এবার ১০ এয়ারবাস

রফিক রাফি

জাতীয়

আগামী অক্টোবরে আরও ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ইউরোপ থেকে এয়ারবাসগুলো কেনা হবে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান

2026-09-30T01:57:26+00:00
2026-09-30T01:57:26+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
এবার ১০ এয়ারবাস
অক্টোবরে ১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি করবে বিমান
রফিক রাফি
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ এএম 
আগামী অক্টোবরে আরও ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ছবি : সংগৃহীত
আগামী অক্টোবরে আরও ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ইউরোপ থেকে এয়ারবাসগুলো কেনা হবে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিমানের বহরে বোয়িং ও এয়ারবাসের ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে সক্ষমতার পাশাপাশি নতুন নতুন রুট যুক্ত হবে। তবে এই উড়োজাহাজগুলো কিনতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে।

এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সফল হওয়ার অপার সুযোগ থাকলেও বিমান তা কাজে লাগাতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহর যত বড় হবে, স্থায়ী ও পরিচালন ব্যয়ও তত বাড়বে। নতুন উড়োজাহাজের অর্থায়ন ব্যয়ের পাশাপাশি জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, ক্রু, পাইলট, প্রশিক্ষণ, বীমা, বিমানবন্দর ফি এবং অন্য পরিচালন ব্যয়ও বহন করতে হবে।

তাই শুধু উড়োজাহাজ কেনাই শেষ কথা নয়; বরং সেগুলো লাভজনক রুটে উড়িয়ে বিনিয়োগের টাকা তুলে আনা এখন বিমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হ্যাঁ, আমরা ১০টি এয়ারবাস কিনছি। ইনশাআল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হবে। প্রস্তাবিত বহরে থাকবে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। ২০৩৩ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ দেশে আসা শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এগুলো সরবরাহ করা হবে। মন্ত্রী জানান, উড়োজাহাজ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। তাই ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় কয়েক বছর আগেই অর্ডার দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে চাহিদা মেটাতে ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। তবে এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি।

এয়ারবাসে নতুন সক্ষমতা : প্রস্তাবিত চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের উপযোগী। এয়ারবাসের তথ্য অনুযায়ী, মডেলটি সাধারণ তিন শ্রেণির বিন্যাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ যাত্রী বহন করতে পারে এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৮ হাজার ৬০০ নটিক্যাল মাইল উড়তে সক্ষম। উন্নত কম্পোজিট উপাদান, অ্যারোডাইনামিক নকশা ও নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিন ব্যবহারের কারণে আগের প্রজন্মের উড়োজাহাজের তুলনায় জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে ছয়টি এ৩২১নিও অপেক্ষাকৃত ছোট ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। এতে সাধারণ দুই শ্রেণির বিন্যাসে ১৮০ থেকে ২২০ জন যাত্রী বহন করা যায় এবং সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত উড়তে পারে। 

বোয়িংয়ের সঙ্গে এয়ারবাসও : বিমানের বহরে বর্তমানে বোয়িংয়ের আধিপত্য রয়েছে। এ বছর ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ১০টি ৭৩৭-৮ রয়েছে। এর সঙ্গে প্রস্তাবিত ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে বিমানের জন্য মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজের সরবরাহ পাইপলাইন তৈরি হবে। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকবে। বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে আসার কথা। আর এয়ারবাস আসবে ২০৩৩ সাল থেকে।

মিশ্র বহরে সুবিধা : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোয়িং ও এয়ারবাস— দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ থাকলে বিমানের রুট পরিকল্পনায় কিছু বাড়তি সুবিধা তৈরি হবে। বিভিন্ন আকার ও সক্ষমতার উড়োজাহাজ থাকায় যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বিমান নির্বাচন করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে কোনো একটি নির্মাতার উড়োজাহাজের সরবরাহে সমস্যা হলে বিকল্প বহর ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি রুট পরিকল্পনায়ও বিভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজের সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

বাড়বে পরিচালন ব্যয়ও : সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোয়িং ও এয়ারবাসের মিশ্র বহর পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। একই ধরনের উড়োজাহাজের বহর পরিচালনা করলে পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশলী প্রস্তুতি, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ব্যবস্থাপনা ও গ্রাউন্ড সাপোর্টে এক ধরনের কাঠামো ব্যবহার করা যায়। কিন্তু দুই নির্মাতার বিভিন্ন মডেল থাকলে এসব ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হয়।

বিশেষ করে A350-900, A321neo, ৭৮৭-৯, ৭৮৭-১০ ও ৭৩৭-৮—এ পাঁচ ধরনের নতুন মডেল যুক্ত হলে পাইলটদের জন্য আলাদা টাইপ প্রশিক্ষণ ও সিমুলেটর সুবিধার প্রয়োজন হবে। প্রকৌশলীদেরও সংশ্লিষ্ট মডেল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ মজুদ রাখতে হওয়ায় ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনাতেও জটিলতা ও ব্যয় বাড়বে।


বাড়বে রুটের সুযোগ : বহর সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য হিসেবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব রুটে যাত্রীর চাহিদা বেশি সেখানে ফ্লাইট বাড়াতে চায় বিমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে আরও ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সিডনিতে নতুন করে ফ্লাইট চালু, জাপানে দ্বিতীয় ফ্লাইট এবং অ্যাভিয়েশন অডিট শেষ করে নিউইয়র্ক রুটে আবারও ফ্লাইট চালুর বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।

নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে এসব রুট সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে। তবে শুধু বড় বহর হলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। প্রতিটি রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী ও কার্গো পাওয়া, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া নির্ধারণ, পাইলট ও প্রকৌশলী প্রস্তুত করা, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করাও জরুরি। বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজে বহরের সম্প্রসারণ হবে বটে তবে একই সঙ্গে তা পরিচালন সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

আন্তর্জাতিক চাপ নেই : বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার পর ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তিটির পেছনে ফরাসি বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরোক্ষ কূটনৈতিক চাপ কাজ করেছে বলে বাজারে দীর্ঘদিনের আলোচনা রয়েছে।

তবে এয়ারবাস বা বোয়িং কেনার ক্ষেত্রে কোনো দেশের চাপ বা শর্ত মেনে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমানের সাবেক পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, দেশে বিমানযাত্রীর অভাব নেই। কিন্তু প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে অনেক যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্সে যাচ্ছেন। বিমানের নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও শুধু বহর বাড়ালেই হবে না। বড় বহর পরিচালনায় দক্ষ জনবল, অবকাঠামো ও কার্যকর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন রুট থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব ও লাভ নিশ্চিত করাই বিমানের জন্য বড় পরীক্ষা। উচ্চ কর, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ ও ডলারের দামের কারণেও টিকেটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   এয়ারবাস  চুক্তি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: