শরীর হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে না। অনেক সময় বড় কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার আগে শরীর ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে সতর্ক করে। ঘুমের ধরন বদলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধার পরিবর্তন, হঠাৎ ওজন কমা বা বেড়ে যাওয়া, ত্বকের পরিবর্তন কিংবা প্রস্রাবের ধরন বদলে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো তাই অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রতিটি পরিবর্তন যে রোগের লক্ষণ, তা নয়। তবে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
ঘুমের পরিবর্তন : আগের তুলনায় ঘুম কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া শরীরের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু শারীরিক সমস্যাও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ক্ষুধা ও ওজনে পরিবর্তন : হঠাৎ ক্ষুধা কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে বেশি খিদে পাওয়া নজরে রাখার মতো বিষয়। একইভাবে চেষ্টা না করেও ওজন কমে যাওয়া কিংবা অল্প সময়ে ওজন বেড়ে যাওয়াও শরীরের ভেতরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও ওজনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ত্বকেও দেখা যায় পরিবর্তন : ত্বক শরীরের ভেতরের অনেক পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটাতে পারে। অতিরিক্ত শুষ্কতা, অস্বাভাবিক চুলকানি, ত্বকের রং বা গঠনে পরিবর্তন, নতুন দাগ কিংবা ক্ষত সহজে না শুকানোর মতো বিষয় দীর্ঘস্থায়ী হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। অবশ্য এসব পরিবর্তনের পেছনে সাধারণ ত্বকের সমস্যাও থাকতে পারে।
প্রস্রাবের ধরন খেয়াল করুন : প্রস্রাবের পরিমাণ বা ঘন ঘন প্রস্রাবের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন হলে সেটিও নজরে রাখা দরকার। অতিরিক্ত তৃষ্ণার সঙ্গে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, রক্তের উপস্থিতি বা অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অকারণ ক্লান্তিও সংকেত : পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি নিয়মিত দুর্বল বা ক্লান্ত লাগে, তার কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপসহ নানা কারণে এমন হতে পারে।
শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিজের স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কোনো পরিবর্তন যদি নতুন হয়, বারবার ঘটে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, সেটি নোট করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করাই নিরাপদ। সময়মতো কারণ শনাক্ত করা গেলে অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও