সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে পূর্বনির্ধারিত মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল।
আয়োজক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় কয়েকজন ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর খেলা স্থগিত করা হয়। তবে ম্যাচ আয়োজনের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে আয়োজক ও প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
জানা গেছে, রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে দিরাই পৌর এলাকার চণ্ডীপুরের বাসিন্দা মাওলানা শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের সঙ্গে দেখা করে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে মেয়েদের এনে স্টেডিয়ামে খেলা আয়োজন করা হলে ‘অশ্লীলতা’ হতে পারে।
স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে পাঁচ দিন আগেই ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। ওই আবেদনের রিসিভ কপিও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাকিব আহমেদ আরও বলেন, রোববার রাতে ইউএনও তাকে জানান, মেয়েদের খেলা নিয়ে কয়েকজন আপত্তি জানিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে খেলা আয়োজন করতে হবে। পরে সোমবার দুপুরে দিরাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির ফোন করে মাঠের আশপাশে না যেতে বললে তারা ম্যাচটি স্থগিত করতে বাধ্য হন।
ম্যাচের বিরোধিতাকারী মাওলানা শরিফ উদ্দিন নিজেকে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, মেয়েদের নিয়ে মাঠে ‘নাচানাচি’ ও ‘অশ্লীলতা’ হবে এবং বাইরে থেকে মেয়েদের এনে খেলাধুলার আয়োজনও তারা মেনে নেবেন না।
তবে আয়োজকদের দাবি, এটি ছিল একটি সাধারণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। মেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই ছিল আয়োজনের উদ্দেশ্য।
স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে। আয়োজকদের দাবি, এর আগে দেশের সাতটি জেলার মেয়েদের দল তাদের আমন্ত্রণে দিরাইয়ে খেলেছে। একইভাবে স্বপ্নচূড়ার মেয়েরাও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে খেলেছে এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, আয়োজকরাই ম্যাচটি স্থগিত করেছেন। রোববার রাতে মহিলা প্রীতি ম্যাচের বিষয়ে মাইকিং করার পর আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বাইরে থেকে মেয়েদের এনে খেলা আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানান। পরে তিনি তাদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলেছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ইউএনওর কাছে জানতে চেয়েছিলেন খেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না। ইউএনও তাকে জানিয়েছেন, কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এরপর তিনি আয়োজকদের ফোন করে খেলাটি পরে আয়োজন করতে বলেছেন।
সময়ের আলো/টিকে