ব্রাজিলে রোববার (৪ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। বামপন্থী লুলা চতুর্থবারের মতো, তবে টানা নয়, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়ছেন। আর ডানপন্থী ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রচার চালিয়েছেন।
প্রথম দফার এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেলে সরাসরি জয়ী হবেন। তা না হলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হবে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
৮০ বছর বয়সী লুলা সপ্তমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার এবারের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক কল্যাণ ও পরিবেশনীতি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো তার বাবা জাইর বলসোনারোর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বিরল খনিজসহ বিভিন্ন খাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবার ২৭ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে তাকে আবার রাজনীতিতে ফেরানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে ব্রাজিলে রাজনৈতিক মেরুকরণও তীব্র। বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকাংশে নীতি ও প্রস্তাবের পাশাপাশি পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। চলতি সপ্তাহে দুই প্রার্থীই চূড়ান্ত টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেননি।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলা জাইর বলসোনারোকে প্রায় ২১ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। এবার তাঁর সামনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ ও তাঁর সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দুর্নীতি কেলেঙ্কারির চাপ। অন্যদিকে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা তাঁর প্রচারে প্রভাব ফেলছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি আজ ব্রাজিলের ২৭টি রাজ্যের গভর্নর, ৫১৩ জন ফেডারেল কংগ্রেস সদস্য এবং ৮১ সদস্যের সিনেটের মধ্যে ৫৪ জনকে নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। লুলা ও ফ্লাভিওর লড়াইয়ের পাশাপাশি এসব নির্বাচনও দেশটির আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সময়ের আলো/জেডি