সোহেল আফ্রিদি কি ইমরান খানকে মুক্ত করতে পারবেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

৩৭ বছর বয়সী সোহেল আফ্রিদি এখন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত নেতাদের একজন। তিনি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তবে

2026-09-29T17:55:25+00:00
2026-09-29T17:55:25+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সোহেল আফ্রিদি কি ইমরান খানকে মুক্ত করতে পারবেন?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম 
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সোহেল আফ্রিদি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের অন্যতম কম বয়সী মুখ্যমন্ত্রী। ছবি : আল-জাজিরা
৩৭ বছর বয়সী সোহেল আফ্রিদি এখন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত নেতাদের একজন। তিনি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান জেলে থাকার কারণে আফ্রিদির ভূমিকা এখন শুধু প্রাদেশিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দলের আন্দোলনের প্রধান সংগঠক হিসেবেও তিনি সামনে এসেছেন। 

আগামী ৪ অক্টোবর ইসলামাবাদে বড় মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। এই মিছিলের মূল দাবি, জেলে থাকা ইমরান খানের মুক্তি।

মন্ত্রিসভায় কঠোর বক্তব্য

সম্প্রতি পেশোয়ারে খাইবার পাখতুনখোয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আফ্রিদি বলেন, সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু লোক পিটিআইয়ের কর্মী, কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করছে। 

এক সপ্তাহের মধ্যে তার দুই প্রাদেশিক মন্ত্রীও হামলার শিকার হন। একজনকে হত্যার চেষ্টা ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়। অন্য একজনকে মোটরওয়ে টোল প্লাজার কাছে হামলা করে অপহরণ করা হয়। তার বর্তমান অবস্থান এখনও জানা যায়নি।  

আফ্রিদি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে দেশের অন্য অংশের যোগাযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। 

তিনি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ঘটনাও টেনে আনেন। তবে একই সঙ্গে বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়ার মানুষ বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়।  

তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তানি ছিলাম, পাকিস্তানি আছি এবং পাকিস্তানিই থাকব।

ইমরান খানের মুক্তির আন্দোলনে সামনে আফ্রিদি

ইমরান খান তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। তবুও পাকিস্তানের রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য বলে পিটিআই দাবি করে।

ইমরান খান জেলে থাকায় আফ্রিদিই এখন দলের সবচেয়ে বড় নির্বাচিত নেতা হিসেবে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

মিছিলটি প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইমরানের বোনদের গ্রেফতার এবং খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইসলামাবাদে প্রবেশের পথ বন্ধ করার পর তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়।  

আফ্রিদি বলেন, মিছিল পিছিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণ নয়, এটি রাজনৈতিক কৌশল। তার ঘোষণা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর মিছিল শুরু হবে।

তিনি আরও বলেছেন, মিছিলে বড়সংখ্যক মানুষ অংশ নেবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিরে যাবে না। ৫ অক্টোবর ইমরান খানের জন্মদিন। আফ্রিদি বলেছেন, সেদিন তারা বিজয়ের দিন পালন করবেন।

রাস্তায় একরকম, অফিসে আরেকরকম

আফ্রিদির রাজনৈতিক আচরণে দুটি দিক দেখা যায়। একদিকে তিনি প্রাদেশিক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে রাস্তায় নেমে পিটিআইয়ের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১৪ সেপ্টেম্বর লাহোরে পিটিআই কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে তিনি একটি পুলিশের গাড়িতে উঠে বসেন এবং কর্মীদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত নামতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুক্ষণ পর গাড়ি তাকে নামিয়ে দেয়। 

আফ্রিদি তখন অভিযোগ করেন, তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে চাইছে।

তবে পাঞ্জাবের তথ্যমন্ত্রী আজমা বুখারি দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা যায় আফ্রিদি নিজেই পুলিশের গাড়িতে উঠেছিলেন। তিনি আফ্রিদির অপহরণের অভিযোগকে নাটক বলে অভিহিত করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহমুদ জান বাবরের মতে, আফ্রিদির মধ্যে একাধিক ধরনের রাজনৈতিক চরিত্র দেখা যায়। কখনো তিনি শান্ত ও প্রশাসনিক নেতা, আবার কখনো রাস্তায় খুবই আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক কর্মী।

সাধারণ পরিবার থেকে মুখ্যমন্ত্রী

সোহেল আফ্রিদি ১৯৮৯ সালের ১২ জুলাই খাইবার পাখতুনখাওয়ার আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বারায় জন্মগ্রহণ করেন। 

তিনি পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তার পরিবার মধ্যবিত্ত এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন।

২০০৮ সালে সামরিক অভিযান চলার সময় তার পরিবার পেশোয়ারে চলে যায়।

পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় তিনি ইমরান খানের পিটিআইয়ের ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে তিনি পিটিআইয়ের ছাত্র সংগঠন ইনসাফ স্টুডেন্টস ফেডারেশনের পেশোয়ার শাখার সভাপতি এবং পরে প্রাদেশিক পর্যায়ের যুব সংগঠনের প্রধান হন।

২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেফতার হওয়ার পর পিটিআইয়ের অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে গেলেও আফ্রিদি প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিলেন। দলের প্রতি তার এই অবস্থান পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আফ্রিদি খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত হন। 

সেসময় পিটিআই নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ ব্যবহার করতে পারেনি। তাই আফ্রিদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘দাদার ঘড়ি’ প্রতীকে নির্বাচন করেন।

তিনি ৩১ হাজারের বেশি ভোট পান, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন প্রায় ৭ হাজার ভোট। 

তার ঘনিষ্ঠদের মতে, এই জয় মূলত পিটিআইয়ের প্রতি মানুষের সমর্থনের ফল ছিল। ব্যক্তিগতভাবে আফ্রিদিকে তখনও খুব বেশি মানুষ চিনতেন না।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইমরান খানের নির্দেশে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুরের জায়গায় আফ্রিদিকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়।

পিটিআই নেতা তৈমুর খান ঝাগরা বলেন, আফ্রিদি ধনী বা রাজনৈতিক পরিবারের মানুষ নন। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসায় ইমরান খান তাকে আদর্শিক এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি একজন নেতা হিসেবে দেখেছেন।

সেনাবাহিনী নিয়ে অবস্থান

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আফ্রিদি নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযান নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন।

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পুলিশের সরঞ্জামকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন এবং উপজাতীয় এলাকায় সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন না বলে জানান।

এতে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আহমেদ শরিফ চৌধুরী তার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানে সশস্ত্র হামলার বড় একটি অংশ তখন খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ঘটছিল এবং আফ্রিদির উচিত বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা।

তবে পরবর্তীতে আফ্রিদির অবস্থান কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন।

তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। কিন্তু ইমরান খানের মুক্তির বিষয়ে তিনি কোনো সমাধান পাননি বলে জানিয়েছেন।

আফ্রিদির ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক কর্মকর্তারা তাকে বলেছেন— ইমরান খানের মুক্তির বিষয়টি তাদের এখতিয়ারের বাইরে।

শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক 

২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ইসলামাবাদে বৈঠক করেন। 

পিটিআই সরকারকে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকার না করলেও আফ্রিদি বলেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি হয়তো এই বৈঠকে বসতেন না। কিন্তু খাইবার পাখতুনখোয়ার মানুষের স্বার্থে বৈঠকটি প্রয়োজনীয় মনে করেছেন। 

সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখ কোহাটে পুলিশের একটি স্থাপনায় হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হওয়ার পর আফ্রিদি সেখানে যান। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেন। 

একই সঙ্গে তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে মিছিল

আগস্টে ইমরান খানকে আইনি পথে মুক্ত করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আফ্রিদি ইসলামাবাদ অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দেন।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে এটি হবে কারাগারে যাওয়ার পর পিটিআইয়ের দ্বিতীয় বড় মিছিল।

এর মধ্যে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সরকার তাকে সেখানে না নিয়ে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেয়।

ইমরানের বোন উজমা খান তখন জানান, ইমরান তাকে আফ্রিদিকে আন্দোলন দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে বলেছিলেন।

এরপর আফ্রিদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ মানা না হলে পাকিস্তান এমন একটি দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে যেখানে আইন ও আদালতের আদেশের মূল্য নেই। 

আফ্রিদির বিরুদ্ধে চাপও বাড়ছে

ইমরান খানের মুক্তির আন্দোলনে আফ্রিদি যত সক্রিয় হয়েছেন, তার ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপও তত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে সিন্ধু প্রদেশে তার গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়।

১৪ সেপ্টেম্বর ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে একটি আবেদন গ্রহণ করা হয়। এতে দাবি করা হয়, আলী আমিন গান্দাপুরকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং সেই কারণে আফ্রিদির মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়াও বৈধ নয়।

একই দিনে একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত আফ্রিদির পাসপোর্ট আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ইসলামাবাদ হাইকোর্টও প্রাদেশিক সরকারগুলোকে মিছিলের জন্য সরকারি সম্পদ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নর শাসন জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। গভর্নর শাসন জারি হলে নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার সরিয়ে দিয়ে কেন্দ্রের নিয়োগ করা গভর্নরের মাধ্যমে প্রদেশ পরিচালনা করা হয়।

তবে পিটিআই নেতা তৈমুর খান ঝাগরা বলেন, সরকার চাইলে গভর্নর শাসন জারি করতে পারে, কিন্তু তারা এই আন্দোলন শুধু সরকারে থাকার জন্য করছে না।

পিটিআইয়ের ভেতরেও নেতৃত্বের প্রশ্ন

ইমরান খান জেলে থাকায় পিটিআইয়ের মধ্যে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। 

পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেন, ইমরান খানই একমাত্র ব্যক্তি যিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেন।

তবে সাবেক পিটিআই নেতা আসাদ উমর এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তার মতে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। গোহর আলী খান চেয়ারম্যান, সালমান আকরাম রাজা মহাসচিব এবং শেখ ওয়াকাস আকরাম তথ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 


সূত্র : আল-জাজিরা 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ইমরান খান  সোহেল আফ্রিদি  পাকিস্তান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: