‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান, কর্মসংস্থানের সমাধান’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২২টি বহুজাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের সভাপতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, আবিষ্কার ও বাস্তবমুখী শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ ও কার্যকর গ্র্যাজুয়েট চায়। কিন্তু সেই চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা যাচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্যই এ আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও শিল্পভিত্তিক প্রকল্প, যৌথ গবেষণা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষক সংযুক্তি, শিল্প বিশেষজ্ঞদের বক্তৃতা, উদ্ভাবন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং গবেষণাভিত্তিক যোগাযোগ তৈরিতে সহায়তা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের ৩ কোটি ৩৩ লাখ যুবকের বড় একটি অংশ বেকার। তার দাবি, গত সরকারের সময়ে যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, দেশের ৪১ শতাংশ যুবক শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঋণখেলাপির প্রকৃত চিত্রও আগের সময়ে পরিসংখ্যানে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় ঋণখেলাপির হার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও পরিসংখ্যানে তা ১১ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। বাংলাদেশের জিডিপির অনুপাতও বিশ্বের মধ্যে কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। পুঁজি ও উদ্বৃত্ত শ্রমের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনিময়ের মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সময়ের আলো/জোই