্ড বা সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলায় সহায়তা করবে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। তার হাতে সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা নতুন চুক্তির মতো বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করতেও তিনি রাজি।
আলোচনার চেষ্টা চলছে
একদিকে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা চলছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে এবং বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি পথে কাতারেও অবস্থান করবেন।
ইরান আলোচনায় ফিরতে যুদ্ধ ও মার্কিন হামলা বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো শর্ত দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্য কমেছে
চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। শিপিং তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ পার হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে পার হয়েছিল ৩৫টি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে চলাচল কমে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়লেও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ