ভারতের মহারাষ্ট্রে এক মাস বয়সী সন্তানকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোন ও সোনার চেইন কেনার জন্য শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছিল। পরে শিশুটিকে একাধিকবার বিক্রি করা হয়। শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্র থেকে ৫৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হায়দরাবাদ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ছত্রপতি সম্ভাজিনগর থানায় শিশুটির মা নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে গেলে ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই দম্পতি মুকুন্দওয়াড়ি এলাকায় লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতেন এবং তাদের এক মাস বয়সী ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রথমে শিশুটিকে সীমা রেশওয়ালের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার রুপিতে বিক্রি করা হয়। পরে রেশওয়াল শিশুটিকে পাড়েগাঁওয়ের বাসিন্দা সংগীতা আভহাদের কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন।
এরপর আভহাদ শিশুটিকে সুরেশ গুন্তুকার কাছে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ। প্রতিবেদনে গুন্তুকাকে কথিত ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে গুন্তুকা একই দামে শিশুটিকে হায়দরাবাদে থাকা তার এক আত্মীয় উমা খাতকামের কাছে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার তদন্ত করতে পুলিশ হায়দরাবাদে যায় এবং সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। শিশুটিকে মহারাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের দাবি, সন্তান বিক্রির প্রথম লেনদেন থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে শিশুটির বাবা-মা দুটি মোবাইল ফোন ও একটি সোনার চেইন কিনেছিলেন। পুলিশ সেগুলোও জব্দ করেছে।
পুন্ডলিকনগর থানার পরিদর্শক বিবেক সোনাওয়ানের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। শিশুটির বাবা-মা, রেশওয়াল, আভহাদ ও গুন্তুকাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শিশু পাচারের সঙ্গে জড়িত আরও কোনো ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের, বিশেষ করে গুন্তুকার, যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ