রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হতে আসা শওকত নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শওকত পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পরিচয়ে ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন অফিসে যান। এ সময় তিনি নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার পরিচয় ও কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরো বাড়ে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শওকত জানান, তিনি উখিয়া-টেকনাফের ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। টেকনাফের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি পীরগঞ্জে আসেন। ওই ব্যক্তি তাকে পীরগঞ্জের নাগরিক বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে পীরগঞ্জে এসে তাকে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে এনে ওই ব্যক্তি চলে যান।
যাওয়ার সময় তার মোবাইল ফোন থেকে নিজের ব্যবহৃত নম্বরও মুছে দেন বলে জানান শওকত। ফলে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
এদিকে পাঁচগাছি ইউনিয়নের নামে তৈরি করা কাগজপত্রের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল বলেন, শওকতের দেখানো কাগজপত্র ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। এসব কাগজে তার স্বাক্ষর ও ইউনিয়নের সিল জাল করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান বলেন, শওকতকে দেখে প্রথম থেকেই সন্দেহ হয়েছিল। পরে কথাবার্তায় সন্দেহ আরো বাড়ে। একপর্যায়ে তাকে জাতীয় সংগীত বলতে বলা হলে তিনি তা বলতে পারেননি। এতে তার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ আরো জোরালো হয়। জিজ্ঞাসাবাদেও তার বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন অফিস থেকে আটকপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা