শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বেড়েছে নারী উদ্যোক্তাদেরও। নিজেদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে তারা তৈরি করছেন পোশাক, গহনা, হস্তশিল্প, ঘরসজ্জার সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্য। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে নিজেদের উদ্যোগ তুলে ধরছেন তারা। লিখেছেন নিবেদিতা দাস।
‘আবারও’ মেলার পঞ্চম আসর
ইলোরা কালেক্টিভের ‘আবারও’ মেলার পঞ্চম আসর সম্প্রতি ইন্দিরা রোডের নিরিবিলি অ্যাপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শরৎ ও আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই ঘরোয়া মেলা ছিল উৎসবমুখর। কেনাকাটা, ক্র্যাফটিং ও আড্ডায় ব্যস্ত নগরজীবনের শেষটায় দর্শনার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা, সৃজনশীল কাজ ও শিল্পচর্চাকে একই ছাদের নিচে নিয়ে আসাই ছিল এই বিশেষ মেলার মূল লক্ষ্য। মেলায় স্থান পেয়েছিল নানা বৈচিত্র্যময় পণ্য— থ্রিফট শাড়ি, নতুন পোশাক, পেইন্টিং, আর্টওয়ার্ক, হাতে তৈরি আচার, জুয়েলারি, ব্যাগ এবং রিসাইকেলড কাঠের তৈরি নানা নান্দনিক আসবাব ও গৃহসজ্জার সামগ্রী। স্বধিতি লাইফস্টাইল, ক্লেস্থান, লাভ, মা অফিসিয়াল, স্টুডিও পিগ্রো, এনা কাব্য, জিনিয়াস ফার্ম ও সুলতানাস ডায়েরির মতো বিভিন্ন দেশীয় সৃজনশীল ব্র্যান্ড এতে অংশ নেয়।
পাশাপাশি শিল্পী সাইমিম মুনতাহা, তানজিম ইনিয়াত ইসলাম ও টঙ্গাসহ অনেক উদীয়মান শিল্পীর উপস্থিতি আয়োজনটিকে রূপ দেয় এক শিল্পমনা মিলনমেলায়। মেলার অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল প্রাচীন আলোকচিত্র মুদ্রণ পদ্ধতির ওপর একটি বিশেষ ক্র্যাফট ওয়ার্কশপ। শিল্পী সারা ইসলামের পরিচালনায় দর্শনার্থীরা এতে সায়ানোটাইপ প্রিন্টমেকিং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান। যেখানে কেমিক্যাল ও আলো ব্যবহার করে নেগেটিভ ইমেজ বা কোনো বস্তুর প্রতিচ্ছবি গাঢ় নীল বা সায়ান রঙের কাগজ কিংবা কাপড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়।
হার সানশাইন ‘শরৎ উৎসব ২০২৬’
নারী উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম হার সানশাইনের আয়োজনে রাজধানীর শ্যামলীতে ছয় দিনব্যাপী ‘শরৎ উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উৎসবটি উদ্বোধন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল পণ্য ও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল। ঐতিহ্য, সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও আধুনিকতার সমন্বয়ে সাজানো হয়েছিল এবারের উৎসব।
ছয় দিনব্যাপী এ আয়োজনে সাতজন নারী উদ্যোক্তা তাদের বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছিল। এরা হলেন— এমিথ, কেশজ, জাদুর হাট, পাতা-পুঁতি, অপরাজিতা, পেটাল গহনা ও কারুনগরী। মেলায় ফ্যাশন পণ্য, গহনা, হস্তশিল্প, সৌন্দর্য পণ্য ও লাইফস্টাইল সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
এলিগেন্স আর্ট ও নবরূপে দেবী শারদ মেলা
শারদীয় উৎসবকে ঘিরে নারী উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের সৃজনশীল পণ্যের প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এলিগেন্স আর্ট শারদ মেলা’ ও ‘নবরূপে দেবী শারদ মেলা’। উৎসবের আমেজে দেশীয় শিল্প, কারুশিল্প ও নারীদের উদ্যোগকে সামনে আনতেই এ আয়োজন।
মেলায় দেশীয় পোশাক, গহনা, হস্তশিল্প, ঘর সাজানোর সামগ্রী, খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল পণ্যের পসরা সাজানো ছিল। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি নানা ধরনের পণ্য কেনাকাটার সুযোগ পান দর্শনার্থীরা। শারদীয় উৎসব উপলক্ষে নতুন পণ্য ও বিশেষ সংগ্রহ নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় পণ্য ও সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করা এবং নারী উদ্যোক্তাদের কাজের পরিসর বাড়ানো। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও অনলাইনভিত্তিক উদ্যোগগুলোর জন্য সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয় এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে।
মেলায় কেনাকাটার পাশাপাশি ছিল শারদীয় আবহের নানা আয়োজন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি