সরকার নির্ধারিত দামে বাজারে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কোথাও আবার সরবরাহ না থাকার অভিযোগও রয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। এর পরদিনও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। মুন্সীগঞ্জে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ময়মনসিংহে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং কুমিল্লায় ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। রাজশাহীতে দাম ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকা।
রংপুরে ওমেরা ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৪০ এবং আইগ্যাস ১ হাজার ৮২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বরিশালেও নতুন দাম কার্যকরের আগেই ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বাড়ল আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহন ব্যয় : বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর অক্টোবরের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) বৃদ্ধির কারণে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অক্টোবরে গড় সিপি ধরা হয়েছে প্রতি টন ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার।
এ ছাড়া এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম প্রতি টন ২৫০ ডলার ধরা হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ১৬০ ডলার। এসব কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
তবে সরকারি কোম্পানির ১২ দশমিক ৫ কেজি এলপিজির দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। সরবরাহ সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বড় অংশ এই সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না।
সরবরাহ কমেছে, দাবি ব্যবসায়ীদের : এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বরের পর আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকেও সরবরাহ বন্ধ হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়েছে এবং তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই পরিবেশকদের গ্যাস দিচ্ছেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তা পরিবেশক বা খুচরা পর্যায়ে হতে পারে বলে তাদের দাবি।
সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেপ্টেম্বরের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়ে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তথ্য পর্যালোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযানেও থামছে না বাড়তি দাম : বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। মুন্সীগঞ্জ, গাইবান্ধা, বরিশাল ও সাভারের আশুলিয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।
জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। আমদানি থেকে পরিবেশক ও খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও