যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের বিরোধ এবার প্রকাশ্যে, কোন দিকে গড়াচ্ছে সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত। বাণিজ্যনীতি, রাশিয়া থেকে তেল

2026-10-02T11:58:33+00:00
2026-10-02T11:58:33+00:00
 
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের বিরোধ এবার প্রকাশ্যে, কোন দিকে গড়াচ্ছে সম্পর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত। বাণিজ্যনীতি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতির বিষয়ে আপত্তি জানাচ্ছে নয়াদিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে জমে থাকা মতপার্থক্যগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছে। নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিকে ‘আত্মকেন্দ্রিক’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধের বিষয়গুলো সাধারণত কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখত নয়াদিল্লি। তবে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর এখন প্রকাশ্য বক্তব্যের মাধ্যমেও নিজেদের অসন্তোষ জানাচ্ছে ভারত।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম বড় বিরোধের জায়গা হয়ে উঠেছে বাণিজ্য। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের পণ্য বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত ছিল ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

জয়শঙ্কর বলেন, কোনো দেশ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্য দেশের অর্থনীতি ও মানুষের ওপর এর প্রভাব পুরোপুরি উপেক্ষা করতে পারে না। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।

বিশেষ করে কৃষি খাতে দুই দেশের অবস্থানে বড় পার্থক্য রয়েছে। নিজেদের কৃষকদের সুরক্ষায় ভারত দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপণ্যের বাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রত্যাশা ভারতের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণেও ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের জায়গা পাকিস্তান। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দিনের সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তবে কাশ্মীরসহ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতাও ভারতের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করে আসছে ভারত। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পর্যাপ্ত বোঝাপড়া ও সহানুভূতি না পাওয়া দিল্লির জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অজয় বিসারিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য এবার প্রকাশ্যে তুলে ধরার পেছনে ভারতের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি ইস্যুর পর দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশ আরও জটিল হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের কঠোর অবস্থানের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও ভূমিকা রাখছে। আগামী বছর ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভারত সরকার নতি স্বীকার করছে—বিরোধীদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগও উঠছে।


এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা নীতিতে পরিবর্তন নিয়েও ভারতে উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় দক্ষ কর্মীরা এই কর্মসূচির বড় সুবিধাভোগী। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ভিসা প্রক্রিয়া ও খরচে পরিবর্তন এসেছে।

জয়শঙ্করের ভাষ্য, একসময় কর্মীদের আন্তর্জাতিক চলাচলকে অর্থনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেখা হতো। এখন অভিবাসননীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে।

তবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়লেও দুই দেশই সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষক চিয়েটিগ বাজপেয়ির মতে, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়লেও সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়া ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হার্শ পান্ত বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নয়াদিল্লি এখন প্রকাশ্যেই নিজেদের স্বার্থের কথা তুলে ধরছে।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  ভারত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: