কোমর ব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি পরিচিত সমস্যা। তবে কোমর ব্যথার সঙ্গে যদি পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, ঝিনঝিন, অবশভাব বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় এসব লক্ষণ পিএলআইডি বা কোমরের ডিস্কের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সঠিক সময়ে সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশন শুরু করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব। তাই শুধু ব্যথা কমানোর পরিবর্তে সমস্যার কারণ, মুভমেন্ট এবং স্বাভাবিক কাজের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পিএলআইডি কী?
পিএলআইডি বলতে মেরুদণ্ডের দুটি হাড়ের মাঝখানে থাকা ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের অংশ বাইরে দিকে বেরিয়ে এসে আশপাশের নার্ভে চাপ সৃষ্টি করাকে বোঝানো হয়। এর ফলে কোমর ও পায়ে ব্যথা বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
পিএলআইডির সাধারণ লক্ষণ—
কোমরে ব্যথা বা অস্বস্তিকোমর থেকে নিতম্ব বা পায়ের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে পড়াপায়ে ঝিনঝিন বা অবশভাবপেশিতে দুর্বলতাকোমর বাঁকানো বা সোজা করতে অস্বস্তিকেন পিএলআইডি অবহেলা করা উচিত নয়
ব্যথা বা ঝিনঝিনি কয়েক দিন পর কমে গেলেই সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধান হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে হাঁটা, বসা, কাজ করা বা দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে থাকা দুর্বলতা বা অসাড়তা দ্রুত মূল্যায়নের প্রয়োজন নির্দেশ করতে পারে। তাই নিজের মতো করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা পিছিয়ে না রেখে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পিএলআইডির চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপির ভূমিকা
পিএলআইডির চিকিৎসা সবার জন্য একরকম নয়। রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, উপযুক্ত এক্সারসাইজ, মুভমেন্ট ও পেশির কার্যক্ষমতা উন্নত করা এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক রিহ্যাবিলিটেশন পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
পায়ে দুর্বলতা বা অবশভাব বাড়তে থাকলে, উভয় পায়ে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে, অথবা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনে কিছু সতর্কতা
দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে না থেকে নিয়মিত নড়াচড়া করা, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমে ফিরে আসা এবং ভারী জিনিস তোলার সময় নিরাপদ কৌশল অনুসরণ করা উপকারী। তবে ব্যথা বা উপসর্গ বাড়লে নিজের মতো করে ব্যায়াম শুরু না করে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে উপযুক্ত ব্যায়াম করা উচিত। পিএলআইডি মানেই আতঙ্কের বিষয় নয়, আবার অবহেলারও নয়। সঠিক সময়ে সমস্যা শনাক্ত করে ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা সম্ভব। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা উপসর্গ হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি